মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বাবা-ছেলে, স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না
jugantor
মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বাবা-ছেলে, স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৮:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বাবা-ছেলে, স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না

নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৭ বছরের শিশু জুবায়েরের পর তার বাবা জুলহাসও মারা যান। হৃদয়বিদারক এমন মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে আত্মীয়-স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না।

এ খবর পেয়ে নিহত বাবা-ছেলের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাশফাকুর রহমান।

রোববার রাতে সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউএনও। পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগতভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন ইউএনও মাশফাকুর ।

এসময় তিনি বলেন, আমরা এই অসহায় পরিবারের পাশে আছি।

এরআগে রোববার বিকেলে ‘শিশু জুবায়েরের দাফনের আগেই চিরনিদ্রায় বাবা!’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্কারে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি নজরে এলে তাৎক্ষণিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনও। খোঁজ খবর নেন নিহত বাবা-ছেলের পরিবারের। ছুটে যান তাদের বাড়ি।

জানা গেছে, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের শুক্রবার এশার নামাজ আদায় করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে যান।

সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা ও ছেলে অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেয়া হলে ওইদিন রাত ১টায় ৭ বছরের শিশু জুবায়ের মারা যায়।

জোবায়েরের লাশ তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার ভোরে গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছায়। লাশ দাফনের প্রস্তুতিকালে খবর আসে, তার বাবা সলেমান জুলহাসও (২৮) মারা গেছেন।

ওইদিন সাড়ে ১০ টায় জুবায়েরের নামাজে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। আর জুলহাসের লাশ সোমবার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অভাবের কারণে জুলহাস ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকের কাজ করতেন জুলহাস।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রেণিতে এবার জুবায়েরকে ভর্তি করিয়েছিলেন।

ইউএনও মাশফাকুর রহমান বলেন, বাবা-ছেলেসহ রাঙ্গাবালীর চারজন মারা গেছেন। বাবা ছেলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাকি দুজনের পরিবারকেও কাল (সোমবার) দেয়া হবে। আমি জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। স্যার নিহতদের পরিবারকে খাস জমি দেবেন।

উল্লেখ্য, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন : ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বেলায়েত রাঢ়ীর ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক জামাল রাঢ়ী (৪০) ও সদর ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের সাজাহান প্যাদার ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক নিজাম প্যাদা (৩৫)।

মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বাবা-ছেলে, স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না

 রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বাবা-ছেলে, স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না
ছবি: যুগান্তর

নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৭ বছরের শিশু জুবায়েরের পর তার বাবা জুলহাসও মারা যান। হৃদয়বিদারক এমন মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে আত্মীয়-স্বজনদের আর্তনাদ যেন থামছে না।

এ খবর পেয়ে নিহত বাবা-ছেলের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাশফাকুর রহমান। 

রোববার রাতে সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউএনও। পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন তিনি। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগতভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন ইউএনও মাশফাকুর । 

এসময় তিনি বলেন, আমরা এই অসহায় পরিবারের পাশে আছি।

এরআগে রোববার বিকেলে ‘শিশু জুবায়েরের দাফনের আগেই চিরনিদ্রায় বাবা!’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্কারে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।  

প্রতিবেদনটি নজরে এলে তাৎক্ষণিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনও। খোঁজ খবর নেন নিহত বাবা-ছেলের পরিবারের। ছুটে যান তাদের বাড়ি। 

জানা গেছে, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের শুক্রবার এশার নামাজ আদায় করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে যান। 

সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা ও ছেলে অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেয়া হলে ওইদিন রাত ১টায় ৭ বছরের শিশু জুবায়ের মারা যায়।

জোবায়েরের লাশ তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার ভোরে গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছায়। লাশ দাফনের প্রস্তুতিকালে খবর আসে, তার বাবা সলেমান জুলহাসও (২৮) মারা গেছেন। 

ওইদিন সাড়ে ১০ টায় জুবায়েরের নামাজে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। আর জুলহাসের লাশ সোমবার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা জানান, অভাবের কারণে জুলহাস ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকের কাজ করতেন জুলহাস।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রেণিতে এবার জুবায়েরকে ভর্তি করিয়েছিলেন।

ইউএনও মাশফাকুর রহমান বলেন, বাবা-ছেলেসহ রাঙ্গাবালীর চারজন মারা গেছেন। বাবা ছেলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাকি দুজনের পরিবারকেও কাল (সোমবার) দেয়া হবে। আমি জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। স্যার নিহতদের পরিবারকে খাস জমি দেবেন।  

উল্লেখ্য, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। 

তারা হলেন : ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বেলায়েত রাঢ়ীর ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক জামাল রাঢ়ী (৪০) ও সদর ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের সাজাহান প্যাদার ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক নিজাম প্যাদা (৩৫)।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন