‘গণধর্ষণের পর হত্যা’র শিকার কিশোরীকে ‘জীবিত’ উদ্ধার!
jugantor
‘গণধর্ষণের পর হত্যা’র শিকার কিশোরীকে ‘জীবিত’ উদ্ধার!

  নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর প্রতিনিধি  

২৪ আগস্ট ২০২০, ১৮:৫২:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্দরে গণধর্ষণের পর হত্যার শিকার এক কিশোরীকে দেড় মাস পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়। এক মাস পর মামলা হলে পুলিশ বন্দর এলাকা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- বন্দরের বুরুমদি এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ (২২), বুরুমদি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক রকিব (১৯) ও বন্দরের ইস্পাহানি এলাকার নৌকার মাঝি খলিল (৩৬)। কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে গ্রেফতারকৃত ৩ জন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলহাজতে রয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা গত ৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবিরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে বিনাঅপরাধে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি চেয়েছে তাদের পরিবার। রকিবের বড় ভাই সজিব জানান, রিমান্ড এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে দুইবারে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, রোববার বন্দরের কুশিয়ারা এলাকার একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে মেয়েটির মায়ের কাছে ফোন আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে এক লোক বলেন, আপনার মেয়ের সঙ্গে কথা বলুন- এতে মেয়েটির মা আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করেন। আমার মেয়ে তো খুন হয়েছে। ওই লোক তখন মেয়েকে ফোন ধরিয়ে দেন।

মেয়েটি তখন তার মাকে বলে- আমি বেঁচে আছি। তোমরা আমাকে ৪ হাজার টাকা পাঠাও; আমি চলে আসব। মেয়ের সঙ্গে কথা শেষ করে মা ফোনে যোগাযোগ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে। পুলিশের পরামর্শে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠান ওই দোকানে। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই দোকানে যায় পুলিশ। মেয়েকে টাকা নেয়ার জন্য আসতে বলেন। পরে মেয়েটি দোকানে এলে তাকে উদ্ধার করে থানার আনা হয়।

মেয়েটি পুলিশকে জানায়, ইকবাল নামে এক ছেলেকে দেড় মাস আগে বিয়ে করে বন্দরের কুশিয়ারা এলাকায় বসবাস করছে তারা। পরে ফোর্স পাঠিয়ে ইকবালকে আটক করে থানায় আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয় মেয়েটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে না পেয়ে গত ৬ আগস্ট সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন মেয়েটির বাবা। তদন্তের দায়িত্ব পান সদর মডেল থানায় পরিদর্শক শামীম আল মামুন।

এ ব্যাপারে গ্রেফতার রকিবের মা রাশিদা জানান, আমার ছেলেকে বিনাঅপরাধে মারধর করল। আবার টাকাও নিল। বিনাদোষে জেলে বন্দি করা হল। আমি এর বিচার চাই।

রকিবের ভাই সজিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম রিমান্ডে এনে তার ভাইকে মারধর এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে সোমবার ২০ হাজার টাকা নেয়। একইভাবে ভয় দেখিয়ে কয়েক দিন আগেও ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সে রিমান্ডে এনে মারধরের হুমকি দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার হুমকি দেয়।

এলাকাবাসী জানান, মোবাইলে ফেসবুকের মাধ্যমে মেয়েটির পরিচয় হয় বন্দরের বুরুমদি এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আবদুল্লার সঙ্গে। ৪ জুলাই ভাগ্নে রকিবের মোবাইল ফোনে মেয়েটিকে ডেকে আনে আবদুল্লাহ। সারাদিন আবদুল্লাহর সঙ্গে অটোরিকশা ও নৌকায় ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় মেয়েটি।

‘গণধর্ষণের পর হত্যা’র শিকার কিশোরীকে ‘জীবিত’ উদ্ধার!

 নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর প্রতিনিধি 
২৪ আগস্ট ২০২০, ০৬:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্দরে গণধর্ষণের পর হত্যার শিকার এক কিশোরীকে দেড় মাস পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়। এক মাস পর মামলা হলে পুলিশ বন্দর এলাকা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- বন্দরের বুরুমদি এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ (২২), বুরুমদি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক রকিব (১৯) ও বন্দরের ইস্পাহানি এলাকার নৌকার মাঝি খলিল (৩৬)। কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে গ্রেফতারকৃত ৩ জন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলহাজতে রয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা গত ৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবিরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়। 

এদিকে বিনাঅপরাধে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি চেয়েছে তাদের পরিবার। রকিবের বড় ভাই সজিব জানান, রিমান্ড এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে দুইবারে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, রোববার বন্দরের কুশিয়ারা এলাকার একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে মেয়েটির মায়ের কাছে ফোন আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে এক লোক বলেন, আপনার মেয়ের সঙ্গে কথা বলুন- এতে মেয়েটির মা আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করেন। আমার মেয়ে তো খুন হয়েছে। ওই লোক তখন মেয়েকে ফোন ধরিয়ে দেন।

মেয়েটি তখন তার মাকে বলে- আমি বেঁচে আছি। তোমরা আমাকে ৪ হাজার টাকা পাঠাও; আমি চলে আসব। মেয়ের সঙ্গে কথা শেষ করে মা ফোনে যোগাযোগ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে। পুলিশের পরামর্শে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠান ওই দোকানে। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই দোকানে যায় পুলিশ। মেয়েকে টাকা নেয়ার জন্য আসতে বলেন। পরে মেয়েটি দোকানে এলে তাকে উদ্ধার করে থানার আনা হয়।

মেয়েটি পুলিশকে জানায়, ইকবাল নামে এক ছেলেকে দেড় মাস আগে বিয়ে করে বন্দরের কুশিয়ারা এলাকায় বসবাস করছে তারা। পরে ফোর্স পাঠিয়ে ইকবালকে আটক করে থানায় আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয় মেয়েটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে না পেয়ে গত ৬ আগস্ট সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন মেয়েটির বাবা। তদন্তের দায়িত্ব পান সদর মডেল থানায় পরিদর্শক শামীম আল মামুন।

এ ব্যাপারে গ্রেফতার রকিবের মা রাশিদা জানান, আমার ছেলেকে বিনাঅপরাধে মারধর করল। আবার টাকাও নিল। বিনাদোষে জেলে বন্দি করা হল। আমি এর বিচার চাই।

রকিবের ভাই সজিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম রিমান্ডে এনে তার ভাইকে মারধর এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে সোমবার ২০ হাজার টাকা নেয়। একইভাবে ভয় দেখিয়ে কয়েক দিন আগেও ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সে রিমান্ডে এনে মারধরের হুমকি দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার হুমকি দেয়।

এলাকাবাসী জানান, মোবাইলে ফেসবুকের মাধ্যমে মেয়েটির পরিচয় হয় বন্দরের বুরুমদি এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আবদুল্লার সঙ্গে। ৪ জুলাই ভাগ্নে রকিবের মোবাইল ফোনে মেয়েটিকে ডেকে আনে আবদুল্লাহ। সারাদিন আবদুল্লাহর সঙ্গে অটোরিকশা ও নৌকায় ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় মেয়েটি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন