চা বাগানে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লব
jugantor
চা বাগানে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লব

  রোকন উদ্দিন লস্কর, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:০০:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চা বাগানে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লবের সুচনা হয়েছে।

প্রতি বছর বাগানে কোটি টাকার রাসায়নিক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা যেত না। চা বাগানে ১০-৫০ ভাগ পাতা উৎপাদন কম হতো।

কিন্তু সমন্বিত জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে লস্করপুর ভ্যালির সুরমা চা বাগান এখন ৯০ ভাগ রোগমুক্ত।

দুই বছর আগেও সুরমা চা বাগানে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করে কোনো ফল পাওয়া যেত না। এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছিল সুরমা চা বাগান কর্তৃপক্ষ। সিলেটের মির্জাপুর ইস্পাহানি চা বাগানের জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ফল দেখে এ বছর শুরুতেই সুরমা চা বাগানে এর প্রয়োগ পদ্ধতি শুরু করে। এতে চা বাগানে বিরাট সাফল্য এসেছে।

লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি সুরমা চা বাগানের বাসিন্দা রবীন্দ্র গৌড় বলেন, লস্করপুর ভ্যালির মধ্যে অনেক চা বাগান এ বছর বিভিন্ন মৌসুমি পোকার আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপদন কমে গেছে অনেক। কিন্তু সুরমা চা বাগান একটি ব্যতিক্রম।

জৈব বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে সুরমা চা বাগানের প্রতিটি সেকশন সবুজে ভরে গেছে। এ পদ্ধতি প্রতিটি চা বাগানে প্রয়োগ করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি খরচ কমে চায়ের বাজারে লাভের সৃষ্টি হবে।

সুরমা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মিরন হোসেন জানান, জৈব বালাইনাশক পদ্ধতির ফলে সুরমা চা বাগানের উৎপাদনে নতুন বিল্পবের সৃষ্টি হয়েছে। এখন চা বাগান রোগমুক্ত। চা বাগানে মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন পোকার উপদ্রব দেখা দিত, তখন পোকা দমন করতে চা বাগানে কোটি টাকার উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করা হতো। ফলে উপকারী পোকাসহ চা বাগানের অনেক ক্ষতি হতো।

কিন্তু জৈব বালাইনাশক পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে পোকা শনাক্ত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ করায় উপকারী পোকার কোনো ক্ষতি হয়নি। উপকারী পোকা দিয়ে পোকা দমন করা যাচ্ছে। রাসায়নিক বিষ প্রয়োগের কারণে কচি চা পাতার উৎপাদন বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও সহায়ক ছিল না। জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি হলো নিমপাতাসহ বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে তৈরি ওষুধ।

সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম জানান, ২-৩ বছর আগে পোকার আক্রমণে চা বাগান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পদ্ধতির ফলে সুরমা চা বাগান এখন রোগমুক্ত। ফলে প্রায় এক কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ।

চায়ের গুণগত মান বেড়েছে এবং মানব দেহের জন্য স্বাস্থ্যকর। বাংলাদেশের সব চা বাগান কর্তৃপক্ষ এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশে চায়ের বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, ৪-৫ মাস আগে করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় চা বাগানে চায়ের বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল।

তবে চা বাগান রোগমুক্ত হওয়ায় চায়ের উৎপাদন ও গুণগুত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ক্ষতি পুষিয়ে এখন ভালো দরে সুরমা চা বাগানের চা পাতা নিলামে বিক্রি হচ্ছে।

চা বাগানে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লব

 রোকন উদ্দিন লস্কর, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চা বাগানে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লবের সুচনা হয়েছে।

প্রতি বছর বাগানে কোটি টাকার রাসায়নিক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা যেত না। চা বাগানে ১০-৫০ ভাগ পাতা উৎপাদন কম হতো।

কিন্তু সমন্বিত জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে লস্করপুর ভ্যালির সুরমা চা বাগান এখন ৯০ ভাগ রোগমুক্ত।

দুই বছর আগেও সুরমা চা বাগানে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করে কোনো ফল পাওয়া যেত না। এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছিল সুরমা চা বাগান কর্তৃপক্ষ। সিলেটের মির্জাপুর ইস্পাহানি চা বাগানের জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ফল দেখে এ বছর শুরুতেই সুরমা চা বাগানে এর প্রয়োগ পদ্ধতি শুরু করে। এতে চা বাগানে বিরাট সাফল্য এসেছে।

লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি সুরমা চা বাগানের বাসিন্দা রবীন্দ্র গৌড় বলেন, লস্করপুর ভ্যালির মধ্যে অনেক চা বাগান এ বছর বিভিন্ন মৌসুমি পোকার আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপদন কমে গেছে অনেক। কিন্তু সুরমা চা বাগান একটি ব্যতিক্রম।

জৈব বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে সুরমা চা বাগানের প্রতিটি সেকশন সবুজে ভরে গেছে। এ পদ্ধতি প্রতিটি চা বাগানে প্রয়োগ করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি খরচ কমে চায়ের বাজারে লাভের সৃষ্টি হবে।

সুরমা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মিরন হোসেন জানান, জৈব বালাইনাশক পদ্ধতির ফলে সুরমা চা বাগানের উৎপাদনে নতুন বিল্পবের সৃষ্টি হয়েছে। এখন চা বাগান রোগমুক্ত। চা বাগানে মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন পোকার উপদ্রব দেখা দিত, তখন পোকা দমন করতে চা বাগানে কোটি টাকার উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করা হতো। ফলে উপকারী পোকাসহ চা বাগানের অনেক ক্ষতি হতো।

কিন্তু জৈব বালাইনাশক পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে পোকা শনাক্ত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ করায় উপকারী পোকার কোনো ক্ষতি হয়নি। উপকারী পোকা দিয়ে পোকা দমন করা যাচ্ছে। রাসায়নিক বিষ প্রয়োগের কারণে কচি চা পাতার উৎপাদন বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও সহায়ক ছিল না। জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি হলো নিমপাতাসহ বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে তৈরি ওষুধ।

সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম জানান, ২-৩ বছর আগে পোকার আক্রমণে চা বাগান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পদ্ধতির ফলে সুরমা চা বাগান এখন রোগমুক্ত। ফলে প্রায় এক কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ।

চায়ের গুণগত মান বেড়েছে এবং মানব দেহের জন্য স্বাস্থ্যকর। বাংলাদেশের সব চা বাগান কর্তৃপক্ষ এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশে চায়ের বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, ৪-৫ মাস আগে করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় চা বাগানে চায়ের বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল।

তবে চা বাগান রোগমুক্ত হওয়ায় চায়ের উৎপাদন ও গুণগুত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ক্ষতি পুষিয়ে এখন ভালো দরে সুরমা চা বাগানের চা পাতা নিলামে বিক্রি হচ্ছে। 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন