জামালগঞ্জে দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-স্বজনের ওপর হামলা
jugantor
জামালগঞ্জে দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-স্বজনের ওপর হামলা

  জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৪৪:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জ

জামালগঞ্জে প্রয়াত দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানিসহ হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানায় ও জেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সাচনা বাজার ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তারাচান সরকারের স্ত্রী শ্যামলা দাস ও উত্তর ইউপির কালীপুর গ্রামের অপর মুক্তিযোদ্ধা সোনাহর মিয়ার পূত্রবধু মোছা. ফুলমালা বেগম মামলা দুটি দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেলোয়ার হোসেন নামের ১ জনকে গ্রেফতার করেছে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অভিযোগকারী ফুলমালা বেগমের মা অসুস্থ থাকায় তার শাশুড়ি হেলেনা বেগম, দুই ননদী জেসমিন বেগম ও ইয়াছমিনকে নিয়ে সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গজারিয়া হাঁটিতে রওনা দেন। পথিমধ্যে নদী তীরবর্তী খেয়াঘাটে যাওয়ামাত্রই বিবাদী উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের সাইদুর মিয়া,কালা মিয়া,দেলোয়ার হোসেন ও তাজুল ইসলাম মদ্যপ অবস্থায় বাদীসহ অন্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাদী এবং বাদীর শাশুড়ি হেলেনা বেগম ও ননদ জেসমিন বেগমকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।


তখন তাদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে বিবাদী দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ।


অপরদিকে, মামলা সূত্রে জানা যায়, মৃত মুক্তিযোদ্ধা তারাচান সরকারের স্ত্রী শ্যামলা দাস স্বামীর ভাতার টাকা দিয়ে নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোরকম সংসার চালিয়ে আসছেন। বাদী শ্যামলা দাস অসহায় হওয়ায় তার গ্রামের বিবাদী আবু তাহের, কংকন দাস, রূপায়ন দাস, মনজু দাস, বিরাজ দাস, মনোরঞ্জন দাস, ঝিনুক তালুকদার প্রায় সময়ই অশালীন আচরণ করলে তা গ্রামবাসীকে জানালে তারা ক্রোধান্বিত হয়ে পড়েন।


একপর্যায়ে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ৪ বিবাদী বাদীর ঘরে ঢুকে। এ সময় বাদী শ্যামলা দাস চিৎকার করতে চাইলে আবু তাহের, রূপায়ন দাস, কংকন দাস, মঞ্জু দাস তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে কিলঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে তার শ্লীলতাহানি ঘটায়। এরপর আগের দিন উত্তোলিত স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আইনের আশ্রয় নিতে গেলে হামলাকারীরা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়। এতে দুর্বৃত্তদের প্রাণনাশের হুমকিতে তিনি বাধ্য হয়ে জেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।


জামালগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল আলম যুগান্তরকে জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

জামালগঞ্জে দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-স্বজনের ওপর হামলা

 জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ

জামালগঞ্জে প্রয়াত দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানিসহ হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানায় ও জেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সাচনা বাজার ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তারাচান সরকারের স্ত্রী শ্যামলা দাস ও উত্তর ইউপির কালীপুর গ্রামের অপর মুক্তিযোদ্ধা সোনাহর মিয়ার পূত্রবধু মোছা. ফুলমালা বেগম মামলা দুটি দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেলোয়ার হোসেন নামের ১ জনকে গ্রেফতার করেছে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অভিযোগকারী ফুলমালা বেগমের মা অসুস্থ থাকায় তার শাশুড়ি হেলেনা বেগম, দুই ননদী জেসমিন বেগম ও ইয়াছমিনকে নিয়ে সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গজারিয়া হাঁটিতে রওনা দেন। পথিমধ্যে নদী তীরবর্তী খেয়াঘাটে যাওয়ামাত্রই বিবাদী উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের সাইদুর মিয়া,কালা মিয়া,দেলোয়ার হোসেন ও তাজুল ইসলাম মদ্যপ অবস্থায় বাদীসহ অন্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাদী এবং বাদীর শাশুড়ি হেলেনা বেগম ও ননদ জেসমিন বেগমকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।


তখন তাদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে বিবাদী দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ।


অপরদিকে, মামলা সূত্রে জানা যায়, মৃত মুক্তিযোদ্ধা তারাচান সরকারের স্ত্রী শ্যামলা দাস স্বামীর ভাতার টাকা দিয়ে নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোরকম সংসার চালিয়ে আসছেন। বাদী শ্যামলা দাস অসহায় হওয়ায় তার গ্রামের বিবাদী আবু তাহের, কংকন দাস, রূপায়ন দাস, মনজু দাস, বিরাজ দাস, মনোরঞ্জন দাস, ঝিনুক তালুকদার প্রায় সময়ই অশালীন আচরণ করলে তা গ্রামবাসীকে জানালে তারা ক্রোধান্বিত হয়ে পড়েন। 


একপর্যায়ে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ৪ বিবাদী বাদীর ঘরে ঢুকে। এ সময় বাদী শ্যামলা দাস চিৎকার করতে চাইলে আবু তাহের, রূপায়ন দাস, কংকন দাস, মঞ্জু দাস তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে কিলঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে তার শ্লীলতাহানি ঘটায়। এরপর আগের দিন উত্তোলিত স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আইনের আশ্রয় নিতে গেলে হামলাকারীরা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়। এতে দুর্বৃত্তদের প্রাণনাশের হুমকিতে তিনি বাধ্য হয়ে জেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।


জামালগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল আলম যুগান্তরকে জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন