প্রেমের বিয়ের বিয়োগান্তক পরিণতি
jugantor
প্রেমের বিয়ের বিয়োগান্তক পরিণতি

  ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২০, ১৮:৩১:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের আবদুস সামাদের মেয়ে লামিয়া লাইজু (২০) নেত্রকোনা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করতেন। আর ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী শাহাজ উদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান শরিফ পড়াশোনা করতেন আনন্দমোহন সরকারি কলেজে। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এরপর দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে চলতি বছরের ১১ মার্চ পারিবারিকভাবে দুজনের বিয়ে হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই গৃহবধূ লামিয়া লাইজুর বাড়িতে যাওয়া-আসাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। গত ১৪ আগস্ট লাইজুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মতিউর রহমান শরিফ। ধোবাউড়া উপজেলা সদর এলাকা অতিক্রম করতেই পথে গাড়ি থেকে পড়ে যান লাইজু। এ সময় তাকে ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে ফিরে যান তারা।

পরদিন সকালে ১৫ আগস্ট লাইজুর ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন শরিফ ও তার পরিবারের লোকজন। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, হাসপাতালে আনার ১ ঘণ্টা আগে মারা যায় গৃহবধূ লামিয়া লাইজু। শুরু হয় মৃত্যু নিয়ে রহস্য।

গৃহবধূর মৃত্যুর খবরটি জানাতে থানায় আসেন শরিফের বাবা শাহাজ উদ্দিন। ততক্ষণে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তাকে আটক করে থানা পুলিশ।

শরিফের পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে লাইজু আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে লাইজুর বাবা অভিযোগ করেন, যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছে তারা। এ নিয়ে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতো লাইজু। অবশেষে তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রেমের বিয়ে এখন রূপ নিয়েছে বিষাদে। দুই পরিবারেই এখন শোকের ছায়া। মেয়েকে হারিয়ে হতাশায় কাতর বাবা-মা। এদিকে পলাতক রয়েছে শরিফ ও তার মা এবং জেলে রয়েছেন শরিফের বাবা।

এ ঘটনায় ধোবাউড়া থানায় লাইজুর বাবা আবদুস সামাদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে ধোবাউড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, প্ররোচনায় আত্মহত্যার একটি মামলা নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

প্রেমের বিয়ের বিয়োগান্তক পরিণতি

 ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২০, ০৬:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের আবদুস সামাদের মেয়ে লামিয়া লাইজু (২০) নেত্রকোনা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করতেন। আর ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী শাহাজ উদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান শরিফ পড়াশোনা করতেন আনন্দমোহন সরকারি কলেজে। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এরপর দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে চলতি বছরের ১১ মার্চ পারিবারিকভাবে দুজনের বিয়ে হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই গৃহবধূ লামিয়া লাইজুর বাড়িতে যাওয়া-আসাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। গত ১৪ আগস্ট লাইজুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মতিউর রহমান শরিফ। ধোবাউড়া উপজেলা সদর এলাকা অতিক্রম করতেই পথে গাড়ি থেকে পড়ে যান লাইজু। এ সময় তাকে ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে ফিরে যান তারা।

পরদিন সকালে ১৫ আগস্ট লাইজুর ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন শরিফ ও তার পরিবারের লোকজন। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, হাসপাতালে আনার ১ ঘণ্টা আগে মারা যায় গৃহবধূ লামিয়া লাইজু। শুরু হয় মৃত্যু নিয়ে রহস্য।

গৃহবধূর মৃত্যুর খবরটি জানাতে থানায় আসেন শরিফের বাবা শাহাজ উদ্দিন। ততক্ষণে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তাকে আটক করে থানা পুলিশ।

শরিফের পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে লাইজু আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে লাইজুর বাবা অভিযোগ করেন, যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছে তারা। এ নিয়ে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতো লাইজু। অবশেষে তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রেমের বিয়ে এখন রূপ নিয়েছে বিষাদে। দুই পরিবারেই এখন শোকের ছায়া। মেয়েকে হারিয়ে হতাশায় কাতর বাবা-মা। এদিকে পলাতক রয়েছে শরিফ ও তার মা এবং জেলে রয়েছেন শরিফের বাবা।

এ ঘটনায় ধোবাউড়া থানায় লাইজুর বাবা আবদুস সামাদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে ধোবাউড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, প্ররোচনায় আত্মহত্যার একটি মামলা নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন