উপজেলা আ’লীগের দুই সভাপতি-সম্পাদক নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কর্মীরা 
jugantor
উপজেলা আ’লীগের দুই সভাপতি-সম্পাদক নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কর্মীরা 

  বগুড়া ব্যুরো   

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১০:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগে দুজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দুজন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকায় নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

একপক্ষে রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন রানা এবং অপরপক্ষে সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমান ও আফজাল হোসেন।

অভিযোগ উঠেছে রফিকুল-রানা গ্রুপের হামলায় আজিজুর ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ নিয়ে দুটি মামলা হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতারা।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ বলছে, আজিজুর-আফজালদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির সভাপতি জাহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান।

প্রায় তিন বছর আগে জাহিদুর রহমান মারা গেলে জেলা নেতারা ৪ নম্বর সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেন। সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান সম্প্রতি ১০ টাকা মূল্যের চাল কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হন। তখন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

তবে ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী রফিকুল ও রানাকে মেনে নেননি। এ নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে কয়েক দিন আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে লাঞ্ছিত করা হয়। জিন্নাহর ভাই এ ব্যাপারে রফিকুল-রানা গ্রুপের লোকজনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেন।

এদিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির জীবিত ৬৩ জনের মধ্যে ৪১ জন লিখিত সম্মতিতে ২ নম্বর সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ২ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। বুধবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পথে রফিকুল-রানা গ্রুপের লোকজন আজিজুর রহমানকে মারপিট করেন।

এ ব্যাপারে আজিজুর রহমান রাতেই থানায় আনোয়ার হোসেন রানাকে হুকুমের আসামি করে ৭ জনের নামে এবং আরও অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি বৈধ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আনোয়ার হোসেন রানা বৈধ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। বিতর্ক সৃষ্টি করতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আজিজুর রহমান অবৈধভাবে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আফজাল হোসেন নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন।

অপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমান জানান, ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির চারজন মারা গেছেন। ৬৩ জনের মধ্যে ৪১ জন রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করেছেন। তাই তারা দুজনই বৈধ।

তিনি আরও বলেন, রফিকুল-রানা গ্রুপ ত্যাগী নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে লাঞ্ছিত এবং তাকে মারপিট করেছে। এসব ব্যাপারে পৃথক মামলা করা হয়েছে। রানার হুকুমে তাদের ওপর হামলা হয়। তিনি ওই সব নেতার হাত থেকে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু জানান, রফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আনোয়ার হোসেন রানা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। আজিজুর রহমান ও আফজাল হোসেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে অবৈধভাবে নিজেদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা আ’লীগের দুই সভাপতি-সম্পাদক নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কর্মীরা 

 বগুড়া ব্যুরো  
১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগে দুজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দুজন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকায় নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। 

একপক্ষে রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন রানা এবং অপরপক্ষে সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমান ও আফজাল হোসেন।

অভিযোগ উঠেছে রফিকুল-রানা গ্রুপের হামলায় আজিজুর ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ নিয়ে দুটি মামলা হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতারা।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ বলছে, আজিজুর-আফজালদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির সভাপতি জাহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান। 

প্রায় তিন বছর আগে জাহিদুর রহমান মারা গেলে জেলা নেতারা ৪ নম্বর সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেন। সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান সম্প্রতি ১০ টাকা মূল্যের চাল কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হন। তখন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। 

তবে ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী রফিকুল ও রানাকে মেনে নেননি। এ নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে কয়েক দিন আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে লাঞ্ছিত করা হয়। জিন্নাহর ভাই এ ব্যাপারে রফিকুল-রানা গ্রুপের লোকজনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেন।

এদিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির জীবিত ৬৩ জনের মধ্যে ৪১ জন লিখিত সম্মতিতে ২ নম্বর সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ২ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। বুধবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পথে রফিকুল-রানা গ্রুপের লোকজন আজিজুর রহমানকে মারপিট করেন। 

এ ব্যাপারে আজিজুর রহমান রাতেই থানায় আনোয়ার হোসেন রানাকে হুকুমের আসামি করে ৭ জনের নামে এবং আরও অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি বৈধ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আনোয়ার হোসেন রানা বৈধ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। বিতর্ক সৃষ্টি করতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আজিজুর রহমান অবৈধভাবে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আফজাল হোসেন নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন।

অপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমান জানান, ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির চারজন মারা গেছেন। ৬৩ জনের মধ্যে ৪১ জন রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করেছেন। তাই তারা দুজনই বৈধ।

তিনি আরও বলেন, রফিকুল-রানা গ্রুপ ত্যাগী নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে লাঞ্ছিত এবং তাকে মারপিট করেছে। এসব ব্যাপারে পৃথক মামলা করা হয়েছে। রানার হুকুমে তাদের ওপর হামলা হয়। তিনি ওই সব নেতার হাত থেকে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু জানান, রফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আনোয়ার হোসেন রানা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। আজিজুর রহমান ও আফজাল হোসেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে অবৈধভাবে নিজেদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন