আধিপত্য বিস্তারে জেলেদের ওপর হামলা শরণখোলার ভাইস চেয়ারম্যানের
jugantor
আধিপত্য বিস্তারে জেলেদের ওপর হামলা শরণখোলার ভাইস চেয়ারম্যানের

  শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  

১০ আগস্ট ২০২০, ১৯:৫৪:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

সুন্দরবন

সুন্দরবনে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরণখোলা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ একটি মাছধরা ট্রলারে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তিনি ও তার লোকজন জেলেদের মারধর করে কিছু ইলিশ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গত রোববার বিকাল ৫টায় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের বালুর খালে এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেরা সোমবার সকালে ফিরে এসে শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আ. হক খানের পুত্র জেলে মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, তারা বন বিভাগ থেকে পারমিট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা ইলশ ধরে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের বালুর খালে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা চালান। তারা লাঠিসোটা নিয়ে জেলেদের মারপিট করে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এ সময় জেলেদের ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

মারপিটে আহত অন্য জেলেরা হচ্ছেন- উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হেমায়েত হাওলাদারের পুত্র রাসেল (২০), আনেছ হাওলাদারের পুত্র রাসেল (২২), নুর হোসেন ফরাজির পুত্র নান্টু (৪০), ছায়েব আলী মল্লিকের পুত্র নুর ইসলাম (৫০) ও দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র আনোয়ার (৪০)।

আহত জেলেরা জানান, ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজের দাবি বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা তার দখলে। ওই স্থানগুলোতে মাছ ধরা বা আবস্থান করলে তার অনুমতি লাগবে। ২৫ হাজার টাকা দিয়ে তার অনুমতি না নিয়ে ওই স্থানে অবস্থান করায় তিনি জেলেদের ওপর হামলা করেন।

জেলেরা জানান, এ সময় ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিল উপজেলার বকুলতলা গ্রামের সাবেক বনদস্যু আলম হাওলাদার (৪৫), সাবেক বনদস্যু বাহিনীর প্রধান ছাত্তারের ছোট ভাই নাছির হাওলাদার (৪০), একাধিক মাদক মামলার আসামি জাহিদ (৪৩), সোনাতলা গ্রামের আ. মালেক হাওলাদারের পুত্র হত্যা মামলার আসামি জাকির (৪২)। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সোনাতলা গ্রামের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, তাদের গ্রামের মামুনসহ বেশ কিছু জেলে প্রায় ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় মাছ ধরে আসছে। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান তার আধিপত্য বিস্তার করতে জেলেদের মারপিট করে চরম অন্যায় করেছেন।

সুন্দরবনের মাছ ব্যবসায়ী এমাদুল শরিফ, খলিলুর রহমান মৃধা, জাহাঙ্গীর হোসেন হিরু, রহিম হাওলাদার ও শাহআলম সুন্দরবনে ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ লোকজন নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা ও মাছ লুট করে নেয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেন।

সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে আশ্রয় নেয়া জেলেদের মারপিট করেন।

বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ইলিশের পারমিট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কিছু জেলেদের ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ মারপিট করেছে বলে তাকে জানিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান কীভাবে সেখানে গেল তা খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, মৌখিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত জেলেদের সাথে কথা বলে ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন। এখন লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আধিপত্য বিস্তারে জেলেদের ওপর হামলা শরণখোলার ভাইস চেয়ারম্যানের

 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
১০ আগস্ট ২০২০, ০৭:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সুন্দরবন
সুন্দরবনে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরণখোলা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ একটি মাছধরা ট্রলারে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুগান্তর

সুন্দরবনে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরণখোলা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ একটি মাছধরা ট্রলারে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তিনি ও তার লোকজন জেলেদের মারধর করে কিছু ইলিশ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গত রোববার বিকাল ৫টায় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের বালুর খালে এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেরা সোমবার সকালে ফিরে এসে শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আ. হক খানের পুত্র জেলে মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, তারা বন বিভাগ থেকে পারমিট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা ইলশ ধরে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের বালুর খালে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা চালান। তারা লাঠিসোটা নিয়ে জেলেদের মারপিট করে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এ সময় জেলেদের ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

মারপিটে আহত অন্য জেলেরা হচ্ছেন- উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হেমায়েত হাওলাদারের পুত্র রাসেল (২০), আনেছ হাওলাদারের পুত্র রাসেল (২২), নুর হোসেন ফরাজির পুত্র নান্টু (৪০), ছায়েব আলী মল্লিকের পুত্র নুর ইসলাম (৫০) ও দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র আনোয়ার (৪০)।

 

আহত জেলেরা জানান, ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজের দাবি বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা তার দখলে। ওই স্থানগুলোতে মাছ ধরা বা আবস্থান করলে তার অনুমতি লাগবে। ২৫ হাজার টাকা দিয়ে তার অনুমতি না নিয়ে ওই স্থানে অবস্থান করায় তিনি জেলেদের ওপর হামলা করেন।

 

জেলেরা জানান, এ সময় ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিল উপজেলার বকুলতলা গ্রামের সাবেক বনদস্যু আলম হাওলাদার (৪৫), সাবেক বনদস্যু বাহিনীর প্রধান ছাত্তারের ছোট ভাই নাছির হাওলাদার (৪০), একাধিক মাদক মামলার আসামি জাহিদ (৪৩), সোনাতলা গ্রামের আ. মালেক হাওলাদারের পুত্র হত্যা মামলার আসামি জাকির (৪২)। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

 

সংশ্লিষ্ট সোনাতলা গ্রামের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, তাদের গ্রামের মামুনসহ বেশ কিছু জেলে প্রায় ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় মাছ ধরে আসছে। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান তার আধিপত্য বিস্তার করতে জেলেদের মারপিট করে চরম অন্যায় করেছেন।

 

সুন্দরবনের মাছ ব্যবসায়ী এমাদুল শরিফ, খলিলুর রহমান মৃধা, জাহাঙ্গীর হোসেন হিরু, রহিম হাওলাদার ও শাহআলম সুন্দরবনে ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ লোকজন নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা ও মাছ লুট করে নেয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেন।

 

সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে আশ্রয় নেয়া জেলেদের মারপিট করেন।

 

বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ইলিশের পারমিট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কিছু জেলেদের ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ মারপিট করেছে বলে তাকে জানিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান কীভাবে সেখানে গেল তা খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, মৌখিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত জেলেদের সাথে কথা বলে ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন। এখন লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন