রোপণের মাত্র ১৫ দিনেই ধানে শীষ!
jugantor
রোপণের মাত্র ১৫ দিনেই ধানে শীষ!

  যতন মজুমদার, ফেনী  

৩১ আগস্ট ২০২০, ২০:৩৮:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেনীর বিএডিসির ভেজাল ধানের বীজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার হাজারও কৃষক। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ফেনী অফিস থেকে কেনা চলতি আমন মৌসুমের ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি কৃষকদের।

জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির সরবরাহ করা ধানের বীজে বিভিন্ন ধানের মিশ্রনসহ নিম্নজাতের হওয়ায় জমিতে কোনোটা পেকে গেছে আবার কোনোটির ধানের শীষ বের হয়ে গেছে। রোপণের ১৫ দিন হতে না হতেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। ফলে এই মৌসুমে জমিতে আর্থিক বিনিয়োগ ও শারীরিকভাবে শ্রম দিয়েও ফসল উঠছে না কৃষকের ঘরে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়লেও কৃষকদের এমন ক্ষতির দায়ভার নিতে চাইছে না কৃষি সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ।

সরেজমিন কথা হয় গ্রামের প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, তাদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা।

জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুণী এলাকার মাসুদুল হক চিশতী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে চাকরির চিন্তা বাদ দিয়ে নেমে পড়েন কৃষি কাজে। চলতি মৌসুমে ২০ একর জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু বিএডিসির বিআর-১১ ও ব্রি-৫১ জাতের বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সিলোনিয়ার হিরাপুরের আবুল কালাম ও অমৃত দাস বলেন, বিএডিসি থেকে বলা হয়- এ জাতের ধান উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের ধান গাছের জীবনকাল ১৪৫ দিনের মতো। কিন্তু রোপণের মাত্র ১৫ দিনেই ধানে শীষ চলে এসেছে। অপরিপক্ব এসব শীষে ধান নেই, আছে ভুষি।

জেলার ৬ উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় দুই শতাধিক একর জমিতে ধান চাষ করেছেন হাজারও কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির সিল রয়েছে এমন বস্তার বীজে ছিল বিভিন্ন ধানের মিশ্রণ। যার কারণে স্বল্প সময়ে কোনোটা পেকে নষ্ট হচ্ছে আবার কোনোটার শীষ বের হয়ে গেছে। ফলে ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে পড়ছে ফসলনির্ভর চাষীরা।

এলাকার আরেক কৃষক জানান, তিনি ১২০ শতক জমিতে বিআর-২২ জাতের ধান চাষ করেছেন। বীজ কিনেছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে। এক প্যাকেট ৩১০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে উন্নত জাতের। আর রোপণ করার পর দেখা যায় নিম্ন মানের এবং মিশ্র জাতের ধান।

ফেনীর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলে চলতি মৌসুমে ব্রি-৫১ জাতের ১৮ টন বীজ বিক্রি হয়; যা দিয়ে চাষ করা হয় ১৮০ একর জমি। তাদের বীজ নিয়ে যে অভিযোগ তা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, বিক্রয়ের সময় অবশ্যই রশিদ দেয়া হচ্ছে। আর রশিদ ছাড়া কোনো অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী পরিচালক (বীজ বিপণন) প্রণব আনন্দ ভৌমিক বলেন, বীজগুলো আমাদের ল্যাবে প্রত্যায়িত হয়ে যায়। ৮০ শতাংশ বীজ গজালেই তা কৃষক পর্যায়ে যায়। এর চেয়ে কম গজালে সে বীজ বিক্রি হয় না। কৃষক পর্যায়ে বিক্রির পর ৮০ শতাংশ না গজালে আমরা মাঠ পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এছাড়া অন্য সমস্যা হলে তা দেখবে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস।

বীজ বিক্রির পর রশিদ প্রদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, মেমো ছাড়া কোনো ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। বিএডিসি মেমো ছাড়া কোনো ধরনের বীজ বিক্রি করে না।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ভেজাল ও মিশ্রণ বীজের কারণে প্রায় শতাধিক একর জমির ধানে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

রোপণের মাত্র ১৫ দিনেই ধানে শীষ!

 যতন মজুমদার, ফেনী 
৩১ আগস্ট ২০২০, ০৮:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেনীর বিএডিসির ভেজাল ধানের বীজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার হাজারও কৃষক। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ফেনী অফিস থেকে কেনা চলতি আমন মৌসুমের ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি কৃষকদের।

জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির সরবরাহ করা ধানের বীজে বিভিন্ন ধানের মিশ্রনসহ নিম্নজাতের হওয়ায় জমিতে কোনোটা পেকে গেছে আবার কোনোটির ধানের শীষ বের হয়ে গেছে। রোপণের ১৫ দিন হতে না হতেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। ফলে এই মৌসুমে জমিতে আর্থিক বিনিয়োগ ও শারীরিকভাবে শ্রম দিয়েও ফসল উঠছে না কৃষকের ঘরে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়লেও কৃষকদের এমন ক্ষতির দায়ভার নিতে চাইছে না কৃষি সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ।

সরেজমিন কথা হয় গ্রামের প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, তাদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা।

জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুণী এলাকার মাসুদুল হক চিশতী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে চাকরির চিন্তা বাদ দিয়ে নেমে পড়েন কৃষি কাজে। চলতি মৌসুমে ২০ একর জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু বিএডিসির বিআর-১১ ও  ব্রি-৫১ জাতের বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।  

সিলোনিয়ার হিরাপুরের আবুল কালাম ও অমৃত দাস বলেন, বিএডিসি থেকে বলা হয়- এ জাতের ধান উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের ধান গাছের জীবনকাল ১৪৫ দিনের মতো। কিন্তু রোপণের মাত্র ১৫ দিনেই ধানে শীষ চলে এসেছে। অপরিপক্ব এসব শীষে ধান নেই, আছে ভুষি।

জেলার ৬ উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় দুই শতাধিক একর জমিতে ধান চাষ করেছেন হাজারও কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসির সিল রয়েছে এমন বস্তার বীজে ছিল বিভিন্ন ধানের মিশ্রণ। যার কারণে স্বল্প সময়ে কোনোটা পেকে নষ্ট হচ্ছে আবার কোনোটার শীষ বের হয়ে গেছে। ফলে ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে পড়ছে ফসলনির্ভর চাষীরা।

এলাকার আরেক কৃষক জানান, তিনি ১২০ শতক জমিতে বিআর-২২ জাতের ধান চাষ করেছেন। বীজ কিনেছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে। এক প্যাকেট ৩১০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে উন্নত জাতের। আর রোপণ করার পর দেখা যায় নিম্ন মানের এবং মিশ্র জাতের ধান।  

ফেনীর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলে চলতি মৌসুমে ব্রি-৫১ জাতের ১৮ টন বীজ বিক্রি হয়; যা দিয়ে চাষ করা হয় ১৮০ একর জমি। তাদের বীজ নিয়ে যে অভিযোগ তা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, বিক্রয়ের সময় অবশ্যই রশিদ দেয়া হচ্ছে। আর রশিদ ছাড়া কোনো অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী পরিচালক (বীজ বিপণন) প্রণব আনন্দ ভৌমিক বলেন, বীজগুলো আমাদের ল্যাবে প্রত্যায়িত হয়ে যায়। ৮০ শতাংশ বীজ গজালেই তা কৃষক পর্যায়ে যায়। এর চেয়ে কম গজালে সে বীজ বিক্রি হয় না। কৃষক পর্যায়ে বিক্রির পর ৮০ শতাংশ না গজালে আমরা মাঠ পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এছাড়া অন্য সমস্যা হলে তা দেখবে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস।

বীজ বিক্রির পর রশিদ প্রদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, মেমো ছাড়া কোনো ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। বিএডিসি মেমো ছাড়া কোনো ধরনের বীজ বিক্রি করে না।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ভেজাল ও মিশ্রণ বীজের কারণে প্রায় শতাধিক একর জমির ধানে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন