ফরিদপুরে শোকুনিয়া বিল প্রভাবশালীদের দখলে
jugantor
ফরিদপুরে শোকুনিয়া বিল প্রভাবশালীদের দখলে

  ফরিদপুর ব্যুরো  

১৩ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৯:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মাঝে অবস্থিত ‘বিল শোকুনিয়া’। প্রায় এক যুগ ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিলটি জবরদখল করে ভোগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

যদিও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারিভাবে ইজারা না দেয়া পর্যন্ত ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে স্থানীয়রাই ভোগ করবেন বিল।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রকৃত মৎস্যজীবীদের দেয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ঘোড়াদাহ হালট থেকে প্রতাপপুর হালট পর্যন্ত ১৬ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা জমিসহ আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্তত পঞ্চাশ একর জমির জলা রয়েছে। এসব জলাভূমি ১১ থেকে ১২ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজ্জাক মোল্লা, মনির মোল্লা, রহমাতুল্লাহ ফকির ও রহমান সরদার গংরা দখলে নিয়ে ভোগ করছেন। তারা ওই বিলে কাউকে মাছ শিকার করতে দেন না, কেউ মাছ ধরতে গেলে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।
 
অভিযোগকারী বাচ্চু সরদার, আছাদ মোল্লাসহ স্থানীয়রা জানান, দখলকারীরা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে দখল করে রাখায় কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না। তারা জানান, মঙ্গলকোর্ট, ঘোড়াদহ, বিলনালিয়া, বিলশোকুনিয়াসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ এ বিল থেকে মৎস্য আহরণ করে আমিষের চাহিদা মেটাতেন। এছাড়া আশপাশের কয়েক গ্রামের শতাধিক জেলে পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত।

তাদের দাবি, মাছ ধরতে না পারায় এসব পরিবার অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। তারা অবিলম্বে এ জলাশয় উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান।
 
এদিকে দখলকারীদের একজন রহমান সরদার বিল শোকুনিয়া ভোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিলের আশপাশের চারটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে দেখা গেছে ওই জলাশয়ের অধিকাংশই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বিলটি ইজারা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি জানান, যেহেতু এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়নি, তাই এই জলাভূমি ‘জাল যার জলা তার’ নীতিতে বিল ও খালপাড়ের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ সেখানে বাধার সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদপুরে শোকুনিয়া বিল প্রভাবশালীদের দখলে

 ফরিদপুর ব্যুরো 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১০:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মাঝে অবস্থিত ‘বিল শোকুনিয়া’। প্রায় এক যুগ ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিলটি জবরদখল করে ভোগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

যদিও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারিভাবে ইজারা না দেয়া পর্যন্ত ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে স্থানীয়রাই ভোগ করবেন বিল।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রকৃত মৎস্যজীবীদের দেয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ঘোড়াদাহ হালট থেকে প্রতাপপুর হালট পর্যন্ত ১৬ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা জমিসহ আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্তত পঞ্চাশ একর জমির জলা রয়েছে। এসব জলাভূমি ১১ থেকে ১২ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজ্জাক মোল্লা, মনির মোল্লা, রহমাতুল্লাহ ফকির ও রহমান সরদার গংরা দখলে নিয়ে ভোগ করছেন। তারা ওই বিলে কাউকে মাছ শিকার করতে দেন না, কেউ মাছ ধরতে গেলে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।

অভিযোগকারী বাচ্চু সরদার, আছাদ মোল্লাসহ স্থানীয়রা জানান, দখলকারীরা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে দখল করে রাখায় কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না। তারা জানান, মঙ্গলকোর্ট, ঘোড়াদহ, বিলনালিয়া, বিলশোকুনিয়াসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ এ বিল থেকে মৎস্য আহরণ করে আমিষের চাহিদা মেটাতেন। এছাড়া আশপাশের কয়েক গ্রামের শতাধিক জেলে পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত।

তাদের দাবি, মাছ ধরতে না পারায় এসব পরিবার অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। তারা অবিলম্বে এ জলাশয় উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান।

এদিকে দখলকারীদের একজন রহমান সরদার বিল শোকুনিয়া ভোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিলের আশপাশের চারটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে দেখা গেছে ওই জলাশয়ের অধিকাংশই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বিলটি ইজারা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি জানান, যেহেতু এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়নি, তাই এই জলাভূমি ‘জাল যার জলা তার’ নীতিতে বিল ও খালপাড়ের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ সেখানে বাধার সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন