অগ্নিদগ্ধ ছালেহার বাঁচার আকুতি
jugantor
অগ্নিদগ্ধ ছালেহার বাঁচার আকুতি

  যশোর ব্যুরো  

১৩ আগস্ট ২০২০, ২০:৫২:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোর
সালেহা

শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে যাওয়ার পরেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না গৃহপরিচারিকা ছালেহা বেগম (৩০)। অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ঝিকরগাছা মল্লিকপুর রেললাইনের ধারে বস্তিতে। জরুরিভিত্তিতে তার চিকিৎসা না হলে বাঁচবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার পুরো চিকিৎসার জন্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকার প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ছালেহা বেগমের পরিবার।

ছালেহা বেগম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তার কোনো পৈতৃক বসতবাড়ি নেই। রেললাইনের সরকারি খাসজমিতে গড়া উঠা বস্তিতেই তার বসবাস। স্বামী আর দুই সন্তান নিয়েই ছিল তাদের ছোট্ট সংসার। কিন্তু ৪ বছর আগে স্বামী মনিরুল ইসলাম কাউকে না বলে বাড়ি থেকে চলে যান। এখনও বেঁচে আছেন না মরে গেছেন তা জানেন না পরিবারের কেউ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পরে ১১ বছরের এক ছেলে ও ৯ বছরের মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পরের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।

ছালেহা বেগমের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ছালেহা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজও করেছেন। দুই সন্তান নিয়েই তার সুখের সংসার ছিল। গত ৭ আগস্ট দুপুরে গৃহপরিচারিকার কাজ সেরে প্রতিবেশীর কাছ থেকে চেয়ে আনা রাইচ কুকারে বুটের ডাল সিদ্ধ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ রাইচ কুকারটি বিস্ফোরণ হয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায়। এ সময় তার দুই সন্তান বেঁচে গেলেও তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রথমে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখান থেকে রেফার্ড করা হয় বঙ্গবন্ধু বার্ন ইউনিটে। কিন্তু অর্থের অভাবে সেখানে চিকিৎসা নিতে পারেননি। মল্লিকপুর রেললাইনের বস্তিতেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ছালেহা বেগম।

তিনি আরও বলেন, তার শরীরের ৬০ ভাগই পুড়ে গেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজের বার্ন বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ ও স্বাভাবিক হতে ছালেহার স্কিনসার্জারি করাতে হবে। এজন্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার প্রয়োজন। পরিবারের সামর্থ্য নেই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছালেহা বেগমের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার।

অগ্নিদগ্ধ ছালেহার বাঁচার আকুতি

 যশোর ব্যুরো 
১৩ আগস্ট ২০২০, ০৮:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যশোর
সালেহা

শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে যাওয়ার পরেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না গৃহপরিচারিকা ছালেহা বেগম (৩০)। অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ঝিকরগাছা মল্লিকপুর রেললাইনের ধারে বস্তিতে। জরুরিভিত্তিতে তার চিকিৎসা না হলে বাঁচবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার পুরো চিকিৎসার জন্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকার প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ছালেহা বেগমের পরিবার।

ছালেহা বেগম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তার কোনো পৈতৃক বসতবাড়ি নেই। রেললাইনের সরকারি খাসজমিতে গড়া উঠা বস্তিতেই তার বসবাস। স্বামী আর দুই সন্তান নিয়েই ছিল তাদের ছোট্ট সংসার। কিন্তু ৪ বছর আগে স্বামী মনিরুল ইসলাম কাউকে না বলে বাড়ি থেকে চলে যান। এখনও বেঁচে আছেন না মরে গেছেন তা জানেন না পরিবারের কেউ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পরে ১১ বছরের এক ছেলে ও ৯ বছরের মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পরের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।

ছালেহা বেগমের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ছালেহা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজও করেছেন। দুই সন্তান নিয়েই তার সুখের সংসার ছিল। গত ৭ আগস্ট দুপুরে গৃহপরিচারিকার কাজ সেরে প্রতিবেশীর কাছ থেকে চেয়ে আনা রাইচ কুকারে বুটের ডাল সিদ্ধ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ রাইচ কুকারটি বিস্ফোরণ হয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায়। এ সময় তার দুই সন্তান বেঁচে গেলেও তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রথমে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখান থেকে রেফার্ড করা হয় বঙ্গবন্ধু বার্ন ইউনিটে। কিন্তু অর্থের অভাবে সেখানে চিকিৎসা নিতে পারেননি। মল্লিকপুর রেললাইনের বস্তিতেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ছালেহা বেগম।

তিনি আরও বলেন, তার শরীরের ৬০ ভাগই পুড়ে গেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজের বার্ন বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ ও স্বাভাবিক হতে ছালেহার স্কিনসার্জারি করাতে হবে। এজন্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার প্রয়োজন। পরিবারের সামর্থ্য নেই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছালেহা বেগমের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন