ঢালাইয়ের সাত দিনেই উঠে গেল পিচ!
jugantor
ঢালাইয়ের সাত দিনেই উঠে গেল পিচ!

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১৮:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্মাণের সাত দিনের মাথায় উঠে গেছে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার পিচ। ২২ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র তিন কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে তা উঠে গেছে। এছাড়া অনেক স্থানে ফেটে গেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করায় এমনটি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী।

যদিও ঠিকাদারের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে অল্প কিছু অংশে রাস্তার কাজ করার কারণে এমন হয়েছে। তবে রাস্তা তৈরির তিন বছরের মধ্যে কোনো ক্ষতি হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা ঠিক করে দেবেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা মজবুতিসহ ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ নীমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করে। ৪ থেকে ৫ দিনে তিন কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করে। এরপর বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।

রাস্তার কাজ পান খুলনার মুজাহার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হাতবদল হয়ে রাস্তার কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম মিয়া। রাস্তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। টেন্ডার শেষে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজ শুরু হয় তিন বছর আগে। রাস্তা খোঁড়া এবং ইট-বালুর কাজ শেষ হয়েছে ছয় মাস আগেই। এরপর সম্প্রতি শুরু করেছে কার্পেটিংয়ের কাজ।
সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় মেরামত করবেন। বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে রাস্তার সমস্যা হয়েছে। তবে কাজ শুরু হলে আগে ওই কাজ করা হবে।

ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম মিয়া রাস্তার কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না দাবি করে জানান, যেখানে রাস্তা উঠে যাচ্ছে, সেখানে টিউবওয়েলের পানি যায়। যে কারণে এমন হয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে কাজ করায় ৩০০ মিটারের মতো রাস্তার সমস্যা হয়েছে। আমি লোক পাঠিয়েছি, সেখানকার কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তা পুনরায় করা হবে বলে জানান এই ঠিকাদার।

কালীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুহিঙ্গীর আলম তপন জানান, এক সপ্তাহ আগে রাস্তার কাজ শুরু করে কিন্তু গত দুই দিন আগে রাস্তায় ফাটল দেখা যায়। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ঢালাই দেয়া পিচ উঠতে থাকে। সড়ক নির্মাণের এ কাজ একদম নিম্নমানের।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় জানিয়ে খুদে বার্তা দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।

ঢালাইয়ের সাত দিনেই উঠে গেল পিচ!

 কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্মাণের সাত দিনের মাথায় উঠে গেছে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার পিচ। ২২ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র তিন কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে তা উঠে গেছে। এছাড়া অনেক স্থানে ফেটে গেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করায় এমনটি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী।

যদিও ঠিকাদারের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে অল্প কিছু অংশে রাস্তার কাজ করার কারণে এমন হয়েছে। তবে রাস্তা তৈরির তিন বছরের মধ্যে কোনো ক্ষতি হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা ঠিক করে দেবেন। 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা মজবুতিসহ ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ নীমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করে। ৪ থেকে ৫ দিনে তিন কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করে। এরপর বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।  

রাস্তার কাজ পান খুলনার মুজাহার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হাতবদল হয়ে রাস্তার কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম মিয়া। রাস্তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। টেন্ডার শেষে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজ শুরু হয় তিন বছর আগে। রাস্তা খোঁড়া এবং ইট-বালুর কাজ শেষ হয়েছে ছয় মাস আগেই। এরপর সম্প্রতি শুরু করেছে কার্পেটিংয়ের কাজ।
সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় মেরামত করবেন। বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে রাস্তার সমস্যা হয়েছে। তবে কাজ শুরু হলে আগে ওই কাজ করা হবে।

ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম মিয়া রাস্তার কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না দাবি করে জানান, যেখানে রাস্তা উঠে যাচ্ছে, সেখানে টিউবওয়েলের পানি যায়। যে কারণে এমন হয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে কাজ করায় ৩০০ মিটারের মতো রাস্তার সমস্যা হয়েছে। আমি লোক পাঠিয়েছি, সেখানকার কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তা পুনরায় করা হবে বলে জানান এই ঠিকাদার।

কালীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুহিঙ্গীর আলম তপন জানান, এক সপ্তাহ আগে রাস্তার কাজ শুরু করে কিন্তু গত দুই দিন আগে রাস্তায় ফাটল দেখা যায়। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ঢালাই দেয়া পিচ উঠতে থাকে। সড়ক নির্মাণের এ কাজ একদম নিম্নমানের।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় জানিয়ে খুদে বার্তা দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন