জিনিয়া অপহরণকারী লুপা নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি
jugantor
জিনিয়া অপহরণকারী লুপা নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:২৩:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

জিনিয়া অপহরণকারী লুপা নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে অপহৃত ৯ বছরের শিশু ফুলবিক্রেতা জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারের পরই আলোচনায় আসে নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার ওরফে লুপা বেগম নামে এক নারীর নাম।

জিনিয়াকে অপহরণের মামলায় ইতিমধ্যে লুপা তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

তাকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন ডিবি কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে লুপার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার গ্রামবাসী।

লুপার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ইউনিয়নে। লুপা ও তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একটি হত্যা মামলাও হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই মামলা থেকে রেহাই পান লুপা ও তার পরিবার।

তবে স্থানীয়রা পরিবারটিকেনারী ও শিশুহত্যাকারী হিসেবেই জানে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৩ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানায় লুপা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওই হত্যা মামলা হয়। মামলা নং-১ তারিখ (১/৬/০৩), ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহিনুর নামে এক নারী গৃহকর্মীকে লুপার স্বামী (সাবেক) ধর্ষণ করে। এতে শাহিনুর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর লুপা, তার স্বামী শাহিনুর ও তার শিশুকন্যাকে অপহরণ করে ট্রলারে তুলে শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেন। এ ঘটনার তদন্তে লুপা, তার বাবা প্রয়াত হাবিবুর রহমান ওরফে নান্না মিয়া তালুকদার, তার দুই ভাই প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লিটন তালুকদার, মোস্তাইনুর রহমান ওরফে লিকন তালুকদার, লুপার স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদল ওরফে শহীদ বাদল, সুজন, হাকিম আলী, সেরাজ মিয়া, আলী হোসেন, ইছাহাক আলী ওরফে ইছছেক আলীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পরে ২০১৩ সালে ওই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি লুপা ও তার স্বজনরা ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ রেহাই পান।

তৎকালীন স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার তদবিরে হত্যা মামলা থেকে মুক্ত হন লুপা।

লুপার বিষয়ে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারা জানান, এখন পর্যন্ত লুপা চারটি বিয়ে করেছেন বলে জানেন তারা। তবে অলিখিতভাবে এ সংখ্যা আরও হতে পারে বলেও ধারণা তাদের।

স্থানীয়রা আরও জানান, নিজেকে সাংবাদিক দাবি করেন লুপা। ‘প্রেস লেখা’ একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠনের অনেক নেতার সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। কিন্তু তার পড়ালেখা এসএসসির পর আর এগোয়নি। ‘অগ্নি টিভি’ নামে একটি টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে পরিচয় দেন। নিজেকে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বলে পরিচয় দেন তিনি। এমন সব ভুয়া পরিচয়ে স্থানীয় অনেকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন লুপা। সম্প্রতি পটুয়াখালীর দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে শুনেছেন তারা। ডিবির তদন্তকারী দল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে লুপা বেগম নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। মাদকসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। এ মুহূর্তে জিনিয়া অপহরণের বিষয়টি নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে।

বুধবার রিমান্ডে লুপার দাবি, জিনিয়াকে তিনি লালন-পালন করে বড় করতে চেয়েছিলেন।

যদিও ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে এমন বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি লুপা। লুপার কোনো বক্তব্যে বিশ্বাস করতে পারছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জিনিয়া অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, লুপার অতীত রেকর্ড একদমই ভালো নয়। তার বাড়ি পটুয়াখালীতে। সেখানে তিনি এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে খুন করার মামলার আসামি ছিলেন। তার জীবনযাপন নিয়েও বিস্তর অভিযোগ আছে। আমরা এখন শিশু ও নারী পাচারের সঙ্গে লুপার কোনো যোগসাজশ আছে কিনা, তাই খতিয়ে দেখছি। আমরা ধারণা করছি, শিশু জিনিয়াকে বড় করে তোলার পর তাকে দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করার পরিকল্পনা থেকেই অপহরণ করেন লুপা।

জিনিয়াকে লালন-পালনের বিষয়ে লুপার দাবিকে বিশ্বাস না করার বিষয়ে মিশু বিশ্বাস আরও বলেন, জিনিয়াকে যে বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল, সেই বাসাটি লুপা তালুকদারের কথিত এক বোনের। জিনিয়াকে নেয়ার সময় তার মায়ের সম্মতি নেননি লুপা। শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে অবগত করলেও আমরা তার কথায় বিশ্বাস করতাম। অথচ তিনি অপহরণ করে মেয়েটিকে নিয়ে কথিত বোনোর বাসায় রেখেছিলেন। ঘটনার দিন লুপা তালুকদারের মেয়ে তার সঙ্গে ছিল। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে সর্বশেষ জিনিয়াকে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফটকে অপরিচিত দুজন নারীর সঙ্গে ফুচকা খেতে দেখেছিলেন তার মা সেনুরা বেগম। এর পর থেকে জিনিয়ার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।

অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পর দিন (২ সেপ্টেম্বর) সেনুরা বেগম শাহবাগ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। অবশেষে ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিষ্টি মেয়ে জিনিয়াকে লুপা তালুকদারের কথিত বোনের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জিনিয়া অপহরণকারী লুপা নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জিনিয়া অপহরণকারী লুপা নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি
জিনিয়া অপহরণকারী নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে অপহৃত ৯ বছরের শিশু ফুলবিক্রেতা জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারের পরই আলোচনায় আসে নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার ওরফে লুপা বেগম নামে এক নারীর নাম।

জিনিয়াকে অপহরণের মামলায় ইতিমধ্যে লুপা তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

তাকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন ডিবি কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে লুপার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার গ্রামবাসী। 

লুপার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ইউনিয়নে। লুপা ও তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একটি হত্যা মামলাও হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই মামলা থেকে রেহাই পান লুপা ও তার পরিবার।

তবে স্থানীয়রা পরিবারটিকে নারী ও শিশু হত্যাকারী হিসেবেই জানে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৩ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানায় লুপা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওই হত্যা মামলা হয়। মামলা নং-১ তারিখ (১/৬/০৩), ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি। 

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহিনুর নামে এক নারী গৃহকর্মীকে লুপার  স্বামী (সাবেক) ধর্ষণ করে। এতে শাহিনুর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর লুপা, তার স্বামী শাহিনুর ও তার শিশুকন্যাকে অপহরণ করে ট্রলারে তুলে শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেন। এ ঘটনার তদন্তে লুপা, তার বাবা প্রয়াত হাবিবুর রহমান ওরফে নান্না মিয়া তালুকদার, তার দুই ভাই প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লিটন তালুকদার, মোস্তাইনুর রহমান ওরফে লিকন তালুকদার, লুপার স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদল ওরফে শহীদ বাদল, সুজন, হাকিম আলী, সেরাজ মিয়া, আলী হোসেন, ইছাহাক আলী ওরফে ইছছেক আলীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পরে ২০১৩ সালে ওই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি লুপা ও তার স্বজনরা ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ রেহাই পান। 

তৎকালীন স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার তদবিরে হত্যা মামলা থেকে মুক্ত হন লুপা।

লুপার বিষয়ে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারা জানান, এখন পর্যন্ত লুপা চারটি বিয়ে করেছেন বলে জানেন তারা। তবে অলিখিতভাবে এ সংখ্যা আরও হতে পারে বলেও ধারণা তাদের।  

স্থানীয়রা আরও জানান, নিজেকে সাংবাদিক দাবি করেন লুপা। ‘প্রেস লেখা’ একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠনের অনেক নেতার সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। কিন্তু তার পড়ালেখা এসএসসির পর আর এগোয়নি। ‘অগ্নি টিভি’ নামে একটি টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে পরিচয় দেন। নিজেকে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বলে পরিচয় দেন তিনি। এমন সব ভুয়া পরিচয়ে স্থানীয় অনেকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন লুপা। সম্প্রতি পটুয়াখালীর দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে শুনেছেন তারা। ডিবির তদন্তকারী দল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে লুপা বেগম নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। মাদকসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। এ মুহূর্তে জিনিয়া অপহরণের বিষয়টি নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে।

বুধবার রিমান্ডে লুপার দাবি, জিনিয়াকে তিনি লালন-পালন করে বড় করতে চেয়েছিলেন।

যদিও ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে এমন বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি লুপা। লুপার কোনো বক্তব্যে বিশ্বাস করতে পারছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জিনিয়া অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, লুপার অতীত রেকর্ড একদমই ভালো নয়। তার বাড়ি পটুয়াখালীতে। সেখানে তিনি এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে খুন করার মামলার আসামি ছিলেন। তার জীবনযাপন নিয়েও বিস্তর অভিযোগ আছে। আমরা এখন শিশু ও নারী পাচারের সঙ্গে লুপার কোনো যোগসাজশ আছে কিনা, তাই খতিয়ে দেখছি।  আমরা ধারণা করছি, শিশু জিনিয়াকে বড় করে তোলার পর তাকে দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করার পরিকল্পনা থেকেই অপহরণ করেন লুপা।

জিনিয়াকে লালন-পালনের বিষয়ে লুপার দাবিকে বিশ্বাস না করার বিষয়ে মিশু বিশ্বাস আরও বলেন, জিনিয়াকে যে বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল, সেই বাসাটি লুপা তালুকদারের কথিত এক বোনের। জিনিয়াকে নেয়ার সময় তার মায়ের সম্মতি নেননি লুপা। শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে অবগত করলেও আমরা তার কথায় বিশ্বাস করতাম। অথচ তিনি অপহরণ করে মেয়েটিকে নিয়ে কথিত বোনোর বাসায় রেখেছিলেন। ঘটনার দিন লুপা তালুকদারের মেয়ে তার সঙ্গে ছিল। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে সর্বশেষ জিনিয়াকে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফটকে অপরিচিত দুজন নারীর সঙ্গে ফুচকা খেতে দেখেছিলেন তার মা সেনুরা বেগম। এর পর থেকে জিনিয়ার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।

অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পর দিন (২ সেপ্টেম্বর) সেনুরা বেগম শাহবাগ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। অবশেষে ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিষ্টি মেয়ে জিনিয়াকে লুপা তালুকদারের কথিত বোনের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন