অর্থাভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে সজীবের

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২০, ১৪:০৬:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

সজীব। ছবি: যুগান্তর

সপ্তাহে চার দিন দিনমজুরি ও তিন দিন কলেজে যাতায়াত করতেন সজীব। হাড়ভাঙা খাটুনির পর সন্ধ্যায় পড়তে বসে সে। প্রতিবেশীদের কোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে নানা সামাজিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখাই ছিল তার নেশা।

নিজের পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি অভাবের সংসারে হাল ধরে সজীব। ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা শেষ করে ছোটখাটো কোনো চাকরি করবে। সংসারের অভাব ঘোচাবে।

অথচ কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মুশাগাড়ি গ্রামের এইচএসসি প্রথম বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সজীব হোসেন।

জানা যায়, হরিপুর দুর্গাদাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই ছাত্রের অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় সজীব এখন বিছানা শয্যায়। অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা সাইকেল মেকানিক বাবা মজনুর রহমান না পারছেন সংসার চালাতে, না পারছেন ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে।

টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ সজীবের। ছেলের এমন করুণ অবস্থা দেখে অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েছেন মা নজেদা খাতুন।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সজীব। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে সজীবের। প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে সজীব। বর্তমানে রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছে তার। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে চোখ। ফুলে গেছে শরীর। শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে মেধাবী এ শিক্ষার্থীর।

গড়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওষুধ খেতে হয় তাকে। টাকা নেই ওষুধও কেনা হয় না। মাঝে মধ্যে ওষুধ না খেয়েই দিন পার করতে হয় সজীবকে।

গত দুই মাস আগে ধারদেনা করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম মনোয়ারুল ইসলামকে দেখায়। চিকিৎসক সজীবকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হতে বললেও শুধু চিকিৎসা খরচের ভয়ে বাড়ি ফিরে আসে সজীব। এদিকে ছেলেকে সুস্থ করতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন অসহায় বাবা-মা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সজীব হোসেন যুগান্তরকে বলে, দিনমজুরি করে পড়াশোনা করেছি। ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা শেষ করে একটা চাকরি করে সংসারের অভাব ঘোচাব। কিন্তু অসুস্থতার কারণে আমার সেই স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে না। পরিবারেরও সামর্থ্য নেই চিকিৎসা করানোর। হয়তো এভাবেই একসময় আমার জীবন প্রদীপ নিভে যাবে!

সজীবের রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, রিপোর্টে দেখা গেছে সজীব নামের ওই তরুণের দুটো কিডনি এক জায়গায় অবস্থান করছে। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যেহেতু গরিব মানুষ, তাই তার (সজীব) পরিবার কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিতে পারে।

সজীবের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে-০১৭০৬৪২৪৯৮১ (বিকাশ)।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.mail@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত