সরকারি কর্মকর্তার গ্রাসে প্রবাসীর জমি

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২০, ২০:৪০:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

ব্রাম্মনবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামে এক সরকারি কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক ইতালি প্রবাসীর জায়গা-জমি গ্রাস করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরিত্রাণ চেয়ে প্রবাসী তাজুল ইসলাম ইতালির বাংলাদেশি দূতাবাসে লিখিত আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের অনুলিপি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ছদর উদ্দিন মানিকের প্রভাবে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম।

এছাড়া প্রবাসীর জায়গায় লাগানো লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে কাস্টমস বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মানিক ও তার মা-বাবাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মানিক বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আছেন।

দূতাবাসে করা আবেদনে বলা হয়, প্রবাসী তাজুলের বড় ভাই আবু শামীমের ছেলে মানিক ও তার পরিবারের অন্যরা মিলে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে তাজুলের পাওয়া বাড়িসংলগ্ন ১১ শতাংশ জমি ও ২৪ শতাংশের একটি পুকুরের জায়গা গ্রাস করে নিয়েছেন।

প্রবাসী তাজুল জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি প্রবাসে অবস্থান করছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও প্রবাসে আছেন। এর ফলে বাড়িসংলগ্ন ১১ শতাংশ জায়গাসহ ২৪ শতাংশের একটি পুকুর মৃত তন্জব আলীর ছেলে দুলাল মিয়ার কাছে লিজ দেন। কিন্তু লিজ দেওয়া ওই জায়গাগুলো ছদর উদ্দিন মানিক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে গ্রাস করে নিয়েছেন। তারা লিজের মালিককে গাছ ও মাছ ভোগ করতে দিচ্ছে না।

লিজ গ্রহীতা দুলাল মিয়া জানান, পাঁচ বছরের জন্য পুকুর ও তিন বছরের জন্য বাড়ি সংলগ্ন জায়গা লিজ নেন তিনি। এর মধ্যে পুকুরে চাষ করা মাছগুলো বিষ ঢেলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন মানিক ও তার পরিবারের লোকজন। জমিতে লাগানো গাছগুলোও কেটে নিয়েছেন তারা।

গেল ৩ এপ্রিল গামারি ও মেহগনিসহ লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোনো বিচার না পেয়ে ২০ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুলাল। তবে মামলা দায়েরের প্রায় এক মাস হতে চললেও অভিযুক্তরা আইনের আওতায় না আসায় ক্ষোভ জানিয়েছেন দুলাল।

দুলালের মতো প্রবাসী তাজুলের মালিকানাধীন ৪১ শতাংশ আয়তনের আরেকটি জমি লিজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার গোকর্ণ গ্রামের হাজী গণি মিয়ার ছেলে আরস মিয়া। লিজের জায়গায় আরসের অনুমতি ছাড়াই দোকান দিয়েছেন তাজুলের বড় ভাই আবু তাহের।

লিজ গ্রহীতা আরস মিয়া বলেন, আমার লিজ নেয়া ৪১ শতাংশ জায়গায় একটি স্কুল রয়েছে। স্কুল কমিটি আমাকে ভাড়াও দিচ্ছে। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই তাজুলের বড় ভাই আবু তাহের জোর করে স্কুলের পাশে দোকান বসিয়েছেন। দোকান সরিয়ে নিতে বললে আমাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আমি মামলাও করেছি। সবকিছুই হচ্ছে মানিকের প্রভাবে।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছদর উদ্দিন মানিক তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, মামলার নথিপত্র দেখে ও তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বলা যাবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত