কাভার্ডভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ ‘গ্যাস বাণিজ্য’
jugantor
কাভার্ডভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ ‘গ্যাস বাণিজ্য’

  আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ  

১২ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩৯:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

গ্যাস
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ সিনএজি স্টেশন। যুগান্তর

কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ সিনএজি স্টেশন। এসব স্টেশনে কাভার্ডভ্যানের ভেতরে বিশেষভাবে স্থাপিত সিলিন্ডার থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে। এসব স্টেশনে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে গ্যাস। এছাড়াও কোনরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব স্টেশনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

 

অতিরিক্ত লাভের আশায় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে, অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক বছরে কেরানীগঞ্জে এরকম ৫টি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও অন্তত ১০টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে, যেগুলোর কাপজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নবায়ন করা হয়নি।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে জিনজিরা বাদামগাছ তলায় ১০ শতাংশ জায়গা ভাড়া নিয়ে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন। এই স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে ৫২ টাকা দরে।

 

মদিনানগর এলাকায় রয়েছে মোবাইল সিএনজি স্টেশন। এর মালিক হলেন ইমাম কাজী। রুহিতপুর বিসিক শিল্পনগরী পাশে গড়ে উঠেছে লাখিরচর অটোগ্যাস নামে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন। এটির মালিক টিমাসফো নামে এক ব্যক্তি।

 

এছাড়াও তারানগর ইউনিয়নের ভাওয়াল সড়কের পাশে পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ স্টেশন গড়ে উঠেছে। এসব স্টেশনের কোনো নাম না থাকলেও দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, দুটি স্টেশনের নামই ভাওয়াল পাম্প। মালিক মো. নাজমুল ও ববি। এর মধ্যে একটি স্টেশন অন্যত্র ছিল। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে সেখান থেকে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

 

তারানগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থায় যেভাবে এসব স্টেশনে কাভার্ডভ্যান থেকে সরাসরি গ্যাস বিভিন্ন যানবাহনে সরবরাহ করা হয় তাতে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। আমার ইউনিয়নে স্থাপিত দুটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন বন্ধ করার জন্য মালিকদের বলা হয়েছে। কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা তারানগরের দুটি সিএনজি স্টেশন ও রুহিতপুরের একটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন ৬ মাস আগে বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। বন্ধ করার পাশাপাশি তারানগরের দুটি স্টেশনকে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই সিএনজি স্টেশন দুটি চালু হয়ে যায়। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমনকি অবৈধ এসব সিএনজি স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উকিল নোটিশ দিয়ে হয়রানি করেন সিএনজি স্টেশন দুটির মালিক।

 

জানা গেছে, একটি কাভার্ডভ্যানে শতাধিক সিলিন্ডার যুক্ত করে গোপনে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস মজুদ করে এনে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ স্টেশনে বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সরকার নির্ধারিত দাম ৪৪ টাকা। সেখানে এসব অবৈধ স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা দরে।

 

কোনাখোলা হযরতপুর রুটের সিএনজিচালক মহিউদ্দিন জানান, বেশি দাম দিয়েই তারা এসব গ্যাস কিনছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্যাস নিতে হলে তাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যেতে হয়। অনেক সময় সেখানে প্রচুর ভিড় থাকে। এসব কারণে তারা বেশি দাম দিয়েই এসব স্টেশন থেকে গ্যাস কিনেন।

 

অবৈধ এসব ভ্রাম্যমাণ সিএনজি সম্পর্কে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিস্ফোরক অধিদফতরের পরিদর্শক মনিরা আক্তার বলেন, খুব ঝামেলার মধ্যে আছি। পরে ফোন দেন। কিন্তু পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, কেরানীগঞ্জে অবৈধভাবে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে এসব স্টেশনে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এসব স্টেশনে নেই কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিত্বে তিনটি স্টেশন বন্ধ এবং দুটি স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তারা পুনরায় স্টেশনগুলো চালু করেছে বলে শুনেছি। তিনি আরও বলেন, এসব অবৈধ স্টেশন বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, বিস্ফোরক অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসব স্টেশনে যেহেতু বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি থাকে এজন্য এক্সপার্ট ছাড়া সেখানে অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসনের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়।

কাভার্ডভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ ‘গ্যাস বাণিজ্য’

 আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ 
১২ আগস্ট ২০২০, ০৭:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গ্যাস
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ সিনএজি স্টেশন। যুগান্তর

কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ সিনএজি স্টেশন। এসব স্টেশনে কাভার্ডভ্যানের ভেতরে বিশেষভাবে স্থাপিত সিলিন্ডার থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে। এসব স্টেশনে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে গ্যাস। এছাড়াও কোনরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব স্টেশনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

অতিরিক্ত লাভের আশায় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে, অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক বছরে কেরানীগঞ্জে এরকম ৫টি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও অন্তত ১০টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে, যেগুলোর কাপজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নবায়ন করা হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে জিনজিরা বাদামগাছ তলায় ১০ শতাংশ জায়গা ভাড়া নিয়ে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন। এই স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে ৫২ টাকা দরে।

মদিনানগর এলাকায় রয়েছে মোবাইল সিএনজি স্টেশন। এর মালিক হলেন ইমাম কাজী। রুহিতপুর বিসিক শিল্পনগরী পাশে গড়ে উঠেছে লাখিরচর অটোগ্যাস নামে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন। এটির মালিক টিমাসফো নামে এক ব্যক্তি।

এছাড়াও তারানগর ইউনিয়নের ভাওয়াল সড়কের পাশে পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ স্টেশন গড়ে উঠেছে। এসব স্টেশনের কোনো নাম না থাকলেও দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, দুটি স্টেশনের নামই ভাওয়াল পাম্প। মালিক মো. নাজমুল ও ববি। এর মধ্যে একটি স্টেশন অন্যত্র ছিল। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে সেখান থেকে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

তারানগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থায় যেভাবে এসব স্টেশনে কাভার্ডভ্যান থেকে সরাসরি গ্যাস বিভিন্ন যানবাহনে সরবরাহ করা হয় তাতে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। আমার ইউনিয়নে স্থাপিত দুটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন বন্ধ করার জন্য মালিকদের বলা হয়েছে। কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা তারানগরের দুটি সিএনজি স্টেশন ও রুহিতপুরের একটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন ৬ মাস আগে বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। বন্ধ করার পাশাপাশি তারানগরের দুটি স্টেশনকে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই সিএনজি স্টেশন দুটি চালু হয়ে যায়। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমনকি অবৈধ এসব সিএনজি স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উকিল নোটিশ দিয়ে হয়রানি করেন সিএনজি স্টেশন দুটির মালিক।

জানা গেছে, একটি কাভার্ডভ্যানে শতাধিক সিলিন্ডার যুক্ত করে গোপনে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস মজুদ করে এনে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ স্টেশনে বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সরকার নির্ধারিত দাম ৪৪ টাকা। সেখানে এসব অবৈধ স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা দরে।

কোনাখোলা হযরতপুর রুটের সিএনজিচালক মহিউদ্দিন জানান, বেশি দাম দিয়েই তারা এসব গ্যাস কিনছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্যাস নিতে হলে তাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যেতে হয়। অনেক সময় সেখানে প্রচুর ভিড় থাকে। এসব কারণে তারা বেশি দাম দিয়েই এসব স্টেশন থেকে গ্যাস কিনেন।

অবৈধ এসব ভ্রাম্যমাণ সিএনজি সম্পর্কে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিস্ফোরক অধিদফতরের পরিদর্শক মনিরা আক্তার বলেন, খুব ঝামেলার মধ্যে আছি। পরে ফোন দেন। কিন্তু পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, কেরানীগঞ্জে অবৈধভাবে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে এসব স্টেশনে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এসব স্টেশনে নেই কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিত্বে তিনটি স্টেশন বন্ধ এবং দুটি স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তারা পুনরায় স্টেশনগুলো চালু করেছে বলে শুনেছি। তিনি আরও বলেন, এসব অবৈধ স্টেশন বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, বিস্ফোরক অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসব স্টেশনে যেহেতু বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি থাকে এজন্য এক্সপার্ট ছাড়া সেখানে অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসনের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়।