সেন্টমার্টিনে পর্যটক নিষিদ্ধ হলে জীবিকা হারাবেন ৩ লাখ মানুষ
jugantor
টুয়াকের সংবাদ সম্মেলনে দাবি
সেন্টমার্টিনে পর্যটক নিষিদ্ধ হলে জীবিকা হারাবেন ৩ লাখ মানুষ

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

১৯ আগস্ট ২০২০, ১৯:৪৬:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজার

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩ লাখ মানুষ জীবিকা হারাবেন। হুমকির সম্মুখীন হবে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। তাই সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)।

সংগঠনটি বলছে- সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ সীমিতকরণ বা রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে পর্যটনশিল্পে নিয়োজিত ৭-৮টি জাহাজ, ২০০-৩০০ বাস-মিনিবাস, ১০০ মাইক্রোবাস, ২০০ ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান, ৪০০ টুরিস্ট গাইড এবং দ্বীপের ১২০টি হোটেল-কটেজ ও ৭০টি রেস্তোরাঁয় কর্মরতদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে কথাগুলো উপস্থাপন করেছেন পর্যটনভিত্তিক সংগঠন টুয়াকের নেতারা।

টুয়াক সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন কার্যকরী কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফিজুর রহমান মফিজ। তিনি বলেন, সরকার ২০০৯ সালে পর্যটনকে শিল্প ঘোষণার পর থেকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পর্যটন শিল্প বিকশিত হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন বিকশিত হওয়ার পূর্বে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সমুদ্র হতে মাছ আহরণের পাশাপশি প্রবাল উত্তোলন, প্রবাল পাথরকে নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য উত্তোলন করে বিক্রি, মাছের অভয়ারণ্য ধ্বংস, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে বিক্রি, কাছিমের আবাসস্থল নষ্ট করাসহ বিভিন্ন উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেন্টমার্টিনে পর্যটন শিল্প বিকশিত হওয়ার পর উক্ত জনগোষ্ঠী বিকল্প জীবিকায়ন হিসেবে পাওয়ায় তাদের জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন আসে এবং তারাই পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০১৬ ও ২০১৭ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করার ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা উৎসাহিত হয়ে তাদের বাসাবাড়ির এক-দুই রুম পরিবেশবান্ধব অতিথিশালা তৈরি করে পর্যটক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। দ্বীপকে ভালোবেসে বাৎসরিক মাত্র ৫ মাসের ব্যবসা করার ঝুঁকি নিয়ে উদ্যোক্তারা বিপুল বিনিয়োগ করেছেন।

গত ৬ আগস্ট জুম মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতিদিন মাত্র ১২৫০ পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপ দিবাকালীন ভ্রমণ করতে পারবেন কিন্তু রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। সংবাদটি সেন্টমার্টিন দ্বীপনির্ভর পর্যটন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উদ্বিগ্ন ও বিস্মিত করেছে। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ৭-৮টি জাহাজের মাধ্যমে ৪/৫ হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করেন এবং এর মধ্য হতে ৩০% পর্যটক রাত্রিযাপন করেন।

সভায় সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনাসমূহ হল- পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন ২৫০০ পর্যটক দিবাকালীন এবং ১৫০০ পর্যটক রাত্রিযাপন ভ্রমণ অনুমতি প্রদান করলে পর্যটন এবং পরিবেশ উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে। ইতোমধ্যে টুয়াক সেন্টমার্টিনকে প্লাস্টিক ফ্রি করার জন্য প্লাস্টিক ফ্রি ইকো ট্যুরিজম কক্সবাজার নামক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে; যা বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের প্রতিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসবাসকারী স্থানীয় প্রায় ১৫ হাজার জনগোষ্ঠীকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দ্বীপ হতে অন্যত্র পুনর্বাসন এবং পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা গ্রহণ। সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, পর্যটক পরিবহন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল ব্যবসায়ী ও জাহাজ ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রে পতিত হচ্ছে। হোটেলসমূহে এসটিপি প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- টুয়াকের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এমএ হাসিব বাদল, উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম, সৈয়দুল হক কোম্পানি, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার কামাল, যুগ্ম সম্পাদক আল আমীন বিশ্বাস, মুনীবুর রহমান টিটু, এসএ কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক মু. মুকিম খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক মো. তোহা ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. ইদ্রিচ আলি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম রনি।

টুয়াকের সংবাদ সম্মেলনে দাবি

সেন্টমার্টিনে পর্যটক নিষিদ্ধ হলে জীবিকা হারাবেন ৩ লাখ মানুষ

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
১৯ আগস্ট ২০২০, ০৭:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)এর সংবাদ সম্মেলট। যুগান্তর

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩ লাখ মানুষ জীবিকা হারাবেন। হুমকির সম্মুখীন হবে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। তাই সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)।

 

সংগঠনটি বলছে- সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ সীমিতকরণ বা রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে পর্যটনশিল্পে নিয়োজিত ৭-৮টি জাহাজ, ২০০-৩০০ বাস-মিনিবাস, ১০০ মাইক্রোবাস, ২০০ ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান, ৪০০ টুরিস্ট গাইড এবং দ্বীপের ১২০টি হোটেল-কটেজ ও ৭০টি রেস্তোরাঁয় কর্মরতদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে কথাগুলো উপস্থাপন করেছেন পর্যটনভিত্তিক সংগঠন টুয়াকের নেতারা।

 

টুয়াক সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন কার্যকরী কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফিজুর রহমান মফিজ। তিনি বলেন, সরকার ২০০৯ সালে পর্যটনকে শিল্প ঘোষণার পর থেকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পর্যটন শিল্প বিকশিত হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন বিকশিত হওয়ার পূর্বে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সমুদ্র হতে মাছ আহরণের পাশাপশি প্রবাল উত্তোলন, প্রবাল পাথরকে নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য উত্তোলন করে বিক্রি, মাছের অভয়ারণ্য ধ্বংস, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে বিক্রি, কাছিমের আবাসস্থল নষ্ট করাসহ বিভিন্ন উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেন্টমার্টিনে পর্যটন শিল্প বিকশিত হওয়ার পর উক্ত জনগোষ্ঠী বিকল্প জীবিকায়ন হিসেবে পাওয়ায় তাদের জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন আসে এবং তারাই পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০১৬ ও ২০১৭ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করার ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা উৎসাহিত হয়ে তাদের বাসাবাড়ির এক-দুই রুম পরিবেশবান্ধব অতিথিশালা তৈরি করে পর্যটক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। দ্বীপকে ভালোবেসে বাৎসরিক মাত্র ৫ মাসের ব্যবসা করার ঝুঁকি নিয়ে উদ্যোক্তারা বিপুল বিনিয়োগ করেছেন।

 

গত ৬ আগস্ট জুম মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতিদিন মাত্র ১২৫০ পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপ দিবাকালীন ভ্রমণ করতে পারবেন কিন্তু রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। সংবাদটি সেন্টমার্টিন দ্বীপনির্ভর পর্যটন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উদ্বিগ্ন ও বিস্মিত করেছে। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ৭-৮টি জাহাজের মাধ্যমে ৪/৫ হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করেন এবং এর মধ্য হতে ৩০% পর্যটক রাত্রিযাপন করেন।

 

সভায় সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনাসমূহ হল- পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন ২৫০০ পর্যটক দিবাকালীন এবং ১৫০০ পর্যটক রাত্রিযাপন ভ্রমণ অনুমতি প্রদান করলে পর্যটন এবং পরিবেশ উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে। ইতোমধ্যে টুয়াক সেন্টমার্টিনকে প্লাস্টিক ফ্রি করার জন্য প্লাস্টিক ফ্রি ইকো ট্যুরিজম কক্সবাজার নামক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে; যা বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের প্রতিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসবাসকারী স্থানীয় প্রায় ১৫ হাজার জনগোষ্ঠীকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দ্বীপ হতে অন্যত্র পুনর্বাসন এবং পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা গ্রহণ। সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, পর্যটক পরিবহন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল ব্যবসায়ী ও জাহাজ ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রে পতিত হচ্ছে। হোটেলসমূহে এসটিপি প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- টুয়াকের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এমএ হাসিব বাদল, উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম, সৈয়দুল হক কোম্পানি, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার কামাল, যুগ্ম সম্পাদক আল আমীন বিশ্বাস, মুনীবুর রহমান টিটু, এসএ কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক মু. মুকিম খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক মো. তোহা ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. ইদ্রিচ আলি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম রনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন