কুড়িগ্রামে সড়কে নিহত একই পরিবারের ৩ জনের বাড়িতে মাতম
jugantor
কুড়িগ্রামে সড়কে নিহত একই পরিবারের ৩ জনের বাড়িতে মাতম

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

১৩ আগস্ট ২০২০, ২৩:২১:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় সমাজসেবা অফিসের প্রশিক্ষকের পরিবারের ৩ জনসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃহস্পতিবার বিকালে লাশগুলো উলিপুরস্থ বাসভবনে পৌঁছলে হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

লাশ একনজর দেখতে ছুটে আসেন এলাকার শত-শত নারী পুরুষ। এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

নিহতদের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী জেলার সমাজসেবা অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক (পোল্ট্রি অ্যান্ড গার্ডেনিং) ট্রেড এ কর্মরত মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ প্রাইভেটকারযোগে উলিপুরস্থ বাড়িতে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের আরডিআরএস বাজার সংলগ্ন কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে চিলমারী থেকে সাতক্ষীরাগামী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে ওই প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক নরসিংদী জেলার মনোহরদী পৌরসভার চক মাধবদী গ্রামের সায়েদ আলীর পুত্র সোহেল মিয়া (৩৫) নিহত হন।

এ সময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় কারের যাত্রী মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন (৫৭), স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪৫), ছেলে বেলাল হোসেন বায়জিদকে (১৫) কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন মেয়ে আশামনি (৭) ও ড্রাইভারের সহযোগী ওয়াসিম (১৪)। পরে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই ওয়াসিমের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম।

এদিকে ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত শিশু আশামনি আশংকামুক্ত নন বলে তার চাচাতো ভাই মারুফ হোসেন জানিয়েছেন।

নিহত মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মাস্টারপাড়া গ্রামের আমান উল্লা শেখের পুত্র।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময় ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসা হয়নি মজিবর রহমানের। তিনি ছুটি পেয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতের বাড়িতে গেলে এলাকার অনেকেই জানান, মজিবর রহমান একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তিনি মসজিদ, হাফেজি মাদ্রাসা, কবরস্থান, এলাকার কাঁচা রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্নভাবে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছিলেন। পরিবারসহ তার এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাবাসী শোকাহত হয়ে পড়েছেন।

নিহত তিনজনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরকার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

কুড়িগ্রামে সড়কে নিহত একই পরিবারের ৩ জনের বাড়িতে মাতম

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১১:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় সমাজসেবা অফিসের প্রশিক্ষকের পরিবারের ৩ জনসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃহস্পতিবার বিকালে লাশগুলো উলিপুরস্থ বাসভবনে পৌঁছলে হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

লাশ একনজর দেখতে ছুটে আসেন এলাকার শত-শত নারী পুরুষ। এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

নিহতদের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী জেলার সমাজসেবা অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক (পোল্ট্রি অ্যান্ড গার্ডেনিং) ট্রেড এ কর্মরত মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ প্রাইভেটকারযোগে উলিপুরস্থ বাড়িতে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের আরডিআরএস বাজার সংলগ্ন কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে চিলমারী থেকে সাতক্ষীরাগামী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে ওই প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক নরসিংদী জেলার মনোহরদী পৌরসভার চক মাধবদী গ্রামের সায়েদ আলীর পুত্র সোহেল মিয়া (৩৫) নিহত হন।

এ সময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় কারের যাত্রী মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন (৫৭), স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪৫), ছেলে বেলাল হোসেন বায়জিদকে (১৫) কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন মেয়ে আশামনি (৭) ও ড্রাইভারের সহযোগী ওয়াসিম (১৪)। পরে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই ওয়াসিমের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম।

এদিকে ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত শিশু আশামনি আশংকামুক্ত নন বলে তার চাচাতো ভাই মারুফ হোসেন জানিয়েছেন।

নিহত মজিবর রহমান ওরফে আকবর হোসেন উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মাস্টারপাড়া গ্রামের আমান উল্লা শেখের পুত্র।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময় ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসা হয়নি মজিবর রহমানের। তিনি ছুটি পেয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতের বাড়িতে গেলে এলাকার অনেকেই জানান, মজিবর রহমান একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তিনি মসজিদ, হাফেজি মাদ্রাসা, কবরস্থান, এলাকার কাঁচা রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্নভাবে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছিলেন। পরিবারসহ তার এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাবাসী শোকাহত হয়ে পড়েছেন।

নিহত তিনজনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরকার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন