অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রংপুর নগরীর ৩০ পাড়া-মহল্লা
jugantor
অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রংপুর নগরীর ৩০ পাড়া-মহল্লা

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:২৫:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর

অবিরাম বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। নগরীর অনেক সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চল ও বর্ধিত এলাকাসহ কমপক্ষে ৩০টি পাড়া-মহল্লার সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেকের বাসা-বাড়িতে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

এছাড়া নগরীর গুরুত্বপুর্ণ সড়ক জাহাজ কোম্পানি থেকে শাপলা চত্বর, কোরনীপাড়া সড়ক, শাপলা-টার্মিনাল সড়ক, বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে ধাপ বাজার সড়কসহ প্রায় ১৫টি সড়কের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে পানি জমে থাকছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালকসহ পথচারীরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার কাছনা হাজিপাড়া গ্রামে সরুজ আলী নামের শিক্ষার্থী ও গঙ্গাচড়া উপজেলার চর চিলাখাল গ্রামে মশিউর রহমান নামে এক কৃষক মারা গেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অবিরাম বৃষ্টির কারণে নগরীর মুলাটোল, কোতয়ালি থানা সংলগ্ন সড়ক, মুলাটোল, বাবুখা, নিউ জুম্মাপাড়া, আলমনগর, দর্শনা, কলেজপাড়া, হাবিব নগর, মর্ডান মোড় সংলগ্ন এলাকা, চকবাজার ঈদগাহপাড়া, মাহিগঞ্জ, খাসবাগ, বালাটারি, মনো গোপালসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া নগরীর বর্ধিত এলাকার তামপাট, হোসেন নগর, মেকুড়া, পানবাড়ি, মোগলেরবাগ, দমদমা, শেখপাড়া, বনগ্রাম, মানজাই, বড়বাড়ি , দামোদরপুর, উত্তম, কোবারু, চব্বিশ হাজারি, বাহার কাছনা, গুলার বুদাই, ময়নাকুটিসহ বিভিন্ন সড়কে পানি উঠেছে। ৩০টির বেশি পাড়া-মহল্লা তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নগরীর নিউ জুম্মাপাড়ার আজিজুল হক ও জয়নব বিবি জানান, এলাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই।

তামপাট হোসেন নগর এলাকার হারুন-উর রশিদ সোহেল ও মিজানুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, সিটি কর্পোরেশনের শেষ প্রান্তের মহল্লা হোসেন নগর। এই মহল্লাবাসী সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একই রকম অভিযোগ প্রায় ২০টি মহল্লাবাসীর। সিটির কোনো সুফল পাননি এখানকার মানুষ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হোসেননগর বাজারসহ বগুড়াপাড়া, হিন্দুপাড়া, মাঠের পাড়া, মেকুড়া, বসুনিয়াপাড়া, নতুন মুসলিমপাড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোর সড়ক-বাড়িতে পানি জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা চিত্র তাদের নিত্য সঙ্গী।

নগরীর কোতয়ালি থানা সংলগ্ন এলাকার মর্জিনা বেগম ও শামসুল হোসেন। তারা জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এমনিতেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকে, তার ওপর বৃষ্টি হলে হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

তবে রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নগরীর সব সড়ক সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণকাজ চলছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।

অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রংপুর নগরীর ৩০ পাড়া-মহল্লা

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রংপুর
অবিরাম বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।

অবিরাম বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। নগরীর অনেক সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চল ও বর্ধিত এলাকাসহ কমপক্ষে ৩০টি পাড়া-মহল্লার সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেকের বাসা-বাড়িতে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

এছাড়া নগরীর গুরুত্বপুর্ণ সড়ক জাহাজ কোম্পানি থেকে শাপলা চত্বর, কোরনীপাড়া সড়ক, শাপলা-টার্মিনাল সড়ক, বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে ধাপ বাজার সড়কসহ প্রায় ১৫টি সড়কের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে পানি জমে থাকছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালকসহ পথচারীরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার কাছনা হাজিপাড়া গ্রামে সরুজ আলী নামের শিক্ষার্থী ও গঙ্গাচড়া উপজেলার চর চিলাখাল গ্রামে মশিউর রহমান নামে এক কৃষক মারা গেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অবিরাম বৃষ্টির কারণে নগরীর মুলাটোল, কোতয়ালি থানা সংলগ্ন সড়ক, মুলাটোল, বাবুখা, নিউ জুম্মাপাড়া, আলমনগর, দর্শনা, কলেজপাড়া, হাবিব নগর, মর্ডান মোড় সংলগ্ন এলাকা, চকবাজার ঈদগাহপাড়া, মাহিগঞ্জ, খাসবাগ, বালাটারি, মনো গোপালসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া নগরীর বর্ধিত এলাকার তামপাট, হোসেন নগর, মেকুড়া, পানবাড়ি, মোগলেরবাগ, দমদমা, শেখপাড়া, বনগ্রাম, মানজাই, বড়বাড়ি , দামোদরপুর, উত্তম, কোবারু, চব্বিশ হাজারি, বাহার কাছনা, গুলার বুদাই, ময়নাকুটিসহ বিভিন্ন সড়কে পানি উঠেছে। ৩০টির বেশি পাড়া-মহল্লা তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নগরীর নিউ জুম্মাপাড়ার আজিজুল হক ও জয়নব বিবি জানান, এলাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই।

তামপাট হোসেন নগর এলাকার হারুন-উর রশিদ সোহেল ও মিজানুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, সিটি কর্পোরেশনের শেষ প্রান্তের মহল্লা হোসেন নগর। এই মহল্লাবাসী সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একই রকম অভিযোগ প্রায় ২০টি মহল্লাবাসীর। সিটির কোনো সুফল পাননি এখানকার মানুষ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হোসেননগর বাজারসহ বগুড়াপাড়া, হিন্দুপাড়া, মাঠের পাড়া, মেকুড়া, বসুনিয়াপাড়া, নতুন মুসলিমপাড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোর সড়ক-বাড়িতে পানি জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা চিত্র তাদের নিত্য সঙ্গী।

নগরীর কোতয়ালি থানা সংলগ্ন এলাকার মর্জিনা বেগম ও শামসুল হোসেন। তারা জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এমনিতেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকে, তার ওপর বৃষ্টি হলে হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

তবে রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নগরীর সব সড়ক সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণকাজ চলছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন