খুলনায় করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ আগস্ট ২০২০, ২২:১১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারীতে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

অসহায় ও গরিব মানুষের স্বাস্থ্য-সুরক্ষার জন্য বিনামূল্যে এক লাখ মাস্ক বিতরণ করেছে খুলনা জেলা প্রশাসন। এছাড়াও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে ইমার্জেন্সি অ্যাওয়ারনেস সেল গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও শিক্ষক, ছাত্র ও বাড়ির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বাসা ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসার আলেম ও শিক্ষকদের নিয়ে কমিউনিটি বেইজড জনসচেতনতার জন্য তদারকি টিম গঠন করা হয়। এমন ধরনের ৬৩টি উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, করোনার সম্মুখ যোদ্ধাদের জন্য আমরা আলাদা আবাসস্থল ও যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। এছাড়াও করোনাভাইরাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটরের পরিবর্তে ফ্লু ন্যাসাল ক্যানুলা স্থাপন,তরল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও খুলনায় ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতের জন্য জেলা পরিবহন পুল থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষার জন্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল ব্যবস্থা, সাধারণ রোগীদের জন্য আলাদা ফ্লু কর্ণারের ব্যবস্থা করা, করোনা রোগীদের ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস প্রদানে অ্যাপস ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ, টেলিমেডিসিন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীদের দোরগোড়ায় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া ব্যবস্থা গ্রহণ, অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা ঘরে ঘরে ঔষধ ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খুলনায় জেলা/মহানগরী/উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের ডাটাবেজ তৈরিপূর্বক গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রয়োজনমাফিক ডোর টু ডোর (DTD) খাদ্য সহায়তা ও

নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে অ্যাপস, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করে কৃষিপণ্য ও প্রাণিজপণ্য কৃষকদের নিকট থেকে ক্রয় করে জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়াও জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি অবহিতকরণের জন্য মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রচারণার ব্যবস্থা, করোনাকালে বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং জোরদারকরণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নায্যমূল্যে সরবরাহের জন্য টাস্ক ফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও মিডিয়াকর্মীদের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও খামারীদের উৎপাদিত পণ্য, দুধ, ডিম, মাংস ইত্যাদির সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে ক্রেতা সাধারণের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য ধর্মভিত্তিক মহানগর ও উপজেলা ইমার্জেন্সি দাফন কমিটি গঠন ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত