কিশোরগঞ্জ হাওরে ভাড়া ও খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ!
jugantor
কিশোরগঞ্জ হাওরে ভাড়া ও খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ!

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৫:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটন এলাকায় এবার ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, স্পিডবোট ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ হাওর পর্যটন এলাকার এসব প্রমোদ নৌযানে মাত্রাতিরিক্ত পকেট কাটা ভাড়া এবং হোটেলের নিয়ন্ত্রণহীন খাদ্যমূল্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ উদ্যোগের বিষয়টিকে দেশের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা স্বাগত জানিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক করোনাকালেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের দৃষ্টিকাড়া কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটন এলাকার নিকলী বেড়িবাঁধ এবং ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কপথ স্পটে হাজারও পর্যটকের ঢল নামছে। এ সুযোগে একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী প্রমোদতরী হিসেবে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে খেয়ালখুশি মতো পকেটকাটা মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। একইসঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাদ্যসামগ্রীর মাত্রাতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে পর্যটকদের।

এমন পরিস্থিতিতে এ সম্ভাবনাময় হাওর পর্যটন এলাকা থেকে ফিরে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য ভুক্তভোগী পর্যটক। এমন ক্ষোভের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললে টনক নড়ে প্রমোদ নৌযান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের।

এর মধ্যে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ নিকলী বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক কঠোর হস্তক্ষেপের ভয়ে সোমবার রাতে আগেভাগেই বৈঠকে বসেন। নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন করে নৌযান ভাড়া এবং খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তালিকা সম্বলিত পোস্ট দেয়া হয়।

এ বৈঠকের সভাপতি আবাসিক হোটেল মালিক ও নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ যুগান্তরকে জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এ পর্যটন এলাকা অনেক দিন বন্ধ থাকায় এ শিল্পে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে উঠেছিলেন। বলতে গেলে অনেক দিন মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন তারা। এ কারণে পর্যটন এলাকা উন্মুক্ত করে দেয়ার পর যে যার মতো করে অতিরিক্ত নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যমূল্য নিয়েছেন। এবার এ শিল্প রক্ষায় নিজেদের স্বার্থেই সহনশীল মাত্রায় নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ তালিকা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দিন মুন্নার সঙ্গে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক করে ঘোষিত নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে তিনি মোটেও একমত নন। এ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য আরও সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এ নিয়ে উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির মাধ্যমে তিনি সে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় তিনি আরও জানান, পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বড় পরিসরের স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি আরও কিছু শৌচাগার নির্মাণেরও পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, নৌযানে পর্যটকদের জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নৌযান মালিকদের। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনার সোশ্যাল ট্রান্সমিশন এড়াতে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ হাওরে ভাড়া ও খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ!

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটন এলাকায় এবার ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, স্পিডবোট ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ হাওর পর্যটন এলাকার এসব প্রমোদ নৌযানে মাত্রাতিরিক্ত পকেট কাটা ভাড়া এবং হোটেলের নিয়ন্ত্রণহীন খাদ্যমূল্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। 

এ উদ্যোগের বিষয়টিকে দেশের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা স্বাগত জানিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক করোনাকালেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের দৃষ্টিকাড়া কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটন এলাকার নিকলী বেড়িবাঁধ এবং ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কপথ স্পটে হাজারও পর্যটকের ঢল নামছে। এ সুযোগে একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী প্রমোদতরী হিসেবে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে খেয়ালখুশি মতো পকেটকাটা মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। একইসঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাদ্যসামগ্রীর মাত্রাতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে পর্যটকদের।

এমন পরিস্থিতিতে এ সম্ভাবনাময় হাওর পর্যটন এলাকা থেকে ফিরে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য ভুক্তভোগী পর্যটক। এমন ক্ষোভের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললে টনক নড়ে প্রমোদ নৌযান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের।

এর মধ্যে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ নিকলী বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক কঠোর হস্তক্ষেপের ভয়ে সোমবার রাতে আগেভাগেই বৈঠকে বসেন। নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন করে নৌযান ভাড়া এবং খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তালিকা সম্বলিত পোস্ট দেয়া হয়।

এ বৈঠকের সভাপতি আবাসিক হোটেল মালিক ও নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ যুগান্তরকে জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এ পর্যটন এলাকা অনেক দিন বন্ধ থাকায় এ শিল্পে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে উঠেছিলেন। বলতে গেলে অনেক দিন মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন তারা। এ কারণে পর্যটন এলাকা উন্মুক্ত করে দেয়ার পর যে যার মতো করে অতিরিক্ত নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যমূল্য নিয়েছেন। এবার এ শিল্প রক্ষায় নিজেদের স্বার্থেই সহনশীল মাত্রায় নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ তালিকা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দিন মুন্নার সঙ্গে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক করে ঘোষিত নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে তিনি মোটেও একমত নন। এ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে নৌযান ভাড়া এবং হোটেলের খাদ্যসামগ্রীর মূল্য আরও সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এ নিয়ে উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির মাধ্যমে তিনি সে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। 

এ সময় তিনি আরও জানান, পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বড় পরিসরের স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি আরও কিছু শৌচাগার নির্মাণেরও পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, নৌযানে পর্যটকদের জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নৌযান মালিকদের। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনার সোশ্যাল ট্রান্সমিশন এড়াতে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন