চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র
jugantor
চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩:০৯:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি দফতরে চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজকল্যাণ অধিদফতরের মাঠকর্মীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া ভুয়া ইন্টারভিউ বোর্ড ও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরির অভিযোগও পাওয়া গেছে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

গ্রেফতারকৃত ওই দুই প্রতারক হচ্ছে ধামরাই উপজেলার সমাজকল্যাণ অধিদফতরের মাঠকর্মী ও সুয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও যাদবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান মো. আলাউদ্দিনের ছেলে মো. আপন আহাম্মেদ (৩২)।

ওই দুই প্রতারককে গ্রেফতার ও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. রিপন আহম্মেদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও আপন আহাম্মেদ ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষকে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুয়া ইন্টারভিউ কার্ড তৈরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য আহ্বান করে। তাদের চক্রের সদস্যদের নিয়ে ভুয়া ইন্টারভিউ বোর্ড তৈরি করে সহস্রাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর ইন্টারভিউ গ্রহণ করে। তারা প্রতিজন প্রার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১১ লাখ টাকা করে।

ইন্টারভিউ দেয়ার পর চাকরিপ্রত্যাশীদের নিয়োগপত্র না আসলে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে প্রার্থীরা খবর নিয়ে জানতে পারেন তাদের চাকরির জন্য ইন্টারভিউ বোর্ডই ছিল ভুয়া। প্রার্থীরা প্রতারক চক্রের ওই দুইজনকে বারবার তাগিদ দিলে তারা আত্মগোপন করে। এরপর ভুক্তভোগীরা ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে।

চাকরিপ্রত্যাশী মো. মাকছুদ আলম খান বলেন, আমার কাছ থেকে সরকারি দফতরে চাকরির কথা বলে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে জাহাঙ্গীর ও আপন আহাম্মেদ। তারা প্রথমে আমাকে মন্ত্রণালয়ে চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড পাঠান। পরে পরীক্ষা শেষে আমাকে নিয়োগপত্র দেয়। সেই কার্ড নিয়ে আমি নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে দেখি এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে নেই। অথচ তারা আমার কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে আমাকে পথের ফকির বানিয়ে দিয়েছে।

আরেক প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার কাছ থেকে জাহাঙ্গীর চাকরির দেয়ার কথা বলে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে। নিয়োগপত্র দিয়ে যোগদান করতে বলে। সেখানে গিয়ে দেখি কোনো অফিসই নেই। এরূপ শত শত মানুষ ওই দুই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার এসআই মো. রিপন আহম্মেদ বলেন, সরকারি দফতরে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে জাহাঙ্গীর ও আপন বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযান চালিয়ে ওই দুইজনকে গ্রেফতার করি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১১:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি দফতরে চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজকল্যাণ অধিদফতরের মাঠকর্মীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া ভুয়া ইন্টারভিউ বোর্ড ও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরির অভিযোগও পাওয়া গেছে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

গ্রেফতারকৃত ওই দুই প্রতারক হচ্ছে ধামরাই উপজেলার সমাজকল্যাণ অধিদফতরের মাঠকর্মী ও সুয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও যাদবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান মো. আলাউদ্দিনের ছেলে মো. আপন আহাম্মেদ (৩২)।

ওই দুই প্রতারককে গ্রেফতার ও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. রিপন আহম্মেদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও আপন আহাম্মেদ ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষকে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুয়া ইন্টারভিউ কার্ড তৈরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য আহ্বান করে। তাদের চক্রের সদস্যদের নিয়ে ভুয়া ইন্টারভিউ বোর্ড তৈরি করে সহস্রাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর ইন্টারভিউ গ্রহণ করে। তারা প্রতিজন প্রার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১১ লাখ টাকা করে।

ইন্টারভিউ দেয়ার পর চাকরিপ্রত্যাশীদের নিয়োগপত্র না আসলে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে প্রার্থীরা খবর নিয়ে জানতে পারেন তাদের চাকরির জন্য ইন্টারভিউ বোর্ডই ছিল ভুয়া। প্রার্থীরা প্রতারক চক্রের ওই দুইজনকে বারবার তাগিদ দিলে তারা আত্মগোপন করে। এরপর ভুক্তভোগীরা ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে।

চাকরিপ্রত্যাশী মো. মাকছুদ আলম খান বলেন, আমার কাছ থেকে সরকারি দফতরে চাকরির কথা বলে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে জাহাঙ্গীর ও আপন আহাম্মেদ। তারা প্রথমে আমাকে মন্ত্রণালয়ে চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড পাঠান। পরে পরীক্ষা শেষে আমাকে নিয়োগপত্র দেয়। সেই কার্ড নিয়ে আমি নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে দেখি এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে নেই। অথচ তারা আমার কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে আমাকে পথের ফকির বানিয়ে দিয়েছে।

আরেক প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার কাছ থেকে জাহাঙ্গীর চাকরির দেয়ার কথা বলে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে। নিয়োগপত্র দিয়ে যোগদান করতে বলে। সেখানে গিয়ে দেখি কোনো অফিসই নেই। এরূপ শত শত মানুষ ওই দুই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার এসআই মো. রিপন আহম্মেদ বলেন, সরকারি দফতরে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে জাহাঙ্গীর ও আপন বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযান চালিয়ে ওই দুইজনকে গ্রেফতার করি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন