বগুড়ায় বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ
jugantor
বগুড়ায় বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ

  বগুড়া ব্যুরো  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৫:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নবাববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, পদবঞ্চিতরা সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছিল। তবে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তারা সফল হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের যৌথ প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং উপজেলা কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়করা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সভাপতিত্ব করছিলেন। সভায় জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির সব আহবায়ক কমিটির মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। সভা চলাকালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি নিয়ে কথা বলতে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কারাবন্দি বিএনপি নেতা এমআর ইসলাম স্বাধীনের ১০-১৫ জন সমর্থক জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

তারা কমিটি নিয়ে কথা বলতে চাইলে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে অফিসের মধ্যে হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুর শুরু হয়। একপর্যায় তাদের ধাওয়া দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় বহিরাগতদের ওপর লাঠিশোটা নিয়ে হামলা করে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, বিএনপি নেতা এমআর ইসলাম স্বাধীন জেলে থাকায় তার পক্ষে কাউকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। বিএনপি নেতা মীর শাহে আলম একতরফাভাবে শিবগঞ্জ উপজেলা কমিটি নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে স্বাধীন সমর্থকরা হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুর করেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, শুধু শিবগঞ্জ নয়, সব কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বহিরাগত লোকজন শিবগঞ্জের কমিটি নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে হট্টগোল করার চেষ্টা করেছিল।

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছু যুবক বিএনপি অফিসে হট্টগোল করে। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে তাদের যৌথসভা চলছিল। সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলা কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়করা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে হঠাৎ করে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারের পক্ষে তার ছোটভাই শান্ত ও টোকাই শ্রেণীর লোকজন তাদের সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পদবঞ্চিত ও বিতাড়িতরা ষড়যন্ত্র করে তাদের যৌথ প্রতিনিধি সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছিল।

সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন- সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চাঁন, লাভলী রহমান, মাহবুবুর রহমান বকুল, আহসানুল তৈয়ব জাকির, ডা. মামুনুর রশীদ মিঠু, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, তৌহিদুল আলম মামুন প্রমুখ।

বগুড়ায় বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ

 বগুড়া ব্যুরো 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নবাববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, পদবঞ্চিতরা সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছিল। তবে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তারা সফল হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের যৌথ প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং উপজেলা কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়করা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সভাপতিত্ব করছিলেন। সভায় জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির সব আহবায়ক কমিটির মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। সভা চলাকালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি নিয়ে কথা বলতে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কারাবন্দি বিএনপি নেতা এমআর ইসলাম স্বাধীনের ১০-১৫ জন সমর্থক জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। 

তারা কমিটি নিয়ে কথা বলতে চাইলে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে অফিসের মধ্যে হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুর শুরু হয়। একপর্যায় তাদের ধাওয়া দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় বহিরাগতদের ওপর লাঠিশোটা নিয়ে হামলা করে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, বিএনপি নেতা এমআর  ইসলাম স্বাধীন জেলে থাকায় তার পক্ষে কাউকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। বিএনপি নেতা মীর শাহে আলম একতরফাভাবে শিবগঞ্জ উপজেলা কমিটি নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে স্বাধীন সমর্থকরা হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুর করেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, শুধু শিবগঞ্জ নয়, সব কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বহিরাগত লোকজন শিবগঞ্জের কমিটি নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে হট্টগোল করার চেষ্টা করেছিল।

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছু যুবক বিএনপি অফিসে হট্টগোল করে। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে তাদের যৌথসভা চলছিল। সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলা কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়করা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে হঠাৎ করে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারের পক্ষে তার ছোটভাই শান্ত ও টোকাই শ্রেণীর লোকজন তাদের সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। 

তিনি আরও  বলেন, পদবঞ্চিত ও বিতাড়িতরা ষড়যন্ত্র করে তাদের যৌথ প্রতিনিধি সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছিল।

সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন- সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চাঁন, লাভলী রহমান, মাহবুবুর রহমান বকুল, আহসানুল তৈয়ব জাকির, ডা. মামুনুর রশীদ মিঠু, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, তৌহিদুল আলম মামুন প্রমুখ।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন