বগুড়ায় সবুজ বাহিনীর হামলায় আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু
jugantor
বগুড়ায় সবুজ বাহিনীর হামলায় আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু

  বগুড়া ব্যুরো  

১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:৫৭:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলায় আহত আবদুল হালিম (৩২) নামে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী শেরপুর উপজেলায় ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুপ্রবেশকারী বেপরোয়া সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেন সবুজ ও তার বাহিনী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার দুপুরে শাজাহানপুরের জামুন্না গ্রামে তাকে মারপিট করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তিনি হাসপাতালে মারা যান। নিহতের স্ত্রী শম্পা বেগম বুধবার সকালে শেরপুর থানায় সবুজসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। শাজাহানপুর থানা ওসি আজিম উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ, এজাহার সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, আবদুল হালিম বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গাড়িদহ মধ্যপাড়ার মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি গাড়িদহ বাজারে মিষ্টির ব্যবসা করতেন। একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সবুজ আগে ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। কিছুদিন আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করেন। বর্তমানে শেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

জমিজমার মালিকানা নিয়ে হালিমের সঙ্গে সবুজের বিরোধ চলছিল। হালিম গত শুক্রবার জুম্মা নামাজ আদায় শেষে পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর উপজেলার জামুন্না সানাপাড়ায় নিজ জমিতে আমের চারা রোপণ করছিলেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সবুজ ও তার বাহিনীর সদস্যরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিটে তার ডান হাত ও পা ভেঙে যায়। মৃত ভেবে তাকে চটের বস্তায় তুলে রাখে।

পরে এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মারা যান। পুলিশ বিকালে বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বুধবার সকালে তার স্ত্রী শাজাহানপুর থানায় সবুজসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার এসআই সাম্মাক হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশকারী সবুজ ক্ষমতার দাপটে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। নিজ এলাকা শেরপুরের গাড়িদহ ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও পাশের শাজাহানপুরের জামুন্না, পোয়ালগোছা, খাদাস, জামাদারপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে আধিপত্য বিস্তার করেন।

শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও অন্যরা জানান, সবুজ আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী সব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন।

শেরপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রেজাউল করিম বিপ্লব জানান, তাদের না জানিয়ে সবুজকে শেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে নেয়া হয়েছে।

তবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার শান্ত জানান, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ তাদের সংগঠনের কেউ নন।

সবুজের ফোন বন্ধ ও বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বগুড়ায় সবুজ বাহিনীর হামলায় আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু

 বগুড়া ব্যুরো 
১৯ আগস্ট ২০২০, ১০:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলায় আহত আবদুল হালিম (৩২) নামে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী শেরপুর উপজেলায় ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুপ্রবেশকারী বেপরোয়া সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেন সবুজ ও তার বাহিনী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার দুপুরে শাজাহানপুরের জামুন্না গ্রামে তাকে মারপিট করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তিনি হাসপাতালে মারা যান। নিহতের স্ত্রী শম্পা বেগম বুধবার সকালে শেরপুর থানায় সবুজসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। শাজাহানপুর থানা ওসি আজিম উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ, এজাহার সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, আবদুল হালিম বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গাড়িদহ মধ্যপাড়ার মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি গাড়িদহ বাজারে মিষ্টির ব্যবসা করতেন। একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সবুজ আগে ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। কিছুদিন আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করেন। বর্তমানে শেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

জমিজমার মালিকানা নিয়ে হালিমের সঙ্গে সবুজের বিরোধ চলছিল। হালিম গত শুক্রবার জুম্মা নামাজ আদায় শেষে পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর উপজেলার জামুন্না সানাপাড়ায় নিজ জমিতে আমের চারা রোপণ করছিলেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সবুজ ও তার বাহিনীর সদস্যরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিটে তার ডান হাত ও পা ভেঙে যায়। মৃত ভেবে তাকে চটের বস্তায় তুলে রাখে।

পরে এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মারা যান। পুলিশ বিকালে বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বুধবার সকালে তার স্ত্রী শাজাহানপুর থানায় সবুজসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার এসআই সাম্মাক হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশকারী সবুজ ক্ষমতার দাপটে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। নিজ এলাকা শেরপুরের গাড়িদহ ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও পাশের শাজাহানপুরের জামুন্না, পোয়ালগোছা, খাদাস, জামাদারপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে আধিপত্য বিস্তার করেন।

শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও অন্যরা জানান, সবুজ আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী সব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন।

শেরপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রেজাউল করিম বিপ্লব জানান, তাদের না জানিয়ে সবুজকে শেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে নেয়া হয়েছে।

তবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার শান্ত জানান, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ তাদের সংগঠনের কেউ নন।

সবুজের ফোন বন্ধ ও বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন