মামলায় ঝুলে আছে বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচন!
jugantor
মামলায় ঝুলে আছে বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচন!

  কামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর)  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:১৬:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্দর নগরী বেনাপোল প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, বেনাপোল পৌরসভার নাগরিকরা ২০১১ সালে একবার ভোট দিতে পেরেছে। এর পর পৌরসভার ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

প্রায় ৫ বছর ধরে আদালতে ঝুলে আছে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার ৯টি মামলা। কবে মামলা নিষ্পত্তি হবে সেটি কেউ নিশ্চিত নয়। এতে মামলা পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম লিটনকে দুষছেন অনেকেই। তার কলকাঠিতেই মামলার জালে ভোট বন্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসীরা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার ৯টি মামলা রয়েছে আদালতে। রাজনৈতিক কারণে মামলা নিয়ে অনেকে না বুঝে আমাকে দোষারোপ করছেন। আমিও চাই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে ভোট হোক। ৩ বছর আগেও মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য আমি ও আমার পরিষদ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বেনাপোলকে পৌরসভা হিসাবে ঘোষণা করে। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি বেনাপোল পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলম লিটন। ৫ বছর পর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। এ সময় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা করেন বেনাপোল পৌরসভার মিয়াদ আলী, আজিবর রহমানসহ আরও ১০ জন।

এর মধ্যে ৯ জনের মামলার বাদীর মামলার বিষয় ছিল একই। তারা উল্লেখ করেন, তাদের এলাকায় দরিদ্র মানুষের বসবাস, তারা কম আয়ের মানুষ, তাদেরকে পৌর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে, তাদের ট্যাক্স দিতে হবে বেশি বেশি। ফলে তারা পৌর এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে চান না।

বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের বাসিন্দা নাছির উদ্দিন জানান, আদালতে মামলা থাকায় দীর্ঘদিন নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ভোট না হওয়ায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নেতাকর্মীরা হতাশ। দীর্ঘদিন পৌরসভার নির্বাচন না হওয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বঞ্চিত নাগরিক সমাজ। বর্তমান পরিষদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাও নেই। সর্বশেষ কবে নির্বাচন হয়েছে সেটি ভুলতে বসেছে নাগরিকরা। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। মেয়র আশরাফুল আলম লিটন কৌশলে নিজরে লোক দিয়ে মামলা করিয়ে পৌরসভার নির্বাচন আটকে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভার মামলা সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে বেনাপোল ও ঝিকরগাছা পৌরসভার মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। নির্বাচনের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন জানান, আমি শুনেছি বেনাপোল পৌর সভায় বিভিন্নভাবে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচন করতে দেয়া হচ্ছে না। বেনাপোল পৌরবাসীর সঙ্গে আমিও চাই একটি সুন্দর নির্বাচন হোক।

মামলায় ঝুলে আছে বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচন!

 কামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্দর নগরী বেনাপোল প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, বেনাপোল পৌরসভার নাগরিকরা ২০১১ সালে একবার ভোট দিতে পেরেছে। এর পর পৌরসভার ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

প্রায় ৫ বছর ধরে আদালতে ঝুলে আছে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার ৯টি মামলা। কবে মামলা নিষ্পত্তি হবে সেটি কেউ নিশ্চিত নয়। এতে মামলা পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম লিটনকে দুষছেন অনেকেই। তার কলকাঠিতেই মামলার জালে ভোট বন্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসীরা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার ৯টি মামলা রয়েছে আদালতে। রাজনৈতিক কারণে মামলা নিয়ে অনেকে না বুঝে আমাকে দোষারোপ করছেন। আমিও চাই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে ভোট হোক। ৩ বছর আগেও মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য আমি ও আমার পরিষদ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। 

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বেনাপোলকে পৌরসভা হিসাবে ঘোষণা করে। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি বেনাপোল পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলম লিটন। ৫ বছর পর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। এ সময় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা করেন বেনাপোল পৌরসভার মিয়াদ আলী, আজিবর রহমানসহ আরও ১০ জন।

এর মধ্যে ৯ জনের মামলার বাদীর মামলার বিষয় ছিল একই। তারা উল্লেখ করেন, তাদের এলাকায় দরিদ্র মানুষের বসবাস, তারা কম আয়ের মানুষ, তাদেরকে পৌর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে, তাদের ট্যাক্স দিতে হবে বেশি বেশি। ফলে তারা পৌর এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে চান না।

বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের বাসিন্দা নাছির উদ্দিন জানান, আদালতে মামলা থাকায় দীর্ঘদিন নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ভোট না হওয়ায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নেতাকর্মীরা হতাশ। দীর্ঘদিন পৌরসভার নির্বাচন না হওয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বঞ্চিত নাগরিক সমাজ। বর্তমান পরিষদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাও নেই। সর্বশেষ কবে নির্বাচন হয়েছে সেটি ভুলতে বসেছে নাগরিকরা। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। মেয়র আশরাফুল আলম লিটন কৌশলে নিজরে লোক দিয়ে মামলা করিয়ে পৌরসভার নির্বাচন আটকে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভার মামলা সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে বেনাপোল ও ঝিকরগাছা পৌরসভার মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। নির্বাচনের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন জানান, আমি শুনেছি বেনাপোল পৌর সভায় বিভিন্নভাবে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচন করতে দেয়া হচ্ছে না। বেনাপোল পৌরবাসীর সঙ্গে আমিও চাই একটি সুন্দর নির্বাচন হোক।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন