ফুলপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় ভালুকায় শোকের মাতম
jugantor
ফুলপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় ভালুকায় শোকের মাতম

  ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

১৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৯:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

আত্মীয়ের জানাজা শেরপুরের নালিতাবাড়ি এলাকায় যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের ফুলপুর উপজেলায় মাইক্রোবাস পুকুরের পানিতে ডুবে ৮ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভালুকায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টায় ফুলপুর উপজেলার বাশাতি নামক স্থানে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। তাদের বাড়ি ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের বাকশীবাড়ি গ্রামে। এ ঘটনার খবর ওই গ্রামে পৌঁছলে মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতদের পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার আবদুস সামাদের ছেলে আবুল হাসেম মারা যান। মৃতের জানাজা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আবুল হাসেমের নানার বাড়ি পাগলা থানার মশাখালী ইউনিয়নের বাতুরি গ্রামে ও খালার বাড়ি ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের বাকশীবাড়ি গ্রামে।

ভাগ্নের জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য মামা শামছুল হক ভালুকা থেকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। সকালে গাড়িটি প্রথমে পাগলা থানার বাতুরি গ্রাম থেকে আবুল হাসেমের মামা শামছুল হক, তার দুই খালা ও মামাতো বোনকে তুলে ভালুকার বাকশীবাড়ি গ্রাম থেকে মৃতের অপর এক খালা ও খালাতো ভাইয়ের বৌ মেয়েসহ অন্যদের তুলেন। তারাকান্দা থেকে শামছুল হকের শ্যালককে গাড়িতে তুলেন। মাইক্রোবাসে যাত্রী ছিল চালকসহ ১৪ জন।

মাইক্রোবাসটি উপজেলার বাশাতি নামক স্থানে পৌঁছতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। গাড়িটি প্রথমে একটি কাঁঠাল গাছের সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তার পাশে পুকুরে গিয়ে পড়ে ৮-১০ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতরে সবাই আটকে পড়েন। মাইক্রোবাস থেকে চালকসহ ৬ জন বের হতে পারলেও অন্যরা বের হতে পারেননি।

এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে পড়ে পানিতে ডুবে পাগলা থানার বাতুরি গ্রামের শামছুল হক (৬৫), তার দুই বোন গফরগাঁও উপজেলার শেখের বাজার গ্রামের এলাহী বক্সের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন (৫৩), পাগলা থানার মশাখালীর হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী পারুল আক্তার (৫০), শামছুল হকের মেয়ে ওই গফরগাঁও উপজেলার শেখবাজার গ্রামের রতনের স্ত্রী রিপা খাতুন (৩০), শামছুল হকের অপর এক বোন ভালুকা উপজেলার বাকশীবাড়ি গ্রামের মৃত চাঁন মহনের স্ত্রী মিলন খাতুন (৫৫), তার ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী বেগম (৩০),মিলন খাতুনের নাতি বেগমের কন্যা বুলবুলি আক্তার (৫) এবং শামছুল হকের শ্যালক তারাকান্দা উপজেলার দাদরা গ্রামের চিত্তবরণের ছেলে নবী হোসেন (৩০) মারা যান।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া বাকশীবাড়ি গ্রামের মৃত চান মহনের ছেলে শাহজাহান (৪০), তার ভাই শারফুল (৩৬), একই গ্রামের মিলনের ছেলে মিজান (২৮), পাগলা থানার মশাখালী এলাকার মৃত উসমানের ছেলে হাবীব (৫৫), ভালুকা উপজেলার রাজৈ লাহাব এলাকার আবুল কালামের ছেলে রাজু (২৭), গফরগাঁও উপজেলার শেখবাজার গ্রামের মৃত এলাহী বক্সের ছেলে রতন (৫৫)। ঘটনার পর থেকে চালক পলাতক রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ফুলপুর থানা পুলিশ ও ফুলপুর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানির নিচ থেকে গাড়িটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। পরে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ ৩টি ইউনিট ও ফুলপুর ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে পানির নিচ থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজে নেতৃত্বে দেন ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস অফিসের এডি বাবু প্রাণনাথ সাহা।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, লাশ দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারের প্রতিজনকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। সরকারি তহবিল থেকে প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, আহতদের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লাশ দাফন করার জন্য পরিবারের লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফুলপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় ভালুকায় শোকের মাতম

 ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
১৮ আগস্ট ২০২০, ০৯:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আত্মীয়ের জানাজা শেরপুরের নালিতাবাড়ি এলাকায় যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের ফুলপুর উপজেলায় মাইক্রোবাস পুকুরের পানিতে ডুবে ৮ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভালুকায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টায় ফুলপুর উপজেলার বাশাতি নামক স্থানে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। তাদের বাড়ি ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের বাকশীবাড়ি গ্রামে। এ ঘটনার খবর ওই গ্রামে পৌঁছলে মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। 

নিহতদের পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার আবদুস সামাদের ছেলে আবুল হাসেম মারা যান। মৃতের জানাজা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আবুল হাসেমের নানার বাড়ি পাগলা থানার মশাখালী ইউনিয়নের বাতুরি গ্রামে ও খালার বাড়ি ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের বাকশীবাড়ি গ্রামে।

ভাগ্নের জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য মামা শামছুল হক ভালুকা থেকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। সকালে গাড়িটি প্রথমে পাগলা থানার বাতুরি গ্রাম থেকে আবুল হাসেমের মামা শামছুল হক, তার দুই খালা ও মামাতো বোনকে তুলে ভালুকার বাকশীবাড়ি গ্রাম থেকে মৃতের অপর এক খালা ও খালাতো ভাইয়ের বৌ মেয়েসহ অন্যদের তুলেন। তারাকান্দা থেকে শামছুল হকের শ্যালককে গাড়িতে তুলেন। মাইক্রোবাসে যাত্রী ছিল চালকসহ ১৪ জন।

মাইক্রোবাসটি উপজেলার বাশাতি নামক স্থানে পৌঁছতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। গাড়িটি প্রথমে একটি কাঁঠাল গাছের সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তার পাশে পুকুরে গিয়ে পড়ে ৮-১০ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতরে সবাই আটকে পড়েন। মাইক্রোবাস থেকে চালকসহ ৬ জন বের হতে পারলেও অন্যরা বের হতে পারেননি।

এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে পড়ে পানিতে ডুবে পাগলা থানার বাতুরি গ্রামের শামছুল হক (৬৫), তার দুই বোন গফরগাঁও উপজেলার শেখের বাজার গ্রামের এলাহী বক্সের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন (৫৩), পাগলা থানার মশাখালীর হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী পারুল আক্তার (৫০), শামছুল হকের মেয়ে ওই গফরগাঁও উপজেলার শেখবাজার গ্রামের রতনের স্ত্রী রিপা খাতুন (৩০), শামছুল হকের অপর এক বোন ভালুকা উপজেলার বাকশীবাড়ি গ্রামের মৃত চাঁন মহনের স্ত্রী মিলন খাতুন (৫৫), তার ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী বেগম (৩০),মিলন খাতুনের নাতি বেগমের কন্যা বুলবুলি আক্তার (৫) এবং শামছুল হকের শ্যালক তারাকান্দা উপজেলার দাদরা গ্রামের চিত্তবরণের ছেলে নবী হোসেন (৩০) মারা যান।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া বাকশীবাড়ি গ্রামের মৃত চান মহনের ছেলে শাহজাহান (৪০), তার ভাই শারফুল (৩৬), একই গ্রামের মিলনের ছেলে মিজান (২৮), পাগলা থানার মশাখালী এলাকার মৃত উসমানের ছেলে হাবীব (৫৫), ভালুকা উপজেলার রাজৈ লাহাব এলাকার আবুল কালামের ছেলে রাজু (২৭), গফরগাঁও উপজেলার শেখবাজার গ্রামের মৃত এলাহী বক্সের ছেলে রতন (৫৫)। ঘটনার পর থেকে চালক পলাতক রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ফুলপুর থানা পুলিশ ও ফুলপুর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানির নিচ থেকে গাড়িটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। পরে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ ৩টি ইউনিট ও ফুলপুর ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে পানির নিচ থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজে নেতৃত্বে দেন ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস অফিসের এডি বাবু প্রাণনাথ সাহা।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, লাশ দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারের প্রতিজনকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। সরকারি তহবিল থেকে প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, আহতদের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লাশ দাফন করার জন্য পরিবারের লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন