প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
jugantor
প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

  মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:০৬:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা। আর কিছুদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এজন্য মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মৃৎশিল্পীরা।

আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।
মহামারী করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলছে। প্রতি বছরের মতো এবার পূজার সেই পুরনো সংস্কৃতি অনেকটা লুকিয়ে থাকবে অগোচরে।

বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজার মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ নানা ধরনের আয়োজন থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ।

সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার মহালয়া হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ মানে অশুভ মাস। সেই কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসাবে এবার দেবীদুর্গা মর্ত্যে আসবেন মহালয়ার ৩৫ দিন পরে।

এ কারণে ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। পরদিন ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৪ অক্টোবর মহাঅষ্টমী এবং ২৫ অক্টোবর মহানবমী পূজা। ২৬ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী হবে। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে হবে দুর্গাপূজা সে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর সুখরঞ্জন (৭৫) বলেন, প্রতি বছর এ সময় ১০-১২টি পূজামণ্ডপে কাজ করে থাকি; এ বছর মাত্র ৭টি পূজামণ্ডপের কাজ করছি।

উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা বলেন, এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে; যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু পঙ্কজ সাওজাল বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সম্পর্কিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেই এ নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে।
এ বছর উপজেলায় ৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

 মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা। আর কিছুদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এজন্য মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মৃৎশিল্পীরা।

আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।
মহামারী করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলছে। প্রতি বছরের মতো এবার পূজার সেই পুরনো সংস্কৃতি অনেকটা লুকিয়ে থাকবে অগোচরে।

বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজার মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ নানা ধরনের আয়োজন থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ।

সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার মহালয়া হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ মানে অশুভ মাস। সেই কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসাবে এবার দেবীদুর্গা মর্ত্যে আসবেন মহালয়ার ৩৫ দিন পরে।

এ কারণে ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। পরদিন ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৪ অক্টোবর মহাঅষ্টমী এবং ২৫ অক্টোবর মহানবমী পূজা। ২৬ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী হবে। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে হবে দুর্গাপূজা সে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।

প্রতিমা তৈরির কারিগর সুখরঞ্জন (৭৫) বলেন, প্রতি বছর এ সময় ১০-১২টি পূজামণ্ডপে কাজ করে থাকি; এ বছর মাত্র ৭টি পূজামণ্ডপের কাজ করছি।

উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা বলেন, এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে; যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু পঙ্কজ সাওজাল বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সম্পর্কিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেই এ নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে।
এ বছর উপজেলায় ৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিক জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন