যুগান্তরের রংপুর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টা
jugantor
যুগান্তরের রংপুর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টা

  রংপুর ব্যুরো  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৩:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নামে প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার গাছ মাত্র ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গাছ নিলামের মাধ্যমে যে ব্যক্তি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল তার সশস্ত্র বাহিনী যুগান্তর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুরের সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে রংপুর গণপূর্ত বিভাগ। এজন্য স্থান নির্ধারণ করা হয় কলেজ ক্যাম্পাসের ইন্টার্ন হোস্টেল সংলগ্ন একটি বাগান ও মাঠ। ওই বাগানের ১১ প্রজাতির ২৬টি বিভিন্ন বয়সী জীবন্ত গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এজন্য গোপনে গাছ নিলামকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও গণপূর্ত বিভাগের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ নামমাত্র মূল্যে নিলামের মাধ্যমে ২৬টি গাছ বিক্রি করে দেয়। নিলামে ওই গাছ ক্রয় করেন কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এক ছেলে। তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের কোনো গাছ কর্তন করতে হলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরিচালক সভাপতি হিসেবে কমিটির প্রধান হবেন। সদস্য সচিব হবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভাগীয় বন বিভাগের প্রতিনিধি, সিএমএমইউয়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য। মোট পাঁচ সদস্যের কমিটি সভা করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করার পর প্রকাশে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য গোপনে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের দিয়ে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে নামমাত্র মূল্য নির্ধারণ করে তা নিলামের নামে বিক্রি করে দেয়।

এরপর গত দুই দিন ধরে ওই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছিল নিলামে গাছ ক্রয়কারী ব্যক্তির লোকজন। এ ঘটনার খবর পেয়ে যুগান্তর রংপুর ব্যুরোপ্রধান মাহবুব রহমান রোববার দুপুরে ওই খবরের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে যান কলেজ ক্যাম্পাসে। এরপর তিনি কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম নুরুন্নবী লাইজুর কাছে এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তার কক্ষ থেকে বের হলে অফিসের করিডরে অপেক্ষমাণ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে হুমকির মুখে সেখান থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে তিনি খুদে বার্তা পাঠিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

পরে পুলিশ ও সাংবাদিকরা গিয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আনেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারি বিধি অনুযায়ী জীবন্ত গাছগুলো কেটে ফেলার জন্য নিলাম করা হয়নি। পূর্বের নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

কবে নিলাম করা হল, কারা অংশগ্রহণ করেছেন- এসব বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে পারেননি।

বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জানান, গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের পত্র দিয়েছিল গত মাসের ৫ তারিখ। পরে মূল্য নির্ধারণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষকে ২৭ আগস্ট অবিহিত করে পত্র দেয়া হয়। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে তারা কোনো কিছুই জানায়নি।

ওই কর্মকর্তা জানান, সেখানে ১১ প্রজাতির ২৬টি গাছ আছে। এর মধ্যে মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, অর্জুন, আম, পিতরাজ, জামসহ নানা প্রকার গাছ রয়েছে।

যুগান্তর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন- রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রশীদ বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল মান্নান, রংপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আদর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জীবন, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত ভৌমিক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি সফিউল করিম সফি, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদ হোসেন লুসডি, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

যুগান্তরের রংপুর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টা

 রংপুর ব্যুরো 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নামে প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার গাছ মাত্র ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গাছ নিলামের মাধ্যমে যে ব্যক্তি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল তার সশস্ত্র বাহিনী যুগান্তর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুরের সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে রংপুর গণপূর্ত বিভাগ। এজন্য স্থান নির্ধারণ করা হয় কলেজ ক্যাম্পাসের ইন্টার্ন হোস্টেল সংলগ্ন একটি বাগান ও মাঠ। ওই বাগানের ১১ প্রজাতির ২৬টি বিভিন্ন বয়সী জীবন্ত গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এজন্য গোপনে গাছ নিলামকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও গণপূর্ত বিভাগের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ নামমাত্র মূল্যে নিলামের মাধ্যমে ২৬টি গাছ বিক্রি করে দেয়। নিলামে ওই গাছ ক্রয় করেন কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এক ছেলে। তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের কোনো গাছ কর্তন করতে হলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরিচালক সভাপতি হিসেবে কমিটির প্রধান হবেন। সদস্য সচিব হবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভাগীয় বন বিভাগের প্রতিনিধি, সিএমএমইউয়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য। মোট পাঁচ সদস্যের কমিটি সভা করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করার পর প্রকাশে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য গোপনে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের দিয়ে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে নামমাত্র মূল্য নির্ধারণ করে তা নিলামের নামে বিক্রি করে দেয়।

এরপর গত দুই দিন ধরে ওই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছিল নিলামে গাছ ক্রয়কারী ব্যক্তির লোকজন। এ ঘটনার খবর পেয়ে যুগান্তর রংপুর ব্যুরোপ্রধান মাহবুব রহমান রোববার দুপুরে ওই খবরের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে যান কলেজ ক্যাম্পাসে। এরপর তিনি কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম নুরুন্নবী লাইজুর কাছে এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তার কক্ষ থেকে বের হলে অফিসের করিডরে অপেক্ষমাণ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে হুমকির মুখে সেখান থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে তিনি খুদে বার্তা পাঠিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

পরে পুলিশ ও সাংবাদিকরা গিয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আনেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারি বিধি অনুযায়ী জীবন্ত গাছগুলো কেটে ফেলার জন্য নিলাম করা হয়নি। পূর্বের নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

কবে নিলাম করা হল, কারা অংশগ্রহণ করেছেন- এসব বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে পারেননি।

বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জানান, গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের পত্র দিয়েছিল গত মাসের ৫ তারিখ। পরে মূল্য নির্ধারণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষকে ২৭ আগস্ট অবিহিত করে পত্র দেয়া হয়। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে তারা কোনো কিছুই জানায়নি।

ওই কর্মকর্তা জানান, সেখানে ১১ প্রজাতির ২৬টি গাছ আছে। এর মধ্যে মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, অর্জুন, আম, পিতরাজ, জামসহ নানা প্রকার গাছ রয়েছে।

যুগান্তর ব্যুরোপ্রধানকে অপহরণের চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন- রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রশীদ বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল মান্নান, রংপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আদর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জীবন, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত ভৌমিক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি সফিউল করিম সফি, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদ হোসেন লুসডি, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন