মেম্বারদের টাকা দিলেই ঘর পাওয়া যায়!
jugantor
মেম্বারদের টাকা দিলেই ঘর পাওয়া যায়!

  মদন মোহন ঘোষ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)  

১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:২৪:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

‘ঘর দেওনের কথা কইয়া আমিরুল মেম্বার চল্লিশ হাজার টাকা নিছে, কাঠ দিয়ে ঘর তুলবার হুম, ভাংগে চুড়ে পড়ছিল। পরে কোনো রহমে পছা কাঠ দিয়ে টিন দিছে। এখনও ঘরের দেয়াল প্লাস্টার হয় নাই। বারান্দা নাই। নামা পাকা করে নাই। পায়খানার ওপর খালি টিন আছে’- কথাগুলো বলছিলেন দুস্থ নারী মাকছুদা খাতুন (৩২)। তার বাড়ি দেওয়ানগঞ্জের চর আমখাওয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা পাটাধোয়াপাড়া গ্রামে।

সরেজমিন ঘুরে কথা হয় মাকছুদা খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, ৬ বছর আগে তার স্বামী তাকে ছেড়ে গেছে, দুই সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে দিনযাপন করেন। ভিজিডির ৩০ কেজি চাল পান। সেই দিয়ে চলে তার সংসার। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আমিরুলের কাছে সরকারি ঘর পাওয়ার জন্য গেলে মেম্বার তার কাজ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেন।

ঘর পাওয়া আরেকজন পাররামপুর ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামের ধনবাদশা (ডাব্বু) বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী জরিনা বেগম বলেন, ‘এক বছর আগে ইদু নেতা ঘর দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিছে। আমি খুবই গরিব। ধানের খোলায় কাম কাজ কইরে খুব কষ্টে টাকা জোগাড় করে ছিলাম। ঘরে ইটের দেয়াল বেড়া দিছে। আর কুনডা দেয় নাই। পায়খানা হেউ দেয় নাই।’

হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের আ. রাজ্জাক বলেন, ‘৬ মাস আগে চৈত্র মাসে খালি ইটের গাঁথুনি দিয়ে গেছে। আর কিছুই দেয় নাই। সোমবার দিন উপজেলা থেকে টিন আনছি।’

ঘরের জন্য কাউকে টাকা দিয়েছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আসল কথা কইলে আবার কুনডা হয়। না কওয়াডাই ভালা।’

দেওয়ানগঞ্জ পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ ৮ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৭০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর বাবদ খরচ ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছর জুন মাসে।

ঘর পাওয়া অধিকাংশ নারী জানান, কিছু সংখ্যক ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। টাকা না দিলে ঘর পাওয়া যায় না। নিরুপায় হয়েই তারা টাকা দিয়েছে।

চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আকন্দ জানান, ওই মহিলা একেক সময় একেক রকম কথা বলেন। বিষয়টি পুরনো। তাকে ঘর দেয়া হয়েছে।

এদিকে আমিরুল মেম্বারের মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, লকডাউন ও বন্যার কারণে ঘর নির্মাণ কাজ এখনও ২০ ভাগ হয়নি। ঘরগুলো নির্মাণ করছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া জানান, কিছু সমস্যা হয়েছে। বন্যার কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে।

ঘর দেয়ার বিষয়ে কেউ টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

পরিকল্পনা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেন, সরকার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কোনো ধরনের অনিয়ম চলবে না।

মেম্বারদের টাকা দিলেই ঘর পাওয়া যায়!

 মদন মোহন ঘোষ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) 
১৯ আগস্ট ২০২০, ১০:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘ঘর দেওনের কথা কইয়া আমিরুল মেম্বার চল্লিশ হাজার টাকা নিছে, কাঠ দিয়ে ঘর তুলবার হুম, ভাংগে চুড়ে পড়ছিল। পরে কোনো রহমে পছা কাঠ দিয়ে টিন দিছে। এখনও ঘরের দেয়াল প্লাস্টার হয় নাই। বারান্দা নাই। নামা পাকা করে নাই। পায়খানার ওপর খালি টিন আছে’- কথাগুলো বলছিলেন দুস্থ নারী মাকছুদা খাতুন (৩২)। তার বাড়ি দেওয়ানগঞ্জের চর আমখাওয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা পাটাধোয়াপাড়া গ্রামে।

সরেজমিন ঘুরে কথা হয় মাকছুদা খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, ৬ বছর আগে তার স্বামী তাকে ছেড়ে গেছে, দুই সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে দিনযাপন করেন। ভিজিডির ৩০ কেজি চাল পান। সেই দিয়ে চলে তার সংসার। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আমিরুলের কাছে সরকারি ঘর পাওয়ার জন্য গেলে মেম্বার তার কাজ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেন।

ঘর পাওয়া আরেকজন পাররামপুর ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামের ধনবাদশা (ডাব্বু) বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী জরিনা বেগম বলেন, ‘এক বছর আগে ইদু নেতা ঘর দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিছে। আমি খুবই গরিব। ধানের খোলায় কাম কাজ কইরে খুব কষ্টে টাকা জোগাড় করে ছিলাম। ঘরে ইটের দেয়াল বেড়া দিছে। আর কুনডা দেয় নাই। পায়খানা হেউ দেয় নাই।’

হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের আ. রাজ্জাক বলেন, ‘৬ মাস আগে চৈত্র মাসে খালি ইটের গাঁথুনি দিয়ে গেছে। আর কিছুই দেয় নাই। সোমবার দিন উপজেলা থেকে টিন আনছি।’

ঘরের জন্য কাউকে টাকা দিয়েছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আসল কথা কইলে আবার কুনডা হয়। না কওয়াডাই ভালা।’

দেওয়ানগঞ্জ পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ ৮ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৭০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর বাবদ খরচ ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছর জুন মাসে।

ঘর পাওয়া অধিকাংশ নারী জানান, কিছু সংখ্যক ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। টাকা না দিলে ঘর পাওয়া যায় না। নিরুপায় হয়েই তারা টাকা দিয়েছে।

চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আকন্দ জানান, ওই মহিলা একেক সময় একেক রকম কথা বলেন। বিষয়টি পুরনো। তাকে ঘর দেয়া হয়েছে।

এদিকে আমিরুল মেম্বারের মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, লকডাউন ও বন্যার কারণে ঘর নির্মাণ কাজ এখনও ২০ ভাগ হয়নি। ঘরগুলো নির্মাণ করছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া জানান, কিছু সমস্যা হয়েছে। বন্যার কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে।

ঘর দেয়ার বিষয়ে কেউ টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

পরিকল্পনা সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেন, সরকার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কোনো ধরনের অনিয়ম চলবে না।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন