স্বামী-সন্তান নিয়ে ফিরলেন ৯ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া তানিয়া
jugantor
স্বামী-সন্তান নিয়ে ফিরলেন ৯ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া তানিয়া

  বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি   

২৯ আগস্ট ২০২০, ২২:০৭:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৪ সালে চট্রগ্রাম ট্রেন স্টেশনে বসে কাঁদছিল তানিয়া নামের এই মেয়েটি। তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর। সেখানে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা গ্রামের মুল্লুক মিয়ার চোখে পড়ে শিশু তানিয়াকে। দেখে বড় মায়া হয়। তাই শিশুটিকে নিয়ে যান নিজ গ্রামের বাড়িতে। সন্তানের মতো আদর যত্ন দিয়ে বড় করে তোলেন তানিয়াকে।

মাত্র ৯ বছর বয়সে চট্রগ্রামের বড় দীঘির আত্মীয়ের বাসা থেকে হারিয়ে যায় তানিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের নগরবাড়ির আলাউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া আক্তার ৬ বছর পর আবারও ফিরে পেয়েছেন তার বাবা-মাকে।

কিভাবে এতো বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরে এলো তানিয়া এবার সেই গল্পটা বলেন তিনি। পলাবান্ধা গ্রামের মুল্লুক মিয়ার বাড়িতে দেখা হয় একই গ্রামের বাচ্চা ভান্ডারীর ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে। সেই থেকে প্রেম। প্রেম থেকে গত বছর পরিণয় ঘটে তাদের।

বিয়ের পর থেকে মা-বাবার জন্য মন পুড়তে থাকে তানিয়ার। আর ভাবতে থাকে হয়তো মা-বাবাকে কোনোদিনও ফিরে পাবে না। কিন্তু কখনও কখনও ভাবনার সঙ্গে বাস্তবতা মেলে না। মা-বাবাকে ফিরে পাওয়ার সূত্রটা পাওয়া যায় কোরবানির হাটের সময়।

কোরবানীর গরু কিনতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দুধঘাটা গ্রামের রাশেদ যান দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ বাজারে। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় তানিয়ার স্বামীর। তখন তানিয়ার স্বামী সাগর জানান, তার শশুর বাড়ি কুমিল্লার ফরদাবাদে।

সেই সূত্র ধরে রাশেদ অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কথা। গত ৭ জুলাই তানিয়ার মা বাবার কাছে গিয়ে তানিয়ার ছবি দেখায় রাশেদ। মা বাবাও তাকে চিনতে পারে।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তানিয়া স্বামী সাগর ও তার ৮ মাসের ছেলে তামিমকে নিয়ে হাজির হয় ফরদাবাদে। ৬ বছর পর সন্তানকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মা-বাবা।

তানিয়ার মা হনুফা বেগম যুগান্তরকে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন তার মেয়ে হয়তো মারা গেছে। ৬ বছর আগে হারিযে যাওয়ার পর অনেক পীর-ফকিরের কাছে গেছেন। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি মেয়ের। এখন নাতিসহ মেয়েকে কাছে পেয়ে ভীষণ খুশি তিনি।

তানিয়া যুগান্তরকে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মা-বাবার কথা মনে হলেই কান্না আসতো। শুধু গ্রামের নাম শুধু মনে ছিল। মা-বাবাকে কাছে পেয়ে এখন যন্ত্রণা মুক্ত হয়েছি।

স্বামী সাগর যুগান্তরকে বলেন, তানিয়াকে ভালো জেনে পরিচয় ছাড়াই বিয়ে করেছিলেন। প্রায়ই তার স্ত্রী কান্না করতো মা বাবার কথা মনে করে। আজকে তিনিও শ্বশুরবাড়ি ফিরে পেয়ে খুশি।

স্বামী-সন্তান নিয়ে ফিরলেন ৯ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া তানিয়া

 বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি  
২৯ আগস্ট ২০২০, ১০:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৪ সালে চট্রগ্রাম ট্রেন স্টেশনে বসে কাঁদছিল তানিয়া নামের এই মেয়েটি। তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর। সেখানে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা গ্রামের মুল্লুক মিয়ার চোখে পড়ে শিশু তানিয়াকে। দেখে বড় মায়া হয়। তাই শিশুটিকে নিয়ে যান নিজ গ্রামের বাড়িতে। সন্তানের মতো আদর যত্ন দিয়ে বড় করে তোলেন তানিয়াকে। 

মাত্র ৯ বছর বয়সে চট্রগ্রামের বড় দীঘির আত্মীয়ের বাসা থেকে হারিয়ে যায় তানিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের নগরবাড়ির আলাউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া আক্তার ৬ বছর পর আবারও ফিরে পেয়েছেন তার বাবা-মাকে।

কিভাবে এতো বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরে এলো তানিয়া এবার সেই গল্পটা বলেন তিনি। পলাবান্ধা গ্রামের মুল্লুক মিয়ার বাড়িতে দেখা হয় একই গ্রামের বাচ্চা ভান্ডারীর ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে। সেই থেকে প্রেম। প্রেম থেকে গত বছর পরিণয় ঘটে তাদের। 

বিয়ের পর থেকে মা-বাবার জন্য মন পুড়তে থাকে তানিয়ার। আর ভাবতে থাকে হয়তো মা-বাবাকে কোনোদিনও ফিরে পাবে না। কিন্তু কখনও কখনও ভাবনার সঙ্গে বাস্তবতা মেলে না। মা-বাবাকে ফিরে পাওয়ার সূত্রটা পাওয়া যায় কোরবানির হাটের সময়। 

কোরবানীর গরু কিনতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দুধঘাটা গ্রামের রাশেদ যান দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ বাজারে। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় তানিয়ার স্বামীর। তখন তানিয়ার স্বামী সাগর জানান, তার শশুর বাড়ি কুমিল্লার ফরদাবাদে। 

সেই সূত্র ধরে রাশেদ অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কথা। গত ৭ জুলাই তানিয়ার মা বাবার কাছে গিয়ে তানিয়ার ছবি দেখায় রাশেদ। মা বাবাও তাকে চিনতে পারে।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তানিয়া স্বামী সাগর ও তার ৮ মাসের ছেলে তামিমকে নিয়ে হাজির হয় ফরদাবাদে। ৬ বছর পর সন্তানকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মা-বাবা।

তানিয়ার মা হনুফা বেগম যুগান্তরকে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন তার মেয়ে হয়তো মারা গেছে। ৬ বছর আগে হারিযে যাওয়ার পর অনেক পীর-ফকিরের কাছে গেছেন। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি মেয়ের। এখন নাতিসহ মেয়েকে কাছে পেয়ে ভীষণ খুশি তিনি।

তানিয়া যুগান্তরকে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মা-বাবার কথা মনে হলেই কান্না আসতো। শুধু গ্রামের নাম শুধু মনে ছিল। মা-বাবাকে কাছে পেয়ে এখন যন্ত্রণা মুক্ত হয়েছি। 

স্বামী সাগর যুগান্তরকে বলেন, তানিয়াকে ভালো জেনে পরিচয় ছাড়াই বিয়ে করেছিলেন। প্রায়ই তার স্ত্রী কান্না করতো মা বাবার কথা মনে করে। আজকে তিনিও শ্বশুরবাড়ি ফিরে পেয়ে খুশি।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন