নারায়ণগঞ্জ বিস্ফোরণ: উপার্জনক্ষমদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবার
jugantor
নারায়ণগঞ্জ বিস্ফোরণ: উপার্জনক্ষমদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৭:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চারজনের তিনজনেই পেটের তাগিদে এলাকা ছেড়েছিলেন। তারাই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। তাদেরই একজন জামাল রাঢ়ী। তিন বছর আগে জীবনের চাকা ঘুরাতে ঢাকায় গিয়ে পোশাক শ্রমিকের কাজ শুরু করেন।

তার একার রোজগারে নিজের সংসারের পাশাপাশি গ্রামে বাবার সংসারও চলত। আক্ষেপ করে জামাল রাঢ়ীর বাবা বেলায়েত রাঢ়ী বলেন, নিজে কাজ করতে পারি না। জামালের আয়ের টাকায় সংসার চলত কিন্তু এখন সব শেষ। সাহায্য সহযোগিতায় আর কতদিন চলবে? নিজের পাশাপাশি জামালের স্ত্রী, তার (জামাল) দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার নিহত চারজনের পরিবারকে সরকারি অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ওই সহায়তা নিতে এসে অগ্নিকাণ্ডে নিহত উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের জামাল রাঢ়ীর বাবা যুগান্তরের প্রতিবেদকের সঙ্গে এসব কথা বলেন।

এমন গল্প শুধু জামালের একার নয়, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের নিহত জুলহাস ও একই ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের নিজামও আর্থিক অনটনের কারণে ঢাকায় গিয়ে পোশাক শ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন।

জুলহাসের মা সালেহা বেগম বলেন, জুলহাসকে ছোট রেখে ওর বাবা মারা গেছে। এরপর থেকেই সংসার চালাত জুলহাস। ওর টাকাই চলত সংসার। এখন আমার একমাত্র অবলম্বনও শেষ।

স্থানীয়রা জানান, নিহত চারজনের মধ্যে শিশু জুবায়ের ছাড়া বাকি তিনজন ছিলেন তিন পরিবারের উপার্জনের ভরসা। তাদের হারিয়ে ওই পরিবারগুলো এখন দিশেহারা হয়ে গেছেন। তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিহত চারজনের পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো সলেমান জুলহাসের মা সালেহা বেগম, শিশু জুবায়েরের মা রাহিমা বেগম, নিজাম প্যাদার স্ত্রী কুলসুম বেগম ও জামাল রাঢ়ীর বাবা বেলায়েত রাঢ়ীকে এ সহায়তা দেয়া হয়।

স্বজন হারানো পরিবারগুলোর হাতে সহায়তা তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নিহতদের তথ্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানোর পর এ বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই সব পরিবারকে খাসজমি দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগীর প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ বিস্ফোরণ: উপার্জনক্ষমদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

 রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চারজনের তিনজনেই পেটের তাগিদে এলাকা ছেড়েছিলেন। তারাই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। তাদেরই একজন জামাল রাঢ়ী। তিন বছর আগে জীবনের চাকা ঘুরাতে ঢাকায় গিয়ে পোশাক শ্রমিকের কাজ শুরু করেন।

তার একার রোজগারে নিজের সংসারের পাশাপাশি গ্রামে বাবার সংসারও চলত। আক্ষেপ করে জামাল রাঢ়ীর বাবা বেলায়েত রাঢ়ী বলেন, নিজে কাজ করতে পারি না। জামালের আয়ের টাকায় সংসার চলত কিন্তু এখন সব শেষ। সাহায্য সহযোগিতায় আর কতদিন চলবে? নিজের পাশাপাশি জামালের স্ত্রী, তার (জামাল) দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার নিহত চারজনের পরিবারকে সরকারি অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ওই সহায়তা নিতে এসে অগ্নিকাণ্ডে নিহত উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের জামাল রাঢ়ীর বাবা যুগান্তরের প্রতিবেদকের সঙ্গে এসব কথা বলেন।

এমন গল্প শুধু জামালের একার নয়, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের নিহত জুলহাস ও একই ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের নিজামও আর্থিক অনটনের কারণে ঢাকায় গিয়ে পোশাক শ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন।

জুলহাসের মা সালেহা বেগম বলেন, জুলহাসকে ছোট রেখে ওর বাবা মারা গেছে। এরপর থেকেই সংসার চালাত জুলহাস। ওর টাকাই চলত সংসার। এখন আমার একমাত্র অবলম্বনও শেষ।

স্থানীয়রা জানান, নিহত চারজনের মধ্যে শিশু জুবায়ের ছাড়া বাকি তিনজন ছিলেন তিন পরিবারের উপার্জনের ভরসা। তাদের হারিয়ে ওই পরিবারগুলো এখন দিশেহারা হয়ে গেছেন। তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিহত চারজনের পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো সলেমান জুলহাসের মা সালেহা বেগম, শিশু জুবায়েরের মা রাহিমা বেগম, নিজাম প্যাদার স্ত্রী কুলসুম বেগম ও জামাল রাঢ়ীর বাবা বেলায়েত রাঢ়ীকে এ সহায়তা দেয়া হয়।

স্বজন হারানো পরিবারগুলোর হাতে সহায়তা তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নিহতদের তথ্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানোর পর এ বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই সব পরিবারকে খাসজমি দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগীর প্রমুখ।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন