ভিক্ষার টাকা জমা রাখার নামে আত্মসাৎ
jugantor
ভিক্ষার টাকা জমা রাখার নামে আত্মসাৎ

  আবু তালেব, হাটহাজারী  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৩১:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

মৃত মুন্সি মিয়ার স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব লায়লা বেগম।

বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে- বাংলা সাহিত্যে পল্লীকবি জসীমউদদীনের অনবদ্য সৃষ্টি ‘আসমানী’ কবিতা।

ওই কবিতার রসুলপুরের আসমানীর ভেন্না পাতার ছানি দিয়ে একটি নড়বড় ঘর থাকলেও হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকার মৃত মুন্সি মিয়ার স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব লায়লা বেগমের তাও নেই।

প্রায় ২০ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর তিনি একমাত্র কন্যাকে নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। এরই মধ্যে ধার-কর্জ করে তার কন্যাকে এক অটোরিক্শাচালকের সাথে বিয়ে দেন। কন্যাকে পাত্রস্থ করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে ভিক্ষাবৃত্তি পেশাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। বাস্তুহারা লায়লা বর্তমানে উপজেলার ফতেয়াবাদ রেলস্টেশনের পশ্চিমে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সন্দ্বীপ কলোনিতে বসবাস করেন।

জানা গেছে, লায়লা তার প্রতিদিনের ভিক্ষাবৃত্তির ৩-৪শ' ও প্রতি মাসের বয়স্ক ভাতার টাকা ১ হাজার করে তার আপন বোনের মেয়েরাজু বেগমের কাছে সরল বিশ্বাসে জমা রাখতেন। ভিক্ষাবৃত্তির টাকা ছাড়াও বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া জাকাত-ফিতরার টাকাসহ এভাবে ৫ বছরে পাঁচ লাখ টাকা জমিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল এসব জমানো টাকা দিয়ে তিনি একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই তথা একটি বসতভিটা ক্রয় করবেন।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে লায়লা তার বোনের মেয়ের কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি বেধড়ক মারধরের শিকার হন। এ সময় তাকে (লায়লা) তার ভাগনিরছেলেরা (জাহেদ, রাশেদ ও রায়হান) লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করে। অভিযুক্ত রাজু বেগম একই উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকার মো. জাফরের স্ত্রী।

ওই সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে বৃদ্ধা লায়লা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার। তিনি জানান, এই অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ভিক্ষার টাকা জমা রাখার নামে আত্মসাৎ

 আবু তালেব, হাটহাজারী 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মৃত মুন্সি মিয়ার স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব লায়লা বেগম।
মৃত মুন্সি মিয়ার স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব লায়লা বেগম।

বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে- বাংলা সাহিত্যে পল্লীকবি জসীমউদদীনের অনবদ্য সৃষ্টি ‘আসমানী’ কবিতা।

ওই কবিতার রসুলপুরের আসমানীর ভেন্না পাতার ছানি দিয়ে একটি নড়বড় ঘর থাকলেও হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকার মৃত মুন্সি মিয়ার স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব লায়লা বেগমের তাও নেই।

প্রায় ২০ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর তিনি একমাত্র কন্যাকে নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। এরই মধ্যে ধার-কর্জ করে তার কন্যাকে এক অটোরিক্শাচালকের সাথে বিয়ে দেন। কন্যাকে পাত্রস্থ করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে ভিক্ষাবৃত্তি পেশাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। বাস্তুহারা লায়লা বর্তমানে উপজেলার ফতেয়াবাদ রেলস্টেশনের পশ্চিমে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সন্দ্বীপ কলোনিতে বসবাস করেন। 

জানা গেছে, লায়লা তার প্রতিদিনের ভিক্ষাবৃত্তির ৩-৪শ' ও প্রতি মাসের বয়স্ক ভাতার টাকা ১ হাজার করে তার আপন বোনের মেয়ে রাজু বেগমের কাছে সরল বিশ্বাসে জমা রাখতেন। ভিক্ষাবৃত্তির টাকা ছাড়াও বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া জাকাত-ফিতরার টাকাসহ এভাবে ৫ বছরে পাঁচ লাখ টাকা জমিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল এসব জমানো টাকা দিয়ে তিনি একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই তথা একটি বসতভিটা ক্রয় করবেন।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে লায়লা তার বোনের মেয়ের কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি বেধড়ক মারধরের শিকার হন। এ সময় তাকে (লায়লা) তার ভাগনির ছেলেরা (জাহেদ, রাশেদ ও রায়হান) লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করে। অভিযুক্ত রাজু বেগম একই উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকার মো. জাফরের স্ত্রী।

ওই সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে বৃদ্ধা লায়লা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার। তিনি জানান, এই অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন