৪৮ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি ৩৪ পুলিশ সদস্য!
jugantor
৪৮ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি ৩৪ পুলিশ সদস্য!

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো  

১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৯:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

৪৮ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি ৩৪ পুলিশ সদস্য!
ছবি: যুগান্তর

খুলনা বিভাগে দায়িত্বরত অবস্থায় প্রায় প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন একাধিক পুলিশ সদস্য। গেল রমজানের ঈদের পর আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ার পর কিছুটা কমলেও সম্প্রতি আবারও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন বুধবার দুপুরে নগরীর সদর থানা এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৩৪ করোনা পজিটিভ পুলিশ সদস্য। যার মধ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশেরই (কেএমপি) রয়েছে ৩১ জন।

হাসপাতালের নিচের তলার পুরো ভবনটিতেই সেবা দেয়া হচ্ছে করোনা পজিটিভ পুলিশ সদস্যদের। প্রস্তুত রয়েছে করোনা ইউনিটের জন্য ৪৮টি বেড। রোগীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটারসহ সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য ৬৮ সদস্যের একটি টিম কাজ করছে।

বিগত তিন মাসে বিভাগীয় হাসপাতালে ১৯টি ইউনিটের ৪৪০ করোনা পজিটিভ রোগী এখান থেকে সেবা নিয়েছেন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৭৩ জন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন ২৩৩ জন।

হাসপাতালে করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি হয়েছেন কেএমপির ২১৯ জন, জেলা পুলিশের ৪২, আরআরএফের চার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ৩২, এপিবিএনের ৩৬, পিটিসির ৬১, ট্যুরিস্ট পুলিশ আট, র্যা বের এক, সিআইডির এক, পিবিআইয়ের এক, নৌপুলিশ পাঁচ, রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের এক, সিভিল স্টাফ ১৬, সংযুক্ত আনসার সদস্য চার, নড়াইল জেলার এক, জিআরপির এক, টেলিকম ঢাকার (সংযুক্ত কেএমপি) চার, এসবি প্রেষণের এক এবং হাইওয়ে বাগেরহাটের একজন।

এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে থেমে নেই হাসপাতালের আউটডোর সেবা।
হাসপাতালের ইএমও ডা. সৈয়দ একেএমএন করিম যুগান্তরকে বলেন, আজ প্রায় ২০০ রোগীকে আউটডোর সেবা দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালে হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য ও পরিবারদের আউটডোর সেবা দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে মার্চ মাস থেকে আউটডোর সেবা কিছুটা কমে গেলেও বতর্মানে রোগী বেড়েছে।

বিভাগীয় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সহিদ হোসেন মো. নূর আফজাল যুগান্তরকে জানান, গত জুন মাস থেকেই হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য করোনা ইউনিট করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৮টি বেড রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ সামগ্রীসহ ৬৮ জনের টিম করোনা ইউনিটকে সাপোর্ট দিচ্ছে।

হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে কেউ মারা যাননি। তবে খুলনা রেঞ্জ অফিসের একজন এসপিকে এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের প্রতিদিন ৫ বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুধ, ডিম, মাংস, মাছসহ রয়েছে ভিটামিনযুক্ত ফলমূল।

কেএমপির পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির যুগান্তরকে বলেন, করোনা মোকাবেলায় পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। যার কারণে ঝুঁকিও বেশি। করোনা পরিস্থিতি প্রতিরোধের জন্য তিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

প্রতিরোধ, চিকিৎসাব্যবস্থা ও পরিচালনা। হাত ধোয়া, মাস্ক, স্যানেটাইজারের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের খাবার এবং শারীরিক ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের জন্য বিভাগীয় হাসপাতালে করোনা ইউনিট তৈরি করেছি। যেখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমি সার্বক্ষণিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখাভাল করছি।

তিনি আরও বলেন, অ্যাডিশনাল কমিশনার, এসপি, এএসপি, এসি, ওসি, এসআই, এএসআই, কনস্টেবল সব ধরনের সদস্যই করোনা পজিটিভ হয়েছে। তবে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে গেছেন।

৪৮ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি ৩৪ পুলিশ সদস্য!

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
৪৮ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি ৩৪ পুলিশ সদস্য!
ছবি: যুগান্তর

খুলনা বিভাগে দায়িত্বরত অবস্থায় প্রায় প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন একাধিক পুলিশ সদস্য। গেল রমজানের ঈদের পর আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ার পর কিছুটা কমলেও সম্প্রতি আবারও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন বুধবার দুপুরে নগরীর সদর থানা এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৩৪ করোনা পজিটিভ পুলিশ সদস্য। যার মধ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশেরই (কেএমপি) রয়েছে ৩১ জন।

হাসপাতালের নিচের তলার পুরো ভবনটিতেই সেবা দেয়া হচ্ছে করোনা পজিটিভ পুলিশ সদস্যদের। প্রস্তুত রয়েছে করোনা ইউনিটের জন্য ৪৮টি বেড। রোগীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটারসহ সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য ৬৮ সদস্যের একটি টিম কাজ করছে।

বিগত তিন মাসে বিভাগীয় হাসপাতালে ১৯টি ইউনিটের ৪৪০ করোনা পজিটিভ রোগী এখান থেকে সেবা নিয়েছেন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৭৩ জন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন ২৩৩ জন।

হাসপাতালে করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি হয়েছেন কেএমপির ২১৯ জন, জেলা পুলিশের ৪২, আরআরএফের চার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ৩২, এপিবিএনের ৩৬, পিটিসির ৬১, ট্যুরিস্ট পুলিশ আট, র্যা বের এক, সিআইডির এক, পিবিআইয়ের এক, নৌপুলিশ পাঁচ, রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের এক, সিভিল স্টাফ ১৬, সংযুক্ত আনসার সদস্য চার, নড়াইল জেলার এক, জিআরপির এক, টেলিকম ঢাকার (সংযুক্ত কেএমপি) চার, এসবি প্রেষণের এক এবং হাইওয়ে বাগেরহাটের একজন।

এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে থেমে নেই হাসপাতালের আউটডোর সেবা।
হাসপাতালের ইএমও ডা. সৈয়দ একেএমএন করিম যুগান্তরকে বলেন, আজ প্রায় ২০০ রোগীকে আউটডোর সেবা দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালে হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য ও পরিবারদের আউটডোর সেবা দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে মার্চ মাস থেকে আউটডোর সেবা কিছুটা কমে গেলেও বতর্মানে রোগী বেড়েছে।

বিভাগীয় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সহিদ হোসেন মো. নূর আফজাল যুগান্তরকে জানান, গত জুন মাস থেকেই হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য করোনা ইউনিট করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৮টি বেড রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ সামগ্রীসহ ৬৮ জনের টিম করোনা ইউনিটকে সাপোর্ট দিচ্ছে।

হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে কেউ মারা যাননি। তবে খুলনা রেঞ্জ অফিসের একজন এসপিকে এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের প্রতিদিন ৫ বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুধ, ডিম, মাংস, মাছসহ রয়েছে ভিটামিনযুক্ত ফলমূল।

কেএমপির পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির যুগান্তরকে বলেন, করোনা মোকাবেলায় পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। যার কারণে ঝুঁকিও বেশি। করোনা পরিস্থিতি প্রতিরোধের জন্য তিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

প্রতিরোধ, চিকিৎসাব্যবস্থা ও পরিচালনা। হাত ধোয়া, মাস্ক, স্যানেটাইজারের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের খাবার এবং শারীরিক ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের জন্য বিভাগীয় হাসপাতালে করোনা ইউনিট তৈরি করেছি। যেখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমি সার্বক্ষণিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখাভাল করছি।

তিনি আরও বলেন, অ্যাডিশনাল কমিশনার, এসপি, এএসপি, এসি, ওসি, এসআই, এএসআই, কনস্টেবল সব ধরনের সদস্যই করোনা পজিটিভ হয়েছে। তবে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে গেছেন।