সাতক্ষীরার মকবুল পরিবার এখন তাঁবুর নিচে
jugantor
৩৫ বছরের বসতবাড়ি ভাংচুর
সাতক্ষীরার মকবুল পরিবার এখন তাঁবুর নিচে

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৭:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে পথে বসেছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার রাধানগর গ্রামের মকবুল হোসেন সরদার। তার বাড়িঘর ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে লুটপাট করার পর এখন তার শেষ আশ্রয় একটি তাঁবুর নিচে।

এ ঘটনায় আইনগত কোনো সহায়তা না পেয়ে মকবুল ও তার পরিবার হতাশ। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মকবুল হোসেন জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে তার বাবা দাউদ সরদার সাতক্ষীরার কামালনগরের মিয়ারাজ আলীর কাছ থেকে আড়াই শতক জমি ক্রয়ের বায়না বাবদ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় জমির মালিকের মৌখিক সম্মতি অনুযায়ী তিনি রাধানগরের ওই জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ওই জমির সে সময়কার মূল্য বাবদ বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন জানালে মিয়ারাজ আলীর ছেলে সালাম ও আবদুস সবুরসহ অন্যরা সেই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো তারা গ্রামের কিছু গুণ্ডাপাণ্ডা নিয়ে মকবুলের অনুপস্থিতিতে তার বাড়িঘর দুইবার ভাংচুর করে।

মকবুল হোসেন বলেন, সর্বশেষ গত শুক্রবার ৪০-৫০ জন লাঠিয়াল নিয়ে মিয়ারাজ আলীর ছেলেরা আমার বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির সদস্যদের জোর করে বের করে দিয়ে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে চলে যায়। এসব নিয়ে দফায় দফায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও মিয়ারাজের ছেলেরা তা মেনে নেয়নি।

এদিকে বসতবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করার অভিযোগ এনে মকবুল হোসেনের স্ত্রী পারভিন আক্তার সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা দেন কিন্তু পুলিশ ওই মামলা রেকর্ড করতেও অস্বীকৃতি জানায়।

এর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি দেওয়ানি পর্যায়ে পড়ে। প্রতিপক্ষও একটি পাল্টা মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, উভয়পক্ষকে মীমাংসা করে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।

মকবুল বলেন, এ মামলা না নেয়ায় বাড়ি ভাংচুরকারীরা আরও উৎসাহিত হয়েছে। তারা নতুন করে আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, তিনি এখন তার বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী পারভিন আক্তারসহ সন্তানদের নিয়ে একটি তাঁবুর নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি আইনগত সহায়তার পাশাপাশি এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

৩৫ বছরের বসতবাড়ি ভাংচুর

সাতক্ষীরার মকবুল পরিবার এখন তাঁবুর নিচে

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে পথে বসেছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার রাধানগর গ্রামের মকবুল হোসেন সরদার। তার বাড়িঘর ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে লুটপাট করার পর এখন তার শেষ আশ্রয় একটি তাঁবুর নিচে।

এ ঘটনায় আইনগত কোনো সহায়তা না পেয়ে মকবুল ও তার পরিবার হতাশ। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মকবুল হোসেন জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে তার বাবা দাউদ সরদার সাতক্ষীরার কামালনগরের মিয়ারাজ আলীর কাছ থেকে আড়াই শতক জমি ক্রয়ের বায়না বাবদ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় জমির মালিকের মৌখিক সম্মতি অনুযায়ী তিনি রাধানগরের ওই জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ওই জমির সে সময়কার মূল্য বাবদ বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন জানালে মিয়ারাজ আলীর ছেলে সালাম ও আবদুস সবুরসহ অন্যরা সেই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো তারা গ্রামের কিছু গুণ্ডাপাণ্ডা নিয়ে মকবুলের অনুপস্থিতিতে তার বাড়িঘর দুইবার ভাংচুর করে।

মকবুল হোসেন বলেন, সর্বশেষ গত শুক্রবার ৪০-৫০ জন লাঠিয়াল নিয়ে মিয়ারাজ আলীর ছেলেরা আমার বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির সদস্যদের জোর করে বের করে দিয়ে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে চলে যায়। এসব নিয়ে দফায় দফায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও মিয়ারাজের ছেলেরা তা মেনে নেয়নি।

এদিকে বসতবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করার অভিযোগ এনে মকবুল হোসেনের স্ত্রী পারভিন আক্তার সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা দেন কিন্তু পুলিশ ওই মামলা রেকর্ড করতেও অস্বীকৃতি জানায়।

এর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি দেওয়ানি পর্যায়ে পড়ে। প্রতিপক্ষও একটি পাল্টা মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, উভয়পক্ষকে মীমাংসা করে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।

মকবুল বলেন, এ মামলা না নেয়ায় বাড়ি ভাংচুরকারীরা আরও উৎসাহিত হয়েছে। তারা নতুন করে আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, তিনি এখন তার বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী পারভিন আক্তারসহ সন্তানদের নিয়ে একটি তাঁবুর নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি আইনগত সহায়তার পাশাপাশি এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন