ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
jugantor
ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৬:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

কুস্টিয়া

কুষ্টিয়ায় এনআইডি জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এরই মধ্যে চক্রটি প্রায় তিন কোটি টাকার অন্যের জমি জালিয়াতি করে বিক্রি করে দিয়েছে। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনআইডি জালিয়াত চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হল- শহরের আড়পাড়া এলাকার খন্দকার আবুল হোসেনের ছেলে ওয়াদুদ ওরফে মিন্টু খন্দকার, কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়ার আতিয়ারের ছেলে মিলন হোসেন ও তার দুই বোন ছানোয়ারা খাতুন ও জাহানারা খাতুন। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এদিকে চক্রের সাথে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনের নাম উঠে আসায় শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি জালিয়াত চক্র কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। তবে ওই জমির প্রকৃত মালিক শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদ ও তার শরিকরা। জালিয়াত চক্রটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে রাতারাতি অন্যের জমির মালিক বনে যান। চক্রটি এখানেই থেমে থাকেনি, তারা শহরের এনএস রোডে আব্দুল ওয়াদুদের দোতলা বাড়িসহ কয়েকটি টাকা মূল্যের সম্পত্তিও একই কৌশলে বিক্রির চেষ্টা করছিল।
পুলিশ জানায়, চক্রটি শহরের মজমপুর, চৌড়হাস ও বাহাদুরখালী মৌজার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে আত্মসাতের চেষ্টা করে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রচারিত হলে জালিয়াত চক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। এ চক্রের অন্যতম হোতা কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনসহ অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
অন্যের জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রোববার রাতে শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকায় শহর যুবলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় দলীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দলের নেতাকর্মীরা জানান, আশরাফুজ্জামান বিএনপি আমলে ছাত্রদল করতেন। ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ১৫ মে ছাত্রদল নেতা সুজনকে আহবায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট শহর যুবলীগের কমিটি অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এরপর থেকে সুজন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি ন্যাশনাল আইডি কার্ড জালিয়াতি করে শহরের একাধিক স্থানে জমি ও বাড়ি দখলের অভিযোগ ওঠে সুজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের কারণে কমিটি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুবলীগ নেতা সুজন।

ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কুস্টিয়া
এনআইডি কার্ড তৈরীর জালিয়াত চক্র।

কুষ্টিয়ায় এনআইডি জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এরই মধ্যে চক্রটি প্রায় তিন কোটি টাকার অন্যের জমি জালিয়াতি করে বিক্রি করে দিয়েছে। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনআইডি জালিয়াত চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হল- শহরের আড়পাড়া এলাকার খন্দকার আবুল হোসেনের ছেলে ওয়াদুদ ওরফে মিন্টু খন্দকার, কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়ার আতিয়ারের ছেলে মিলন হোসেন ও তার দুই বোন ছানোয়ারা খাতুন ও জাহানারা খাতুন। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এদিকে চক্রের সাথে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনের নাম উঠে আসায় শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি জালিয়াত চক্র কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। তবে ওই জমির প্রকৃত মালিক  শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদ ও তার শরিকরা। জালিয়াত চক্রটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে রাতারাতি অন্যের জমির মালিক বনে যান। চক্রটি এখানেই থেমে থাকেনি, তারা শহরের এনএস রোডে আব্দুল ওয়াদুদের দোতলা বাড়িসহ কয়েকটি টাকা মূল্যের সম্পত্তিও একই কৌশলে বিক্রির চেষ্টা করছিল। 
পুলিশ জানায়, চক্রটি শহরের মজমপুর, চৌড়হাস ও বাহাদুরখালী মৌজার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে আত্মসাতের চেষ্টা করে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রচারিত হলে জালিয়াত চক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। এ চক্রের অন্যতম হোতা কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনসহ অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
অন্যের জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রোববার রাতে শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। 
জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকায় শহর যুবলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় দলীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে শহর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। 
দলের নেতাকর্মীরা জানান, আশরাফুজ্জামান বিএনপি আমলে ছাত্রদল করতেন। ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ১৫ মে ছাত্রদল নেতা সুজনকে আহবায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট শহর যুবলীগের কমিটি অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এরপর থেকে সুজন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি ন্যাশনাল আইডি কার্ড জালিয়াতি করে শহরের একাধিক স্থানে জমি ও বাড়ি দখলের অভিযোগ ওঠে সুজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের কারণে কমিটি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুবলীগ নেতা সুজন।
 

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন