বরিশালে জরাজীর্ণ স্কুলভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেই
jugantor
বরিশালে জরাজীর্ণ স্কুলভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেই

  বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২৮:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ হ্যালিপোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ কয়েক বছরযাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দফতর। দুভোর্গে এলাকার শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে স্থাপিত হয়। প্রথমদিকে টিনশেড ঘর থাকলেও পরে ৩টি কক্ষের একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়; যা কয়েক বছর ধরে পাঠদানের অযোগ্য হয়ে পড়লেও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে নেয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ বন্যা ‘আম্পানের’ তাণ্ডবে বিদ্যালয়টির ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি, দরজা, জানালা ভেঙে যায়। বৃষ্টির পানিতে লাইব্রেরির প্রয়োজনীয় আসবাপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র। এছাড়াও ছাত্রছাত্রীর বসার বেঞ্চগুলো টানা বৃষ্টির পানিতে বসার অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

বিদ্যালয়টি নদী তীরবর্তী হওয়ায় একটু বৃষ্টি, বাতাস বা ঝড়োহাওয়া ছুটলেই জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়ের একটা অংশ তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে।

প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা রানী বলেন, বিদ্যালয়টি কয়েক দফায় কর্তৃপক্ষ পরির্দশনে এলেও কাজের কোনো অগ্রতি নেই। বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বারবার দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বিদ্যালয়টি কারও নজরে আসছে না। দীর্ঘদিন যাবত এ বিদ্যালয়টি জোড়াতালি দিয়ে চালাচ্ছি।

বিদ্যালয়ে টিনের ছাউনির ব্যপক ক্ষতি হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে লাইব্রেরির প্রয়োজনীয় আসবাপত্র। এছাড়াও বিদ্যালয়টি নানান সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়টির শিশুদের খেলার মাঠটি একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে থাকে।

বিদ্যালয় চালু হলে কীভাবে পাঠদান চালাবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি মোখলেচুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টিতে ৩ শতাধিক ছাত্রছাত্রী আছে। শিক্ষার গুণগতমানও ভালো। তারপরও প্রায় ২০ বছর যাবত এ বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

অনেক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরির্দশন করে এটিকে সাইক্লোন শেল্টারে পরিণত করার আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি অত্র এলাকায় কোনো সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় ঘূর্ণিঝড় বা বন্যায় চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয় এলাকাবাসীর।

জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা পাঠিয়েছি। তবে এ বিদ্যালয়টির নাম আছে কিনা তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তারপরও এ বিদ্যালয়টির নাম বাদ পড়লে নতুন করে আবারও দেয়া হবে।

বরিশালে জরাজীর্ণ স্কুলভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেই

 বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ হ্যালিপোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ কয়েক বছরযাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দফতর। দুভোর্গে এলাকার শিক্ষার্থীরা। 

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে স্থাপিত হয়। প্রথমদিকে টিনশেড ঘর থাকলেও পরে ৩টি কক্ষের একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়; যা কয়েক বছর ধরে পাঠদানের অযোগ্য হয়ে পড়লেও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে নেয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ বন্যা ‘আম্পানের’ তাণ্ডবে বিদ্যালয়টির ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি, দরজা, জানালা ভেঙে যায়। বৃষ্টির পানিতে লাইব্রেরির প্রয়োজনীয় আসবাপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র। এছাড়াও ছাত্রছাত্রীর বসার বেঞ্চগুলো টানা বৃষ্টির পানিতে বসার অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

বিদ্যালয়টি নদী তীরবর্তী হওয়ায় একটু বৃষ্টি, বাতাস বা ঝড়োহাওয়া ছুটলেই জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়ের একটা অংশ তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে।

প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা রানী বলেন, বিদ্যালয়টি কয়েক দফায় কর্তৃপক্ষ পরির্দশনে এলেও কাজের কোনো অগ্রতি নেই। বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বারবার দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বিদ্যালয়টি কারও নজরে আসছে না। দীর্ঘদিন যাবত এ বিদ্যালয়টি জোড়াতালি দিয়ে চালাচ্ছি। 

বিদ্যালয়ে টিনের ছাউনির ব্যপক ক্ষতি হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে লাইব্রেরির প্রয়োজনীয় আসবাপত্র। এছাড়াও বিদ্যালয়টি নানান সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়টির শিশুদের খেলার মাঠটি একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে থাকে। 

বিদ্যালয় চালু হলে কীভাবে পাঠদান চালাবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি মোখলেচুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টিতে ৩ শতাধিক ছাত্রছাত্রী আছে। শিক্ষার গুণগতমানও ভালো। তারপরও প্রায় ২০ বছর যাবত এ বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। 

অনেক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরির্দশন করে এটিকে সাইক্লোন শেল্টারে পরিণত করার আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি অত্র এলাকায় কোনো সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় ঘূর্ণিঝড় বা বন্যায় চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয় এলাকাবাসীর।

জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা পাঠিয়েছি। তবে এ বিদ্যালয়টির নাম আছে কিনা তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তারপরও এ বিদ্যালয়টির নাম বাদ পড়লে নতুন করে আবারও দেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন