নাগর নদীতে কুমির আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ
jugantor
নাগর নদীতে কুমির আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

২৬ আগস্ট ২০২০, ১৪:৩৮:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

নাগর নদীতে কুমির আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার ভারত সীমান্তসংলগ্ন নাগর নদীতে কুমিরের দেখা মিলেছে। কুমিরগুলো লম্বায় ৬-৭ ফুট। ওজনে ৫০-৬০ কেজি। কোনটা আবার আকারে ছোট।

নদীতে কুমির দেখার পর জেলেরা প্রাণের ভয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামছে না। কুমির আতঙ্কে ভুগছেন গ্রামবাসী।

নাগর নদীসংলগ্ন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিটালডোবা গ্রামের সমিরউদ্দিন জানান, সোমবার বিকালে স্থানীয়রা ওই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক দেখতে পায় ওই নদীতে একটি কুমির ভাসছে। কুমি দেখে জেলেরা চিৎকার করলে এলাকার শত শত মানুষ সেখানে ছুটে যান।

উত্তর নিটালডোবা গ্রামের হালিমার মেয়ে লাবনী বলেন, তিনি দূর থেকে কুমিরটির ছবি তুলেছেন। তবে অনেক মানুষের সমাগম দেখে মুহূতের মধ্যে কুমিরটি পানিতে ডুব দিলে আর দেখা যায়নি।

গ্রিনল্যান্ড টি কোম্পানির মালিক ফয়জুর রহমান বলেন, ওই নদীতে কুমির রয়েছে। তবে নিদিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

পাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান, ৬-৭ দিন আগে হরিপুর উপজেলার জাদুরাণী এলাকায় একই নদীতে স্থানীয়রা কুমির দেখতে পান।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) ডাবরী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, পাঁচ-ছয়টা কুমির দেখা মিলেছে। তারা এ ব্যাপারে স্থানীয় জেলেদের নদীতে নামতে সতর্ক করেছেন।

এ বছর বন্যায় এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে কুমিরগুলো ভারত থেকে এই নদীতে ঢুকে পড়ে বলে এ মন্তব্য করেন গেদুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ।

তবে তিনি বলেন, এখন নদীর পানি কমে যাওয়ায় কুমিরগুলো নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের জন্য ছোটাছুটি করছে।

বরুয়াল গ্রামের আবদুল মতিন বলেন, এলাকার ৫০টি পরিবার নদীতে মাছ ধরে সংসার চালায়। কুমির দেখে এখন তারা নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। এ ছাড়া কৃষকরা নদীর ওপারে গিয়ে ক্ষেত-খামারের পরিচর্যা করতে এবং গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়াতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, তিন দিন আগে কুমির দেখা মিললেও এখন নেই।

জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা আফতাব হোসেন বলেন, সরেজমিন দেখে জেলেদের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

নাগর নদীতে কুমির আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
২৬ আগস্ট ২০২০, ০২:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নাগর নদীতে কুমির আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ
ছবি: যুগান্তর

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার ভারত সীমান্তসংলগ্ন নাগর নদীতে কুমিরের দেখা মিলেছে। কুমিরগুলো লম্বায় ৬-৭ ফুট। ওজনে ৫০-৬০ কেজি। কোনটা আবার আকারে ছোট।

নদীতে কুমির দেখার পর জেলেরা প্রাণের ভয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামছে না। কুমির আতঙ্কে ভুগছেন গ্রামবাসী।

নাগর নদীসংলগ্ন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিটালডোবা গ্রামের সমিরউদ্দিন জানান, সোমবার বিকালে স্থানীয়রা ওই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক দেখতে পায় ওই নদীতে একটি কুমির ভাসছে।  কুমি দেখে জেলেরা চিৎকার করলে এলাকার শত শত মানুষ সেখানে ছুটে যান।

উত্তর নিটালডোবা গ্রামের হালিমার মেয়ে লাবনী বলেন, তিনি দূর থেকে কুমিরটির ছবি তুলেছেন। তবে অনেক মানুষের সমাগম দেখে মুহূতের মধ্যে কুমিরটি পানিতে ডুব দিলে আর দেখা যায়নি।

গ্রিনল্যান্ড টি কোম্পানির মালিক ফয়জুর রহমান বলেন, ওই নদীতে কুমির রয়েছে। তবে নিদিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

পাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান, ৬-৭ দিন আগে হরিপুর উপজেলার জাদুরাণী এলাকায় একই নদীতে স্থানীয়রা কুমির দেখতে পান।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) ডাবরী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, পাঁচ-ছয়টা কুমির দেখা মিলেছে। তারা এ ব্যাপারে স্থানীয় জেলেদের নদীতে নামতে সতর্ক করেছেন।

এ বছর বন্যায় এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে কুমিরগুলো ভারত থেকে এই নদীতে ঢুকে পড়ে বলে এ মন্তব্য করেন গেদুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ।

তবে তিনি বলেন, এখন নদীর পানি কমে যাওয়ায় কুমিরগুলো  নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের জন্য ছোটাছুটি করছে।

বরুয়াল গ্রামের আবদুল মতিন বলেন, এলাকার ৫০টি পরিবার নদীতে মাছ ধরে সংসার চালায়। কুমির দেখে এখন তারা নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। এ ছাড়া কৃষকরা নদীর ওপারে গিয়ে ক্ষেত-খামারের পরিচর্যা করতে এবং গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়াতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।  

বন বিভাগের কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, তিন দিন আগে কুমির দেখা মিললেও এখন নেই।

জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা আফতাব হোসেন বলেন, সরেজমিন দেখে জেলেদের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন