আ’লীগ নেতার স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ের পরও ছাত্রলীগ নেতার হুমকি
jugantor
আ’লীগ নেতার স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ের পরও ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

  যশোর ব্যুরো  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩৫:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদেকুর রহমান। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। বর্তমানে ওই ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগ নেতার হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

রোববার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্বরূপদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলাইমান হোসেন। এ সময় তার ছেলে আবু বক্কার সিদ্দিক (১১) উপস্থিত ছিল।

এভাবে স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করা নেতা উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে কীভাবে সভাপতিত্ব করছেন সেটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তার হুমকিতে জীবন শঙ্কায় আছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে সোলাইমান হোসেন দাবি করেন, চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সহ-সভাপতি ছোটদিঘড়ী গ্রামের আইজেল হকের ছেলে সাদেকুর রহমান পরীক্ষার ফরম পূরণ ও ফিসের টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমার বাড়িতে আসত। এভাবে সে আমার স্ত্রী সালমা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি করে। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগে থাকত।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই আমার শাশুড়ি রাবেয়া খাতুন ও তার দুই ছেলে মুছা ও ইব্রাহিম আমার বাড়ি আসেন। তাদের জন্য বাজার থেকে কেনাকাটা করে ফিরে শুনি ছেলেকে ফেলে সালমা খাতুন ও তার পরিবারের সবাই ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুরের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এ সময় তারা আমার নগদ তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকাসহ কয়েক লাখ টাকার সোনার গহনা নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে সোলাইমান হোসেন বলেন, এ ঘটনার পর আমি স্ত্রীকে ফেরত আনতে শ্বশুরবাড়ি গেলে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী সালমা ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুরের সঙ্গে বিয়ে করে বসবাস করতে থাকে। এ ব্যাপারে ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আমি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি। এরপর আসামি সাদেকুর মামলার খবর পেয়ে আমাকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রিজ কিনতে কোটচাঁদপুর যাওয়ার সময় সাদেকুর তার সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আটকায়। এ সময় তারা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় তারা আমাকে মারপিট করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে যাই কিন্তু আমাকে আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দেয়া হয়। পরে আমি ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করি।

তিনি আরও বলেন, এরপর থেকে তারা সিলেটে থাকত। বর্তমানে সাদেকুর আবার চৌগাছায় এসে থাকছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হত্যাসহ হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

নেতার স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করা ব্যক্তি উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করছে- এটা কীভাবে সম্ভব বলেও প্রশ্ন রাখেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাদেকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০১৬ সালের প্রথমদিকে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের (সোলাইমান-সালমা) তালাক হয়ে যায়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে আমি সালমাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। আমরা আড়াই বছর সংসার করছি। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। আমি তার বউকে বিয়ে করিনি। তালাকপ্রাপ্ত একজনকে আমি বিয়ে করেছি।

আ’লীগ নেতার স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ের পরও ছাত্রলীগ নেতার হুমকি

 যশোর ব্যুরো 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদেকুর রহমান। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। বর্তমানে ওই ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগ নেতার হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

রোববার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্বরূপদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলাইমান হোসেন। এ সময় তার ছেলে আবু বক্কার সিদ্দিক (১১) উপস্থিত ছিল।

এভাবে স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করা নেতা উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে কীভাবে সভাপতিত্ব করছেন সেটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তার হুমকিতে জীবন শঙ্কায় আছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে সোলাইমান হোসেন দাবি করেন, চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সহ-সভাপতি ছোটদিঘড়ী গ্রামের আইজেল হকের ছেলে সাদেকুর রহমান পরীক্ষার ফরম পূরণ ও ফিসের টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমার বাড়িতে আসত। এভাবে সে আমার স্ত্রী সালমা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি করে। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগে থাকত।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই আমার শাশুড়ি রাবেয়া খাতুন ও তার দুই ছেলে মুছা ও ইব্রাহিম আমার বাড়ি আসেন। তাদের জন্য বাজার থেকে কেনাকাটা করে ফিরে শুনি ছেলেকে ফেলে সালমা খাতুন ও তার পরিবারের সবাই ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুরের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এ সময় তারা আমার নগদ তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকাসহ কয়েক লাখ টাকার সোনার গহনা নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে সোলাইমান হোসেন বলেন, এ ঘটনার পর আমি স্ত্রীকে ফেরত আনতে শ্বশুরবাড়ি গেলে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী সালমা ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুরের সঙ্গে বিয়ে করে বসবাস করতে থাকে। এ ব্যাপারে ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আমি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি। এরপর আসামি সাদেকুর মামলার খবর পেয়ে আমাকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রিজ কিনতে কোটচাঁদপুর যাওয়ার সময় সাদেকুর তার সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আটকায়। এ সময় তারা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় তারা আমাকে মারপিট করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে যাই কিন্তু আমাকে আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দেয়া হয়। পরে আমি ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করি।

তিনি আরও বলেন, এরপর থেকে তারা সিলেটে থাকত। বর্তমানে সাদেকুর আবার চৌগাছায় এসে থাকছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হত্যাসহ হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

নেতার স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করা ব্যক্তি উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করছে- এটা কীভাবে সম্ভব বলেও প্রশ্ন রাখেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাদেকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০১৬ সালের প্রথমদিকে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের (সোলাইমান-সালমা) তালাক হয়ে যায়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে আমি সালমাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। আমরা আড়াই বছর সংসার করছি। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। আমি তার বউকে বিয়ে করিনি। তালাকপ্রাপ্ত একজনকে আমি বিয়ে করেছি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন