সিরাজগঞ্জে এমপির জামাতার বিরুদ্ধে বিধবার জমি দখলের অভিযোগ
jugantor
সিরাজগঞ্জে এমপির জামাতার বিরুদ্ধে বিধবার জমি দখলের অভিযোগ

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:০৮:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের জামাতা মামুন রানার বিরুদ্ধে হামিদা বেগম নামে এক বিধবা নারীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মামুন রানা।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোডের মিডিয়া হোমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন হামিদা বেগমের দুই ছেলে শাহজাদপুর পৌর এলাকার মণিরামপুর মহল্লার বাসিন্দা এনামুল হক ও নাজমুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হক বলেন, শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর মৌজার ৬৩৭০ ও ৬৩৭১ দাগের ১৪ শতক জমি আমার মামা ওয়ারেছ আলীর দখলে থাকাবস্থায় ২০০৮ সালে আমার মা হামিদা বেগমকে দলিল করে দেন। সেই থেকে ওই জমি পরিবারসহ আমরা ভোগদখল করে আসছি।

এ অবস্থায় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে পৌর মেয়র, কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে ওই সম্পত্তি জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেখানে অর্ধপাকা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয় পৌরসভা। পরে সেখানে আমরা মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি নেই।

হঠাৎ করেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের জামাতা মামুন রানা ওই সম্পত্তি তার নানার দাবি করে জবরদখলের পাঁয়তারা করতে থাকে। আমরা আদালতে আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।

এ অবস্থায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করোনা সংক্রমণের মধ্যে মামুন রানা তার সহযোগী শহিদুল আলম জুলফি, শাহ আলম ও শাহজাদার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জোরপূর্বক আমাদের সম্পত্তির চারপাশে টিনের বেড়া দেয়।

মামুন রানা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের ওখান থেকে বের করে দিয়ে সেখানে নিজ নামে মামুন পোলট্রি ফার্ম নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে যায়। এরপর থেকে তার নেতৃত্বে সেখানে মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কাজকর্মও চলছে।

তারা আরও বলেন, মামুন রানা ভুয়া দলিল তৈরির পাশাপাশি নিজের বাবা এবং সমর্থকদের দিয়ে একাধিক মামলা দায়ের করে আমাদের হয়রানি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- বিষয়টি নিয়ে আমরা থানা পুলিশের কাছে বারবার গেলে আমাদের এমপিকে দেখিয়ে দেন ওসি সাহেব। এসব ঘটনার পর ছয়বার আমরা এমপির কাছে গিয়েছি। প্রত্যেকবার তিনি ফোনে ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বললেও ওসি কোনো পদক্ষেপ নেননি।

উপরন্তু লকডাউনের মধ্যে এমপির জামাতা মামুন রানার নেতৃত্বে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমাদের নির্মাণাধীন জায়গায় মামুন পোলট্রি ফার্ম নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। এছাড়া গত ৩ মাসের মধ্যে ওই জমির ওপর থাকা আমাদের ৬-৭ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বক্তব্য রেখেছেন মামুন রানা। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন- আমাদের নাকি কোনো কাগজপত্র নেই। অথচ আমরা সব বৈধ কাগজপত্র দাখিল করেই আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এ সময় শ্বশুর এমপি হওয়ায় তার ক্ষমতাবলে মামুন রানা বৈধ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে দাবি করেন বিধবা হামিদার দুই ছেলে এনামুল হক ও নাজমুল হক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুন রানা বলেন, এখানে আমাকে কেন সম্পৃক্ত করছে আমি বুঝতে পারছি না। জমিজমা নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে। আমার নামে সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়ে কিছুই জানি না।

সিরাজগঞ্জে এমপির জামাতার বিরুদ্ধে বিধবার জমি দখলের অভিযোগ

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের জামাতা মামুন রানার বিরুদ্ধে হামিদা বেগম নামে এক বিধবা নারীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মামুন রানা।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোডের মিডিয়া হোমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন হামিদা বেগমের দুই ছেলে শাহজাদপুর পৌর এলাকার মণিরামপুর মহল্লার বাসিন্দা এনামুল হক ও নাজমুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হক বলেন, শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর মৌজার ৬৩৭০ ও ৬৩৭১ দাগের ১৪ শতক জমি আমার মামা ওয়ারেছ আলীর দখলে থাকাবস্থায় ২০০৮ সালে আমার মা হামিদা বেগমকে দলিল করে দেন। সেই থেকে ওই জমি পরিবারসহ আমরা ভোগদখল করে আসছি। 

এ অবস্থায় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে পৌর মেয়র, কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে ওই সম্পত্তি জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেখানে অর্ধপাকা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয় পৌরসভা। পরে সেখানে আমরা মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি নেই। 

হঠাৎ করেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের জামাতা মামুন রানা ওই সম্পত্তি তার নানার দাবি করে জবরদখলের পাঁয়তারা করতে থাকে। আমরা আদালতে আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।

এ অবস্থায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করোনা সংক্রমণের মধ্যে মামুন রানা তার সহযোগী শহিদুল আলম জুলফি, শাহ আলম ও শাহজাদার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জোরপূর্বক আমাদের সম্পত্তির চারপাশে টিনের বেড়া দেয়। 

মামুন রানা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের ওখান থেকে বের করে দিয়ে সেখানে নিজ নামে মামুন পোলট্রি ফার্ম নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে যায়। এরপর থেকে তার নেতৃত্বে সেখানে মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কাজকর্মও চলছে।

তারা আরও বলেন, মামুন রানা ভুয়া দলিল তৈরির পাশাপাশি নিজের বাবা এবং সমর্থকদের দিয়ে একাধিক মামলা দায়ের করে আমাদের হয়রানি করছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- বিষয়টি নিয়ে আমরা থানা পুলিশের কাছে বারবার গেলে আমাদের এমপিকে দেখিয়ে দেন ওসি সাহেব। এসব ঘটনার পর ছয়বার আমরা এমপির কাছে গিয়েছি। প্রত্যেকবার তিনি ফোনে ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বললেও ওসি কোনো পদক্ষেপ নেননি। 

উপরন্তু লকডাউনের মধ্যে এমপির জামাতা মামুন রানার নেতৃত্বে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমাদের নির্মাণাধীন জায়গায় মামুন পোলট্রি ফার্ম নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। এছাড়া গত ৩ মাসের মধ্যে ওই জমির ওপর থাকা আমাদের ৬-৭ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।  

সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বক্তব্য রেখেছেন মামুন রানা। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন- আমাদের নাকি কোনো কাগজপত্র নেই। অথচ আমরা সব বৈধ কাগজপত্র দাখিল করেই আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এ সময় শ্বশুর এমপি হওয়ায় তার ক্ষমতাবলে মামুন রানা বৈধ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে দাবি করেন বিধবা হামিদার দুই ছেলে এনামুল হক ও নাজমুল হক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুন রানা বলেন, এখানে আমাকে কেন সম্পৃক্ত করছে আমি বুঝতে পারছি না। জমিজমা নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে। আমার নামে সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়ে কিছুই জানি না।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন