‘রিয়েল লাইফ হিরো’ আঁখির চোখে মানবকল্যাণের স্বপ্ন
jugantor
‘রিয়েল লাইফ হিরো’ আঁখির চোখে মানবকল্যাণের স্বপ্ন

  খুলনা ব্যুরো  

২৫ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৫:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

সতেরো বছর বয়সের কিশোরী আঁখি। খুলনার রূপসাচরের বাসিন্দা শ্রমজীবী পিতা মাসুদ মোল্লা বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ। আর মা আনোয়ারা বেগম মাছ কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন। এ দম্পতির তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে আঁখি দ্বিতীয়।

খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের চরের এই কিশোরী আঁখির বড় স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্ব দরবারে। সে জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ খেতাব পেয়েছে।

এর আগে বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে ১৯ আগস্ট জাতিসংঘ আঁখিসহ বাংলাদেশের চারজনকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। মূলত চলমান করোনার শুরুতে মাস্ক তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি ও দরিদ্রদের মধ্যে ফ্রি বিতরণের স্বীকৃতি হিসেবেই এ খেতাব মিলেছে তার।

এদিকে ছোট্ট আঁখির বড় স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে খুশির আমেজ বিরাজ করছে তার দরিদ্র পরিবারে। বিবিসি থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে অভিনন্দন জানানোসহ তার স্বপ্নপূরণের আশ্বাসে আঁখিকে নিয়ে গর্বিত তার বাবা-মা।

আঁখির চোখে-মুখে এখন মানুষের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন। ভালো সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে সে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ও ঝরেপড়া দরিদ্র শিশুদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার করার ইচ্ছা পোষণ করেছে।

খুলনার রূপসা ঘাটপাড় হয়ে ডানদিকে (পূর্ব রূপসা) বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক। এ সড়ক দিয়ে ১ কিলোমিটার পর আব্দুর রব মোড়। সেখান থেকে বাঁ-দিকে ১শ’ গজ গিয়ে আবারও বাঁয়ে ১শ’ গজ ইটের রাস্তা। এবার ডানদিকে কয়েক গজ যেতেই দেখা যাবে ছোট্ট একটা দোকানে মাস্ক, বিভিন্ন হস্তশিল্পের জিনিসপত্র, এছাড়াও রয়েছে ছোটদের খাবার। এ দোকানে বসে বেচাকেনা করেন আঁখির বাবা শারীরিকভাবে অক্ষম মাসুদ মোল্লা।

এক সময় মাছ কোম্পানিতে (চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা) কাজ করতেন তিনি। তার মা আনোয়ারা বেগম এখনও মাছ কোম্পানিতে কাজ করেন। বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে আঁখিরা তার খালার জমিতে বসবাস করে। যেখানে ঝুপড়ি ঘরে কোনো রকমের মাথাগোঁজার ঠাঁই তৈরি করে।

জানা গেছে, আঁখি স্থানীয় বামগারা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করেছে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় ৪-৫ বছর আগে সেও বড় বোনের সঙ্গে মাছ কোম্পানিতে কাজ নেয়। পরে ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র ‘জীবনের জন্য প্রকল্প’ থেকে দর্জি প্রশিক্ষণ নিয়ে সেলাই কাজ করে সংসারে রোজগার বাড়াতে থাকে আঁখি।

আঁখি জানায়, যখন করোনাভাইরাস শুরু হয়েছিল, বাজারে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে পাওয়া গেলেও দাম ছিল অনেক। আমাদের এলাকার দরিদ্র লোকেরা তা কিনতে পারতো না। তখন আমি নিজেই মাস্ক তৈরি করে কম দামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। যাতে এলাকার গরিব মানুষসহ সবাই মাস্ক পরতে পারে। আবার যারা কিনতে পারে না তাদের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করি। ওয়ার্ল্ড ভিশন থেকে পাওয়া দর্জি কাজের প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দিয়েই আমি এ কাজ করতে সক্ষম হই।

আঁখি তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বিষয়ে বলে, ভালো সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে সে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে চায়। একই সঙ্গে তার মতো ঝরেপড়া দরিদ্র শিশুদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। তার ইচ্ছা পূরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য (খুলনা-৪ রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া), সাবেক ফুটবলার ও শিল্পপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানায় আঁখি।

ছোট্ট আঁখির বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিতে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মা আনোয়ারা বেগম বলেন, বস্তিতে থেকে আমার মেয়ে এমন সুনাম আনবে আমি ভাবতেও পারিনি। ওর (আঁখি) বাবা অনেক অসুস্থ। তেমন একটা হাঁটতে-চলতে পারে না। আমিও মাছ কোম্পানিতে কাজ করি। আঁখি যেন ভবিষ্যতে দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু করতে পারে- এ আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সাউদার্ন রিজিওনের রিজিওনাল কমিউনিকেশন্স কো-অর্ডিনেটর সুবর্ণ চিসিম জানান, ২০১৮ সালে রূপসার একটা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় আঁখির সন্ধান মেলে। তাকে আমরা স্কুলে ভর্তি করার উদ্যোগ নেই। কিন্তু তার বয়স বেশি হওয়ায় তাকে ভর্তি করা যায়নি। কিন্তু তার আগ্রহ দেখে ‘জীবনের জন্য প্রকল্প’র মাধ্যমে তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করি। প্রশিক্ষণ শেষে আঁখিকে সেলাই মেশিন ও কিছু থান কাপড় দেয়া হয়। সে এই করোনা মহামারীকালে মাস্ক তৈরি করে কম দামে গরিব লোকদের কাছে বিক্রি করেছে। অনেককে বিনামূল্যে মাস্ক দিয়েছে। জাতিসংঘ তার এই মহৎ কাজের স্বীকৃতি দেয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, রূপসাচরের আঁখি এখন রূপসা তথা খুলনাবাসীর গর্ব। এ কারণে তাকে বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া তার ইচ্ছা পূরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ কর্তৃক ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের অন্য তিন যুবক হলেন- প্রাক্তন ডাকসু সদস্য তানবীর হাসান সৈকত, ব্র্যাকের প্রকৌশলী রিজভী হাসান এবং অনুবাদক সিফাত নূর।

‘রিয়েল লাইফ হিরো’ আঁখির চোখে মানবকল্যাণের স্বপ্ন

 খুলনা ব্যুরো 
২৫ আগস্ট ২০২০, ১০:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সতেরো বছর বয়সের কিশোরী আঁখি। খুলনার রূপসাচরের বাসিন্দা শ্রমজীবী পিতা মাসুদ মোল্লা বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ। আর মা আনোয়ারা বেগম মাছ কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন। এ দম্পতির তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে আঁখি দ্বিতীয়।

খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের চরের এই কিশোরী আঁখির বড় স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্ব দরবারে। সে জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ খেতাব পেয়েছে।

এর আগে বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে ১৯ আগস্ট জাতিসংঘ আঁখিসহ বাংলাদেশের চারজনকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। মূলত চলমান করোনার শুরুতে মাস্ক তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি ও দরিদ্রদের মধ্যে ফ্রি বিতরণের স্বীকৃতি হিসেবেই এ খেতাব মিলেছে তার।

এদিকে ছোট্ট আঁখির বড় স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে খুশির আমেজ বিরাজ করছে তার দরিদ্র পরিবারে। বিবিসি থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে অভিনন্দন জানানোসহ তার স্বপ্নপূরণের আশ্বাসে আঁখিকে নিয়ে গর্বিত তার বাবা-মা।

আঁখির চোখে-মুখে এখন মানুষের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন। ভালো সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে সে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ও ঝরেপড়া দরিদ্র শিশুদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার করার ইচ্ছা পোষণ করেছে।

খুলনার রূপসা ঘাটপাড় হয়ে ডানদিকে (পূর্ব রূপসা) বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক। এ সড়ক দিয়ে ১ কিলোমিটার পর আব্দুর রব মোড়। সেখান থেকে বাঁ-দিকে ১শ’ গজ গিয়ে আবারও বাঁয়ে ১শ’ গজ ইটের রাস্তা। এবার ডানদিকে কয়েক গজ যেতেই দেখা যাবে ছোট্ট একটা দোকানে মাস্ক, বিভিন্ন হস্তশিল্পের জিনিসপত্র, এছাড়াও রয়েছে ছোটদের খাবার। এ দোকানে বসে বেচাকেনা করেন আঁখির বাবা শারীরিকভাবে অক্ষম মাসুদ মোল্লা।

এক সময় মাছ কোম্পানিতে (চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা) কাজ করতেন তিনি। তার মা আনোয়ারা বেগম এখনও মাছ কোম্পানিতে কাজ করেন। বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে আঁখিরা তার খালার জমিতে বসবাস করে। যেখানে ঝুপড়ি ঘরে কোনো রকমের মাথাগোঁজার ঠাঁই তৈরি করে।

জানা গেছে, আঁখি স্থানীয় বামগারা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করেছে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় ৪-৫ বছর আগে সেও বড় বোনের সঙ্গে মাছ কোম্পানিতে কাজ নেয়। পরে ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র ‘জীবনের জন্য প্রকল্প’ থেকে দর্জি প্রশিক্ষণ নিয়ে সেলাই কাজ করে সংসারে রোজগার বাড়াতে থাকে আঁখি।

আঁখি জানায়, যখন করোনাভাইরাস শুরু হয়েছিল, বাজারে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে পাওয়া গেলেও দাম ছিল অনেক। আমাদের এলাকার দরিদ্র লোকেরা তা কিনতে পারতো না। তখন আমি নিজেই মাস্ক তৈরি করে কম দামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। যাতে এলাকার গরিব মানুষসহ সবাই মাস্ক পরতে পারে। আবার যারা কিনতে পারে না তাদের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করি। ওয়ার্ল্ড ভিশন থেকে পাওয়া দর্জি কাজের প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দিয়েই আমি এ কাজ করতে সক্ষম হই।

আঁখি তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বিষয়ে বলে, ভালো সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে সে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে চায়। একই সঙ্গে তার মতো ঝরেপড়া দরিদ্র শিশুদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। তার ইচ্ছা পূরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য (খুলনা-৪ রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া), সাবেক ফুটবলার ও শিল্পপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানায় আঁখি।

ছোট্ট আঁখির বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিতে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মা আনোয়ারা বেগম বলেন, বস্তিতে থেকে আমার মেয়ে এমন সুনাম আনবে আমি ভাবতেও পারিনি। ওর (আঁখি) বাবা অনেক অসুস্থ। তেমন একটা হাঁটতে-চলতে পারে না। আমিও মাছ কোম্পানিতে কাজ করি। আঁখি যেন ভবিষ্যতে দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু করতে পারে- এ আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সাউদার্ন রিজিওনের রিজিওনাল কমিউনিকেশন্স কো-অর্ডিনেটর সুবর্ণ চিসিম জানান, ২০১৮ সালে  রূপসার একটা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় আঁখির সন্ধান মেলে। তাকে আমরা স্কুলে ভর্তি করার উদ্যোগ নেই। কিন্তু তার বয়স বেশি হওয়ায় তাকে ভর্তি করা যায়নি। কিন্তু তার আগ্রহ দেখে ‘জীবনের জন্য প্রকল্প’র মাধ্যমে তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করি। প্রশিক্ষণ শেষে আঁখিকে সেলাই মেশিন ও কিছু থান কাপড় দেয়া হয়। সে এই করোনা মহামারীকালে মাস্ক তৈরি করে কম দামে গরিব লোকদের কাছে বিক্রি করেছে। অনেককে বিনামূল্যে মাস্ক দিয়েছে। জাতিসংঘ তার এই মহৎ কাজের স্বীকৃতি দেয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, রূপসাচরের আঁখি এখন রূপসা তথা খুলনাবাসীর গর্ব। এ কারণে তাকে বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া তার ইচ্ছা পূরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ কর্তৃক ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের অন্য তিন যুবক হলেন- প্রাক্তন ডাকসু সদস্য তানবীর হাসান সৈকত, ব্র্যাকের প্রকৌশলী রিজভী হাসান এবং অনুবাদক সিফাত নূর।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন