জিনের বাদশার দুই সহযোগী গ্রেফতার
jugantor
জিনের বাদশার দুই সহযোগী গ্রেফতার

  টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

২৭ আগস্ট ২০২০, ২২:১৮:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

জ্বীনের বাদশা

মাদারীপুর জেলা পুলিশের একটি দল প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা থেকে জিনের বাদশার সহযোগী দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হল- চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত মনিরুল হকের ছেলে জিনের সহযোগী জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬) ও একই থানার বাগওয়ান লাম্বুরহাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমান (২২)।

মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাকের স্ত্রী মোসা. রহিমা বেগম গত ৯ আগস্ট সদর মডেল থানায় প্রতারণার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আনন্দ টিভি ও বাংলা টিভির বিজ্ঞাপন দেখে জানতে পারেন যে, তাদের কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করলে এলার্জি, চর্মরোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন দেখে মোবাইল নম্বরে ফোন করলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জানায়, তাহার গুরুজীর সাথে কথা বললে সব সমস্যা সমাধান করে দিবেন। গুরুজীর সাথে কথা বলার চার্জ হিসেবে ৩২০ টাকা দিতে হবে। সেই থেকে তিনি গুরুজীর সাথে কথা বলে তার পাঠানো তাবিজ ও ওষুধ সেবন করতে থাকেন। গুরুজী জিন নিয়ে খেলা করে বলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ টাকার লোভ দেখায় রহিমা বেগমকে। পরবর্তীতে জিন দ্বারা তার ছেলেমেয়ে, নাতি, নাতনিদের ক্ষতি করার কথা বলে পর্যায়ক্রমে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় জিনের বাদশা ও তার সদস্যরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার এসআই হাদী মো. খসরুজ্জামান ও এসআই সুমন কমার আইচ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. মনিরুল হকের ছেলে জিনের সহযোগী জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬) ও একই থানার বাগওয়ান লাম্বুর হাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমানকে (২২) প্রতারকদের অফিস থেকে ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগমের প্রেরিত টাকার মধ্য হতে মোবাইলে থাকা ৪ লাখ এক হাজার টাকা জব্দ করা হয় এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। অত:পর আসামিদের মাদারীপুর নিয়ে এসে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রতারণার কথা বিজ্ঞ আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্যের মধ্যে প্রধান জিনের বাদশা আ. হাকিম চৌধুরীসহ অন্য সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর এলাকার এক মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নিয়ে গেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি দুইজন এসআইকে সাথে নিয়ে জিনের বাদশা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করার জন্য চট্টগ্রামের রাউজান থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদের গ্রেফতার করি। প্রতারক চক্রের এক একজন সদস্য প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রধান জিনের বাদশাকে খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারব বলে আমি আশাবাদী। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি বিলম্বে সাংবাদিকদের জানানো হল।

জিনের বাদশার দুই সহযোগী গ্রেফতার

 টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
২৭ আগস্ট ২০২০, ১০:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জ্বীনের বাদশা
জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬) ও  আব্দুর রহমান আমান (২২)।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের একটি দল প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা থেকে জিনের বাদশার সহযোগী দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হল- চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত মনিরুল হকের ছেলে জিনের সহযোগী জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬) ও  একই থানার বাগওয়ান লাম্বুরহাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমান (২২)।

মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাকের স্ত্রী মোসা. রহিমা বেগম গত ৯ আগস্ট সদর মডেল থানায় প্রতারণার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আনন্দ টিভি ও বাংলা টিভির বিজ্ঞাপন দেখে জানতে পারেন যে, তাদের কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করলে এলার্জি, চর্মরোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন দেখে মোবাইল নম্বরে ফোন করলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জানায়, তাহার গুরুজীর সাথে কথা বললে সব সমস্যা সমাধান করে দিবেন। গুরুজীর সাথে কথা বলার চার্জ হিসেবে ৩২০ টাকা দিতে হবে। সেই থেকে তিনি গুরুজীর সাথে কথা বলে তার পাঠানো তাবিজ ও ওষুধ সেবন করতে থাকেন। গুরুজী জিন নিয়ে খেলা করে বলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ টাকার লোভ দেখায় রহিমা বেগমকে। পরবর্তীতে জিন দ্বারা তার ছেলেমেয়ে, নাতি, নাতনিদের ক্ষতি করার কথা বলে পর্যায়ক্রমে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় জিনের বাদশা ও তার সদস্যরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার এসআই হাদী মো. খসরুজ্জামান ও এসআই সুমন কমার আইচ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. মনিরুল হকের ছেলে জিনের সহযোগী জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬) ও  একই থানার বাগওয়ান লাম্বুর হাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমানকে (২২) প্রতারকদের অফিস থেকে ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগমের প্রেরিত টাকার মধ্য হতে মোবাইলে থাকা ৪ লাখ এক হাজার টাকা জব্দ করা হয় এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।  অত:পর আসামিদের মাদারীপুর নিয়ে এসে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রতারণার কথা বিজ্ঞ আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্যের মধ্যে প্রধান জিনের বাদশা আ. হাকিম চৌধুরীসহ অন্য সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর এলাকার এক মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নিয়ে গেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি দুইজন এসআইকে সাথে নিয়ে জিনের বাদশা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করার জন্য চট্টগ্রামের রাউজান থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদের গ্রেফতার করি। প্রতারক চক্রের এক একজন সদস্য প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রধান জিনের বাদশাকে খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারব বলে আমি আশাবাদী। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি বিলম্বে সাংবাদিকদের জানানো হল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন