বিল গাজনায় নৌকা থেকে পড়ে মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু
jugantor
বিল গাজনায় নৌকা থেকে পড়ে মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু

  পাবনা প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২০, ২০:২৯:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারের সঙ্গে নৌকাভ্রমণে গিয়ে বিল গাজনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তামিম (১৮) নামক এক মেধাবী ছাত্রের। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে বিলের ওপর দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয় তামিম। ২০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডুবুরিরা তামিমের লাশ উদ্ধার করেন।

তামিম পাবনার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের তাহেজ মণ্ডলের ছেলে। মা নূরজাহান বেগম সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তামিম এবার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর সোহেল রানা এবং মৃত তামিমের খালা নতিজা খাতুন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মেধাবী ছাত্র তামিমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

আমিনপুর থানার এসআই খোকন চন্দ্র দাস স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সুজানগর উপজেলার বিশাল বিল গাজনা বর্ষায় ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পর্যটন কেন্দ্রের মতো হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই শত শত নারী-পুরুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিল গাজনায় বেড়াতে আসেন।

তিনি জানান, বুধবার সকালে তামিমও বাবা-মায়ের সঙ্গে বিল গাজনা বিলে পারিবারিক ভ্রমণে বের হয়েছিল। সারাদিন বেড়ানো শেষে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় এবং তাদের বহনকারী নৌকাটি যখন সুজানগর উপজেলার হাটখালি ইউনিয়নের গাজনা বিলের বাদাই নামক স্থানে পৌঁছায় তখন তামিম নৌকার সামনের গলুইয়ের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় অসাবধানবশত বিলের মধ্য দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শ লেগে তামিম নৌকা থেকে বিলের পানিতে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই তামিমের বাবা-মায়ের চিৎকারে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে ছুটে আসেন। তারা বিকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে তামিমকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাননি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, পাবনায় কোনো ডুবুরি নেই। তাই বৃহস্পতিবার রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস থেকে ৩ জন ডুবুরি নিয়ে আসা হয়। তারা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে অনুসন্ধান শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিলের পানি তামিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আমিনপুর থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, মৃত তামিম ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। সে এবার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছিল তামিম। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

বিল গাজনায় নৌকা থেকে পড়ে মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু

 পাবনা প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২০, ০৮:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবারের সঙ্গে নৌকাভ্রমণে গিয়ে বিল গাজনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তামিম (১৮) নামক এক মেধাবী ছাত্রের। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে বিলের ওপর দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয় তামিম। ২০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডুবুরিরা তামিমের লাশ উদ্ধার করেন।

তামিম পাবনার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের তাহেজ মণ্ডলের ছেলে। মা নূরজাহান বেগম সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তামিম এবার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর সোহেল রানা এবং মৃত তামিমের খালা নতিজা খাতুন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মেধাবী ছাত্র তামিমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। 

আমিনপুর থানার এসআই খোকন চন্দ্র দাস স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সুজানগর উপজেলার বিশাল বিল গাজনা বর্ষায় ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পর্যটন কেন্দ্রের মতো হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই শত শত নারী-পুরুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিল গাজনায় বেড়াতে আসেন।

তিনি জানান, বুধবার সকালে তামিমও বাবা-মায়ের সঙ্গে বিল গাজনা বিলে পারিবারিক ভ্রমণে বের হয়েছিল। সারাদিন বেড়ানো শেষে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় এবং তাদের বহনকারী নৌকাটি যখন সুজানগর উপজেলার হাটখালি ইউনিয়নের গাজনা বিলের বাদাই নামক স্থানে পৌঁছায় তখন তামিম নৌকার সামনের গলুইয়ের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় অসাবধানবশত বিলের মধ্য দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শ লেগে তামিম নৌকা থেকে বিলের পানিতে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই তামিমের বাবা-মায়ের চিৎকারে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে ছুটে আসেন। তারা বিকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে তামিমকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাননি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, পাবনায় কোনো ডুবুরি নেই। তাই বৃহস্পতিবার রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস থেকে ৩ জন ডুবুরি নিয়ে আসা হয়। তারা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে অনুসন্ধান শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিলের পানি তামিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আমিনপুর থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, মৃত তামিম ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। সে এবার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছিল তামিম। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : পানিতে ডুবে মৃত্যু

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন