শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে টিকটক ভিডিও, কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্য গ্রেফতার
jugantor
শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে টিকটক ভিডিও, কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্য গ্রেফতার

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ আগস্ট ২০২০, ২২:৫৭:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নিজেরা সেলিব্রেটি হতে গিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে মাদকসেবন করিয়ে টিকটক ভিডিওচিত্র ধারণ করায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার গ্রেফতারকৃতদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, গোটা বিষয়টি আসার পরপরই গোয়েন্দা ও থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দিলে সোমবার কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হল- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাগলপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মনির হোসেন, একই উপজেলার বাদাঘাট (কাশতাল চরগাঁও) গ্রামের হাবিবুর রহমান সংগ্রামের ছেলে মজিবুর রহমান সাগর, কামড়াবন্দ গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার ছেলে তোফিকুল ইসলাম রনি, বাদাঘাট গ্রামের আবদুর রহমান শেখের ছেলে আলম শেখ, একই গ্রামের আনোয়ারের ছেলে আনিসুল বারি তারেক, পৈলনপুর গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে মোজাম্মেল হক, বাদাঘাট বাজারের খোরশেদ আলমের ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, নাজির হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান দিপু।

রোববার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের নেকবর মিয়ার ছেলে মোশারফ ওরফে আরিয়ান, একই গ্রামের মৃত ছাত্তারের ছেলে জিসান ওরফে বকুলকে পলাতক আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা ও ভিকটিমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউরগড় (ঢালারপাড়) গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের ১৩ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুসন্তান শরিফ মিয়াকে মাদকসেবন করিয়ে গলায় ধারালো দা ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে টিকটকের জন্য একাধিবার ভিডিওচিত্র ধারণ করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। চলতি বছরের জুলাই হতে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রগুলো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ, টিকটকে, ইউটিউবে পোস্ট করে।

এ ধরনের আপত্তিকর, ভীতিকর বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি তোলেন তারা।

এ ঘটনায় শনিবার ‘বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স’ নামে একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ হতে ফের ভিডিওচিত্র পোস্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি রোববার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত থানার ওসি মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ, বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

সোমবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রথমত প্রতিটি পরিবার থেকেই কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার পথ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এরপর আইনি ব্যবস্থা তো রয়েছেই।

তিনি আরও বলেন, মাদক, চোরাচালান, ইভটিজিং, বখাটেপনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজিসহ যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে জেলার সব থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে তৎপরতা রাখা হয়েছে।

শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে টিকটক ভিডিও, কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্য গ্রেফতার

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ আগস্ট ২০২০, ১০:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নিজেরা সেলিব্রেটি হতে গিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে মাদকসেবন করিয়ে টিকটক ভিডিওচিত্র ধারণ করায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার গ্রেফতারকৃতদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, গোটা বিষয়টি আসার পরপরই গোয়েন্দা ও থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দিলে সোমবার কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হল- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাগলপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মনির হোসেন, একই উপজেলার বাদাঘাট (কাশতাল চরগাঁও) গ্রামের হাবিবুর রহমান সংগ্রামের ছেলে মজিবুর রহমান সাগর, কামড়াবন্দ গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার ছেলে তোফিকুল ইসলাম রনি, বাদাঘাট গ্রামের আবদুর রহমান শেখের ছেলে আলম শেখ, একই গ্রামের আনোয়ারের ছেলে আনিসুল বারি তারেক, পৈলনপুর গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে মোজাম্মেল হক, বাদাঘাট বাজারের খোরশেদ আলমের ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, নাজির হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান দিপু।

রোববার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের নেকবর মিয়ার ছেলে মোশারফ ওরফে আরিয়ান, একই গ্রামের মৃত ছাত্তারের ছেলে জিসান ওরফে বকুলকে পলাতক আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা ও ভিকটিমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউরগড় (ঢালারপাড়) গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের ১৩ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুসন্তান শরিফ মিয়াকে মাদকসেবন করিয়ে গলায় ধারালো দা ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে টিকটকের জন্য একাধিবার ভিডিওচিত্র ধারণ করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। চলতি বছরের জুলাই হতে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রগুলো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ, টিকটকে, ইউটিউবে পোস্ট করে।

এ ধরনের আপত্তিকর, ভীতিকর বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি তোলেন তারা।

এ ঘটনায় শনিবার ‘বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স’ নামে একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ হতে ফের ভিডিওচিত্র পোস্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি রোববার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত থানার ওসি মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ, বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

সোমবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রথমত প্রতিটি পরিবার থেকেই কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার পথ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এরপর আইনি ব্যবস্থা তো রয়েছেই।

তিনি আরও বলেন, মাদক, চোরাচালান, ইভটিজিং, বখাটেপনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজিসহ যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে জেলার সব থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে তৎপরতা রাখা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন