কচুরিপানার জটে দিশাহারা চলনবিলের কৃষক
jugantor
কচুরিপানার জটে দিশাহারা চলনবিলের কৃষক

  সাইফুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর)  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৪৩:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

কচুরিপানার জটে দিশাহারা চলনবিলের কৃষক

চলতি মৌসুমে কচুরিপানার জটে বোরো ধান ও সরিষা-গম চাষাবাদ নিয়ে চলনবিলের কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এবার চলন বিলজুড়ে স্মরণকালের কচুরিপানার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে নৌ চলাচল।

বিলের পানি দূষিত হওয়ায় সব বয়সী মানুষ চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর সময়মতো কচুরিপানা অপসারণ করা না গেলে চলতি বোরো মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষিসংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া বিলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সুতি ও বানার বাঁধ পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্তের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে চলনবিল। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

এদিকে হঠাৎ কচুরিপানার স্তূপ জমে রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি বিজড়িত নাগরনদে নৌ চলাচল বন্ধ ও তাজপুর ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে স্থানীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক তাজপুর ব্রিজের নিচ থেকে কচুরিপানা অপসারণে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ ও চলনবিলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিংড়া পৌরসভাসহ উপজেলার ডাহিয়া, ইতালি, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের আবাদী জমিতে এখন কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। প্রতি বছর এসব গ্রামে আমনসহ অন্য ফসল আবাদ করলেও এ বছর কচুরিপানার জন্য আমন আবাদ হয়নি।

তাই কচুরিপানা অপসারণ করতে গিয়ে বিল অঞ্চলের কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একবিঘা জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণ করতে ১০ থেকে ১৫ শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। আর এ কারণে অর্থ ব্যয় বেশি হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

এদিকে কচুরিপানার কারণে নৌযান বন্ধ হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিলপাড়ের মানুষদের। বেকার হয়ে পড়েছেন দিনমজুরসহ নৌচালকরা। পানি দূষিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ সব বয়সের মানুষ।

দমদমা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিলের পানি দূষিত হওয়ায় কচুরিপানা অপসারণের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আর যারা কাজ করছেন, তারাও অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন।

জোলারবাতা এলাকায় ১৩ একর জমি পরিষ্কার করতে শ্রমিকদের ২ লাখ টাকায় চুক্তি দিতে হয়েছে।

কয়রাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল মমিন বলেন, চলনবিলের কৃষকদের মধ্যে কচুরিপানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিলে ও নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সামনে বোরো আবাদে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দেশে উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ এই চলনবিল থেকে সরবরাহ করা হয়। কচুরিপানার জটে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া ঐতিহ্যবাহী বিল তার যৌবন হারাচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাজ্জাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে থাকে। কচুরিপানা দ্রুত বংশ বিস্তারের ফলে চলনবিলের কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কচুরিপানার জটে দিশাহারা চলনবিলের কৃষক

 সাইফুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কচুরিপানার জটে দিশাহারা চলনবিলের কৃষক
ছবি: যুগান্তর

চলতি মৌসুমে কচুরিপানার জটে বোরো ধান ও সরিষা-গম চাষাবাদ নিয়ে চলনবিলের কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এবার চলন বিলজুড়ে স্মরণকালের কচুরিপানার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে নৌ চলাচল।

বিলের পানি দূষিত হওয়ায় সব বয়সী মানুষ চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর সময়মতো কচুরিপানা অপসারণ করা না গেলে চলতি বোরো মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষিসংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া বিলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সুতি ও বানার বাঁধ পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্তের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে চলনবিল। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

এদিকে হঠাৎ কচুরিপানার স্তূপ জমে রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি বিজড়িত নাগরনদে নৌ চলাচল বন্ধ ও তাজপুর ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে স্থানীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক তাজপুর ব্রিজের নিচ থেকে কচুরিপানা অপসারণে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ ও চলনবিলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিংড়া পৌরসভাসহ উপজেলার ডাহিয়া, ইতালি, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের আবাদী জমিতে এখন কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। প্রতি বছর এসব গ্রামে আমনসহ অন্য ফসল আবাদ করলেও এ বছর কচুরিপানার জন্য আমন আবাদ হয়নি।

তাই কচুরিপানা অপসারণ করতে গিয়ে বিল অঞ্চলের কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একবিঘা জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণ করতে ১০ থেকে ১৫ শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। আর এ কারণে অর্থ ব্যয় বেশি হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

এদিকে কচুরিপানার কারণে নৌযান বন্ধ হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিলপাড়ের মানুষদের। বেকার হয়ে পড়েছেন দিনমজুরসহ নৌচালকরা। পানি দূষিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ সব বয়সের মানুষ।

দমদমা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিলের পানি দূষিত হওয়ায় কচুরিপানা অপসারণের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আর যারা কাজ করছেন, তারাও অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন।

জোলারবাতা এলাকায় ১৩ একর জমি পরিষ্কার করতে শ্রমিকদের ২ লাখ টাকায় চুক্তি দিতে হয়েছে।

কয়রাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল মমিন বলেন, চলনবিলের কৃষকদের মধ্যে কচুরিপানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিলে ও নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সামনে বোরো আবাদে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দেশে উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ এই চলনবিল থেকে সরবরাহ করা হয়। কচুরিপানার জটে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া ঐতিহ্যবাহী বিল তার যৌবন হারাচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাজ্জাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে থাকে। কচুরিপানা দ্রুত বংশ বিস্তারের ফলে চলনবিলের কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 
জেলার খবর