হতদরিদ্রদের ক্ষুদ্রঋণের টাকা লোপাট
jugantor
হতদরিদ্রদের ক্ষুদ্রঋণের টাকা লোপাট

  কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৩৯:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে হতদরিদ্রদের জন্য ক্ষুদ্রঋণের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সহকারী মুসা মিয়ার বিরুদ্ধে। সমিতির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে শাখা ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে তাদের নামে লাখ-লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সমিতির হতদরিদ্র একাধিক সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি ফকিরপাড়া গ্রাম সমিতির ৩৫ জন সদস্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ওই ব্যাংকের মাঠ সহকারী মুসা মিয়া সদস্যদের ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য প্রত্যেক সদস্যের বাড়িতে গিয়ে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নেন। করোনাকালে ব্যাংকের ওই মাঠ সহকারীর সঙ্গে সমিতির সদস্যদের দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না।

সম্প্রতি অপর এক মাঠ সহকারী এলাকায় গিয়ে সমিতির সদস্যদের কাছে ঋণের কিস্তির টাকা চান। ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন না করেও কিস্তির টাকা চাওয়ায় সদস্যদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে সদস্যরা ব্যাংকে এসে জানতে পারেন তাদের স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যেকের নামে সাত হাজার করে টাকা ঋণ উত্তোলন করেছেন। এভাবে দুরাকুটি ফকিরপাড়া গ্রাম সমিতির ৩৪ জন সদস্যর নামে ঋণ উত্তোলন করে দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মুসা মিয়া।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের জেলা দায়িত্বরত কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, নিতাই ইউনিয়নের ২৭টি ও বাহাগিলী ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম সমিতিতে ওই মাঠ সহকারী একই ঘটনা ঘটিয়েছে। সদস্যদের অজান্তে তাদের অনেকের নামে ঋণের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও কম্পিউটার অপারেটরের যোগসাজশ রয়েছে। এভাবে ব্যাংকের কত টাকা লোপাট করেছেন তা এখনও বলা যাচ্ছে না। সমিতিতে গিয়ে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওই ব্যাংকের অভিযুক্ত মাঠ সহকারী মুসা মিয়া বর্তমানে ঢাকার হেড অফিসে সংযুক্ত থাকায় ও মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক আবু হানিফ সরকার জানান, সমিতির সদস্যরা ঋণের টাকা না পাওয়ার বিষয়টি আমি এখানে যোগদানের আগে ঘটেছে। একাধিক সমিতির সদস্যদের মাঝে ওই মাঠ সহকারীর সময়ে ঋণ বিতরণের নামে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হতদরিদ্রদের ক্ষুদ্রঋণের টাকা লোপাট

 কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে হতদরিদ্রদের জন্য ক্ষুদ্রঋণের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সহকারী মুসা মিয়ার বিরুদ্ধে। সমিতির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে শাখা ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে তাদের নামে লাখ-লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সমিতির হতদরিদ্র একাধিক সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি ফকিরপাড়া গ্রাম সমিতির ৩৫ জন সদস্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ওই ব্যাংকের মাঠ সহকারী মুসা মিয়া সদস্যদের ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য প্রত্যেক সদস্যের বাড়িতে গিয়ে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নেন। করোনাকালে ব্যাংকের ওই মাঠ সহকারীর সঙ্গে সমিতির সদস্যদের দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না।

সম্প্রতি অপর এক মাঠ সহকারী এলাকায় গিয়ে সমিতির সদস্যদের কাছে ঋণের কিস্তির টাকা চান। ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন না করেও কিস্তির টাকা চাওয়ায় সদস্যদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে সদস্যরা ব্যাংকে এসে জানতে পারেন তাদের স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যেকের নামে সাত হাজার করে টাকা ঋণ উত্তোলন করেছেন। এভাবে দুরাকুটি ফকিরপাড়া গ্রাম সমিতির ৩৪ জন সদস্যর নামে ঋণ উত্তোলন করে দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মুসা মিয়া।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের জেলা দায়িত্বরত কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, নিতাই ইউনিয়নের ২৭টি ও বাহাগিলী ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম সমিতিতে ওই মাঠ সহকারী একই ঘটনা ঘটিয়েছে। সদস্যদের অজান্তে তাদের অনেকের নামে ঋণের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও কম্পিউটার অপারেটরের যোগসাজশ রয়েছে। এভাবে ব্যাংকের কত টাকা লোপাট করেছেন তা এখনও বলা যাচ্ছে না। সমিতিতে গিয়ে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওই ব্যাংকের অভিযুক্ত মাঠ সহকারী মুসা মিয়া বর্তমানে ঢাকার হেড অফিসে সংযুক্ত থাকায় ও মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক আবু হানিফ সরকার জানান, সমিতির সদস্যরা ঋণের টাকা না পাওয়ার বিষয়টি আমি এখানে যোগদানের আগে ঘটেছে। একাধিক সমিতির সদস্যদের মাঝে ওই মাঠ সহকারীর সময়ে ঋণ বিতরণের নামে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন