ব্রিটিশ আমলের পশু হাসপাতালটি এখন ডাস্টবিন!
jugantor
ব্রিটিশ আমলের পশু হাসপাতালটি এখন ডাস্টবিন!

  কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)  

২৭ আগস্ট ২০২০, ২০:৪৯:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বড়চরে জঙ্গলবেষ্টিত একটি স্থান রয়েছে। সেখানে আছে একটি পুরনো ভাঙা ভবন। বোঝার উপায় নেই এটি কোনো হাসপাতাল হতে পারে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখে মনে হয় এটি একটি ডাস্টবিন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি ছিল শায়েস্তাগঞ্জ পশু হাসপাতাল। প্রায় ২৮ শতাংশ জমির ওপর ১৯০৩ সালে হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মিত এ হাসপাতালে শায়েস্তাগঞ্জ অঞ্চলসহ প্রায় ১০টি চা বাগানের পশু চিকিৎসাসেবা চলে আসছিল।

জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুরত অবস্থায় এরশাদ সরকারের আমলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে হাসপাতালটির এ করুণ পরিণতি ঘটে। হাসপাতালটি এখন পরিত্যক্ত। কিছু লোক ভাগাড় হিসেবে এটি ব্যবহার করছে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপে হাসপাতালটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এর পাশ দিয়ে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়। দেখলে বোঝা কঠিন যে এটি ছিল পশু হাসপাতাল।

জানা গেছে, শুরুর পর দীর্ঘদিন এ হাসপাতালে একজন এসডিএলও, দুজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও একজন ভেটেরিনারি সহকারী পশু চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করতেন। একে একে এ হাসপাতাল থেকে সবাই অন্যত্র চলে যান। এরপরও একজন ভেটেরিনারি সহকারীর মাধ্যমে শুধু কৃত্রিম প্রজনন চালু ছিল। এই ভেটেরিনারি সহকারী চলে গেলে সেখানে পশু চিকিৎসা কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

শায়েস্তাগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা এখনও কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সেই হিসেবে অনেকের গবাদিপশু রয়েছে। অনেকে আবার বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু লালন-পালন করছেন। কিন্তু চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পশুর মালিকরা। এ কারণে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় গবাদিপশু পালন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

শায়েস্তাগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুর রকিব বলেন, এক সময় বিসিএস ডাক্তার দিয়েই চলত এ হাসপাতালের কার্যক্রম। হাসপাতালের পাকা ভবনটি সেই মান্ধাতা আমলে ভেঙে পড়েছিল। এরপর বাঁশের বেড়া ও টিনের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় আরেকটি ভবন। কয়েক বছর আগে প্রবল ঝড়ে সেটিও ভেঙে পড়ে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় পশু চিকিৎসা কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে বলেন, যোগদান করে ভাড়া ভবন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। আমার সাথে সহকর্মী হিসেবে একজন উপসহকারী প্রাণী চিকিৎসক ডা. মো. বদিউজ্জামান রয়েছেন। আমরা কৃত্রিম প্রজনন, বিভিন্ন রকম ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে কিছু ওষুধও দিয়ে আসছি। আমাদের সুরঞ্জিত হালদার নামে একজন সহায়তা করে থাকেন। তিনি প্রতি মাসে ৪০-৫০টি কৃত্রিম প্রজনন সেবা বাসায় গিয়ে দিয়ে আসেন।

তিনি জানান, নতুন হাসপাতালের জন্য আমি হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছি, এখনো কোনো সাড়া পাইনি। যেহেতু শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা, সেহেতু একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের শায়েস্তাগঞ্জ ড্রাইভার বাজার এলাকায় বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। সেখানে করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ তালুকদার ইকবাল বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত আছি। শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা, নতুন হাসপাতাল হতে একটু সময় লাগবে, আস্তে আস্তে সবই হবে। এখানে গত ১৭ নভেম্বর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. রমাপদ দে। কিন্তু তার বসার স্থান না থাকায় পৌরসভার লেঞ্জাপাড়ায় একটি ভবন ভাড়া নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ব্রিটিশ আমলের পশু হাসপাতালটি এখন ডাস্টবিন!

 কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) 
২৭ আগস্ট ২০২০, ০৮:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বড়চরে জঙ্গলবেষ্টিত একটি স্থান রয়েছে। সেখানে আছে একটি পুরনো ভাঙা ভবন। বোঝার উপায় নেই এটি কোনো হাসপাতাল হতে পারে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখে মনে হয় এটি একটি ডাস্টবিন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি ছিল শায়েস্তাগঞ্জ পশু হাসপাতাল। প্রায় ২৮ শতাংশ জমির ওপর ১৯০৩ সালে হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মিত এ হাসপাতালে শায়েস্তাগঞ্জ অঞ্চলসহ প্রায় ১০টি চা বাগানের পশু চিকিৎসাসেবা চলে আসছিল।

জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুরত অবস্থায় এরশাদ সরকারের আমলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে হাসপাতালটির এ করুণ পরিণতি ঘটে। হাসপাতালটি এখন পরিত্যক্ত। কিছু লোক ভাগাড় হিসেবে এটি ব্যবহার করছে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপে হাসপাতালটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এর পাশ দিয়ে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়। দেখলে বোঝা কঠিন যে এটি ছিল পশু হাসপাতাল।

জানা গেছে, শুরুর পর দীর্ঘদিন এ হাসপাতালে একজন এসডিএলও, দুজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও একজন ভেটেরিনারি সহকারী পশু চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করতেন। একে একে এ হাসপাতাল থেকে সবাই অন্যত্র চলে যান। এরপরও একজন ভেটেরিনারি সহকারীর মাধ্যমে শুধু কৃত্রিম প্রজনন চালু ছিল। এই ভেটেরিনারি সহকারী চলে গেলে সেখানে পশু চিকিৎসা কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

শায়েস্তাগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা এখনও কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সেই হিসেবে অনেকের গবাদিপশু রয়েছে। অনেকে আবার বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু লালন-পালন করছেন। কিন্তু চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পশুর মালিকরা। এ কারণে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় গবাদিপশু পালন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

শায়েস্তাগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুর রকিব বলেন, এক সময় বিসিএস ডাক্তার দিয়েই চলত এ হাসপাতালের কার্যক্রম। হাসপাতালের পাকা ভবনটি সেই মান্ধাতা আমলে ভেঙে পড়েছিল। এরপর বাঁশের বেড়া ও টিনের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় আরেকটি ভবন। কয়েক বছর আগে প্রবল ঝড়ে সেটিও ভেঙে পড়ে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় পশু চিকিৎসা কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে বলেন, যোগদান করে ভাড়া ভবন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। আমার সাথে সহকর্মী হিসেবে একজন উপসহকারী প্রাণী চিকিৎসক ডা. মো. বদিউজ্জামান রয়েছেন। আমরা কৃত্রিম প্রজনন, বিভিন্ন রকম ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে কিছু ওষুধও দিয়ে আসছি। আমাদের সুরঞ্জিত হালদার নামে একজন সহায়তা করে থাকেন। তিনি প্রতি মাসে ৪০-৫০টি কৃত্রিম প্রজনন সেবা বাসায় গিয়ে দিয়ে আসেন।

তিনি জানান, নতুন হাসপাতালের জন্য আমি হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছি, এখনো কোনো সাড়া পাইনি। যেহেতু শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা, সেহেতু একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের শায়েস্তাগঞ্জ ড্রাইভার বাজার এলাকায় বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। সেখানে করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ তালুকদার ইকবাল বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত আছি। শায়েস্তাগঞ্জ নতুন উপজেলা, নতুন হাসপাতাল হতে একটু সময় লাগবে, আস্তে আস্তে সবই হবে। এখানে গত ১৭ নভেম্বর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. রমাপদ দে। কিন্তু তার বসার স্থান না থাকায় পৌরসভার লেঞ্জাপাড়ায় একটি ভবন ভাড়া নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন