মাকে মারধরের পর বড়ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা!
jugantor
মাকে মারধরের পর বড়ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা!

  গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫৫:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

নাটোর

মা মরিয়ম বেগমকে মারপিটের পর শফিকুল ইসলাম ফকিরকে (৪৭) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে তারই আপন ছোটভাই রফিক ও পাশ্ববর্তী রবিউল মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দুইজনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ দেয়ায় শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত রফিক ও তার সহযোগী রবিউল মোল্লা ধারালো অস্ত্র নিয়ে শফিকুলের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে শফিকুল তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী উত্তরপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। ভুক্তভোগী শফিকুল ও অভিযুক্ত রফিক ফকির মৃত ইয়াকুব ফকিরের ছেলে। রফিকের সহযোগী রবিউল মোল্লা একই গ্রামের মৃত রুপচাঁদ মোল্লার ছেলে। রফিক পেশায় রাজমিস্ত্রি ও রবিউল কৃষক।

স্থানীয়রা জানান, মা মরিয়ম বেগমকে মাঝে মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মারপিট করে। এ ঘটনায় অসহায় মা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত রফিক ফকিরকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়ানো হয়।

ভুক্তভোগী শফিকুল জানান, তিনি ভ্যান চালিয়ে দিনাতিপাত করেন। অসহায় মাকে সহায়তা করার জন্য ছোটভাই রফিক তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

তার বাড়িতে কয়েক দফা হামলাও চালিয়েছে রফিক ও প্রতিবেশী রবিউল মোল্লা। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইয়াবা বহনের সত্যতা নিশ্চিতে পুলিশ আচমকা তার দেহ তল্লাশি করে; তবে তল্লাশি করেও পুলিশ কিছু পায়নি।

তিনি বলেন, সবশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জীবিকার বাহন ভ্যানটি রেখে তিনি পাশের দোকানে চা পান করছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখেন ভ্যানের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন অভিযুক্ত রফিক ও রবিউল। রফিক ভ্যানের ঝুড়ির মধ্যে একটা কিছু রাখেন দেখে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের শরণাপন্ন হন। পরে ভ্যানের ঝুড়ির ভেতর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা পেলে রফিক ও রবিউলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় এখন তিনি এলাকা ছাড়া রয়েছেন।

রোববার সকালে সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানান, রফিক তার ভাবিকে যৌন হয়রানি করেন, তার ছোট ভাইয়ের পর পর তিনটি বউকে যৌন হয়রানি করলে তারা চলে যান বাবার বাড়ি। সর্বশেষ চাঁচকৈড় এলাকার একটি মেয়েকে বিয়ে করলে তিন দিনের মাথায় তাকে যৌন হয়রানি করলে সে চলে গেলেও থানায় সালিশে জরিমানা দিয়ে অভিযুক্ত ছাড়া পায়। তাছাড়া তিনি এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে থাকেন বলে এলাকাবাসী জানান।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এমএ মুনসুর রহমান মিন্টু বলেন, ভ্যানচালক শফিকুলের আকুতিতে তিনি গুরুদাসপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে ভ্যানটি তল্লাশি করেন। ভ্যানে ২ পিচ ইয়াবা ও গাঁজা পাওয়া যায়। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা ইয়াবা থানায় জমা দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শফিকুল রাতেই লিখিত অভিযোগ দেন।

রফিকের মা মরিয়ম বেগম বলেন, মেজো ছেলে রফিক তাকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। সম্প্রতি তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে বড় ছেলে শফিকুলের সহযোগিতায় থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাকে মারধরের পর বড়ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা!

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নাটোর
নাটোর

মা মরিয়ম বেগমকে মারপিটের পর শফিকুল ইসলাম ফকিরকে (৪৭) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে তারই আপন ছোটভাই রফিক ও পাশ্ববর্তী রবিউল মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দুইজনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ দেয়ায় শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত রফিক ও তার সহযোগী রবিউল মোল্লা ধারালো অস্ত্র নিয়ে শফিকুলের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে শফিকুল তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী উত্তরপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। ভুক্তভোগী শফিকুল ও অভিযুক্ত রফিক ফকির মৃত ইয়াকুব ফকিরের ছেলে। রফিকের সহযোগী রবিউল মোল্লা একই গ্রামের মৃত রুপচাঁদ মোল্লার ছেলে। রফিক পেশায় রাজমিস্ত্রি ও রবিউল কৃষক।

স্থানীয়রা জানান, মা মরিয়ম বেগমকে মাঝে মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মারপিট করে। এ ঘটনায় অসহায় মা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত রফিক ফকিরকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়ানো হয়। 

ভুক্তভোগী শফিকুল জানান, তিনি ভ্যান চালিয়ে দিনাতিপাত করেন। অসহায় মাকে সহায়তা করার জন্য ছোটভাই রফিক তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। 

তার বাড়িতে কয়েক দফা হামলাও চালিয়েছে রফিক ও প্রতিবেশী রবিউল মোল্লা। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইয়াবা বহনের সত্যতা নিশ্চিতে পুলিশ আচমকা তার দেহ তল্লাশি করে; তবে তল্লাশি করেও পুলিশ কিছু পায়নি।

তিনি বলেন, সবশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জীবিকার বাহন ভ্যানটি রেখে তিনি পাশের দোকানে চা পান করছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখেন ভ্যানের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন অভিযুক্ত রফিক ও রবিউল। রফিক ভ্যানের ঝুড়ির মধ্যে একটা কিছু রাখেন দেখে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের শরণাপন্ন হন। পরে ভ্যানের ঝুড়ির ভেতর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা পেলে রফিক ও রবিউলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। 

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় এখন তিনি এলাকা ছাড়া রয়েছেন।

রোববার সকালে সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানান, রফিক তার ভাবিকে যৌন হয়রানি করেন, তার ছোট ভাইয়ের পর পর তিনটি বউকে যৌন হয়রানি করলে তারা চলে যান বাবার বাড়ি। সর্বশেষ চাঁচকৈড় এলাকার একটি মেয়েকে বিয়ে করলে তিন দিনের মাথায় তাকে যৌন হয়রানি করলে সে চলে গেলেও থানায় সালিশে জরিমানা দিয়ে অভিযুক্ত ছাড়া পায়। তাছাড়া তিনি এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে থাকেন বলে এলাকাবাসী জানান। 

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এমএ মুনসুর রহমান মিন্টু বলেন, ভ্যানচালক শফিকুলের আকুতিতে তিনি গুরুদাসপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে ভ্যানটি তল্লাশি করেন। ভ্যানে ২ পিচ ইয়াবা ও গাঁজা পাওয়া যায়। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা ইয়াবা থানায় জমা দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শফিকুল রাতেই লিখিত অভিযোগ দেন। 

রফিকের মা মরিয়ম বেগম বলেন, মেজো ছেলে রফিক তাকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। সম্প্রতি তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে বড় ছেলে শফিকুলের সহযোগিতায় থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। 

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন