জুমে বাম্পার ফলন, ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা
jugantor
জুমে বাম্পার ফলন, ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

  সমির মল্লিক,খাগড়াছড়ি  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:০৩:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

জুম

খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পাহাড়ে এখন পাকা ধানের সুবাস। সকাল থেকে জুমে জুমে ধান কাটছে জুমিয়ারা। ধান কাটা শেষে জুমঘরে তা মাড়াই করছে তারা। পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় পাকা ধান শোভা পাচ্ছে। মৌসুমের শেষ দিকে এমন দৃশ্য জেলার দীঘিনালার সীমানাপাড়া এলাকায়। দল বেঁধে ধান কেটে জুম ঘরে তুলছে জুমচাষীরা। সেসব ধান আবার জুমেই মাড়াই করা হয়। মাড়াইকৃত ধান থুরংয়ে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে জুমচাষীরা।

চাষীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাহাড়ে জুমের ফলন ভালো হয়েছে। ধান ছাড়াও জুমে হলুদ, মারফা, আদা, মরিচ, কচু মিষ্টি কুমড়ো, তিল, ভুট্টা, বরবটিসহ প্রায় ৪০ জাতের সবজির চাষাবাদ হয়েছে।

জুমের উৎপাদিত খাদ্যশস্য দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি জুমে উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপণ্য বিক্রি করে জুমিয়াদের সংসার চলে। জুমের উৎপাদিত ধান দিয়ে ৬-৯ মাস পর্যন্ত খাবারের জোগান পায় জুমিয়ারা।

অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার খাগড়াছড়ির জুমে ভালো ফলন হয়েছে। জুমে জুমে এখন চলছে ধান কাটার উৎসব। ধান ছাড়াও বাহারি সবজির চাষ হয়েছে জুমে। জুম চাষের জন্য সার, বীজের পাশাপাশি সরকারিভাবে প্রণোদনা চান জুমিয়ারা।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার সীমানাপাড়ার জুমচাষী নবীন ত্রিপুরা জানান, এবার জুমে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছি। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলনও হয়েছে। তবে ভালো করে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারলে ফলন আরও বাড়ত। জুম চাষের ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু বাধার মুখোমুখি হতে হয়। এবার প্রথমবারে মতো সমতল ভূমিতে চাষাবাদ উপযোগী ধান জুমে চাষ করেছি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আমি আর আমার স্ত্রী দুজনেই মূলত সারা দিন জুমে কাজ করি। কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যার পর ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ধান ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করেছি। এই ধান দিয়ে আমাদের নয় মাস চলে যাবে। জুমের হলুদ, আদা, মারফা বিক্রি করে কোনোরকমে আমাদের সংসার চলে।

উন্নতমানের সার ও বীজ প্রয়োগ করলে উৎপাদন আরও বাড়ত বলে জুমচাষীরা জানান। কিন্তু তারা সরকারি কোনো প্রণোদনা পায় না। সীমানাপাড়ার স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হতেন ত্রিপুরা জানান, বছরের পর বছর জুমচাষ করলেও সরকারিভাবে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কোনো ধরনের প্রণোদনা পায় না জুমচাষীরা। সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে জুমের উৎপাদন আরও বাড়ত।

তবে জুমে উৎপাদন বাড়াতে সনাতনী জুমের পরিবর্তে আধুনিক জাতের সবজি ও ধানের জাত বীজ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস জানান, জুমে একসাথে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। জুমের উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পরিবারের সারা বছরের খাবারের জোগান দেয়। জুমে পুরাতন ঐতিহ্য বীজের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক জাতের ধান ও সবজির বীজ রোপণ করলে জুমচাষীরা লাভবান হবেন। অনেক জুমচাষী আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহার লাভবান হচ্ছেন। আমরা জুমচাষীদের আধুনিক পদ্ধতিতে জুম চাষের জন্য উৎসাহিত করি। চলতি বছর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৩৫৭ হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে জুমচাষ হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়িতে চলতি বছর ২ হাজার হেক্টরের বেশি পাহাড়ি ভূমি জুমচাষের আওতায় এসেছে।

জুমে বাম্পার ফলন, ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

 সমির মল্লিক,খাগড়াছড়ি 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জুম
খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পাহাড়ে এখন পাকা ধানের সুবাস।

খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পাহাড়ে এখন পাকা ধানের সুবাস। সকাল থেকে জুমে জুমে ধান কাটছে জুমিয়ারা। ধান কাটা শেষে জুমঘরে তা মাড়াই করছে তারা। পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় পাকা ধান শোভা পাচ্ছে। মৌসুমের শেষ দিকে এমন দৃশ্য জেলার দীঘিনালার সীমানাপাড়া এলাকায়। দল বেঁধে ধান কেটে জুম ঘরে তুলছে জুমচাষীরা। সেসব ধান আবার জুমেই মাড়াই করা হয়। মাড়াইকৃত ধান থুরংয়ে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে জুমচাষীরা।

চাষীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাহাড়ে জুমের ফলন ভালো হয়েছে। ধান ছাড়াও জুমে হলুদ, মারফা, আদা, মরিচ, কচু মিষ্টি কুমড়ো, তিল, ভুট্টা, বরবটিসহ প্রায় ৪০ জাতের সবজির চাষাবাদ হয়েছে।

জুমের উৎপাদিত খাদ্যশস্য দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি জুমে উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপণ্য বিক্রি করে জুমিয়াদের সংসার চলে। জুমের উৎপাদিত ধান দিয়ে ৬-৯ মাস পর্যন্ত খাবারের জোগান পায় জুমিয়ারা।

অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার খাগড়াছড়ির জুমে ভালো ফলন হয়েছে। জুমে জুমে এখন চলছে ধান কাটার উৎসব। ধান ছাড়াও বাহারি সবজির চাষ হয়েছে জুমে। জুম চাষের জন্য সার, বীজের পাশাপাশি সরকারিভাবে প্রণোদনা চান জুমিয়ারা। 

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার সীমানাপাড়ার জুমচাষী নবীন ত্রিপুরা জানান, এবার জুমে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছি। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলনও হয়েছে। তবে ভালো করে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারলে ফলন আরও বাড়ত। জুম চাষের ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু বাধার মুখোমুখি হতে হয়। এবার প্রথমবারে মতো সমতল ভূমিতে চাষাবাদ উপযোগী ধান জুমে চাষ করেছি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আমি আর আমার স্ত্রী দুজনেই মূলত সারা দিন জুমে কাজ করি। কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যার পর ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ধান ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করেছি। এই ধান দিয়ে আমাদের নয় মাস চলে যাবে। জুমের হলুদ, আদা, মারফা বিক্রি করে কোনোরকমে আমাদের সংসার চলে। 

উন্নতমানের সার ও বীজ প্রয়োগ করলে উৎপাদন আরও বাড়ত বলে জুমচাষীরা জানান। কিন্তু তারা সরকারি কোনো প্রণোদনা পায় না। সীমানাপাড়ার স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হতেন ত্রিপুরা জানান, বছরের পর বছর জুমচাষ করলেও সরকারিভাবে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কোনো ধরনের প্রণোদনা পায় না জুমচাষীরা। সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে জুমের উৎপাদন আরও বাড়ত। 

তবে জুমে উৎপাদন বাড়াতে সনাতনী জুমের পরিবর্তে আধুনিক জাতের সবজি ও ধানের জাত বীজ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। 

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস  জানান, জুমে একসাথে  বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। জুমের উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পরিবারের সারা বছরের খাবারের জোগান দেয়। জুমে পুরাতন ঐতিহ্য বীজের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক জাতের ধান ও সবজির বীজ রোপণ করলে জুমচাষীরা লাভবান হবেন। অনেক জুমচাষী আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহার লাভবান হচ্ছেন। আমরা জুমচাষীদের আধুনিক পদ্ধতিতে জুম চাষের জন্য উৎসাহিত করি। চলতি বছর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৩৫৭ হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে জুমচাষ হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়িতে চলতি বছর ২ হাজার হেক্টরের বেশি পাহাড়ি ভূমি জুমচাষের আওতায় এসেছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন