বীরাঙ্গনা খেতাব নিতে গিয়ে বহিষ্কার হলেন আ’লীগ নেত্রী 
jugantor
বীরাঙ্গনা খেতাব নিতে গিয়ে বহিষ্কার হলেন আ’লীগ নেত্রী 

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩১:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে নিজেকে ’৭১-এর বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আছমা বিবি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

আছমা বিবি মিথ্যা তথ্য সম্বলিত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তার জন্মনিবন্ধনে ১২ বছর বাড়িয়ে দিয়ে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশত বছর পরে নিজেকে ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির পাশাপাশি সব বীরাঙ্গনাদের অসম্মানিত ও মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করায় জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আছমা বেগমকে তার পদ হতে এবং প্রাথমিক সদস্য পদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা মণ্ডল রীনা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে নেয়া এ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে তারা আরও জানান, আছমা বিবি সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রম, মুক্তিযুদ্ধ ও বীরাঙ্গনাদের অসম্মানিত করায় কেন্দ্রের নির্দেশক্রমে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নিজেকে ’৭১-এর বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য আছমা বিবি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।

প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সময় আছমা বিবির বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর ৩ মাস। সে অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ পাওয়া গেছে ১৯৬২ সালের ২০ ডিসেম্বর। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিজেকে ২০ বছরের তরুণী দাবি করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার খেতাবের জন্য আবেদন করেন।

তার দলীয় প্রভাব ও দাপটের কারণে বীরাঙ্গনা হিসেবে সরকারিভাবে উপজেলার নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিও তার পক্ষে গেজেটভুক্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে জামুকা জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসন বরাবর তার বিভিন্ন কাগজপত্র নিরীক্ষার জন্য প্রেরণ করলে বিষয়টি জয়পুরহাটের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের নজরে আসে।

আওয়ামী লীগ নেত্রী আছমা বিবির বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তার পক্ষে ভুয়া জন্মনিন্ধন সনদ, ভুয়া শিক্ষাগত সার্টিফিকেট তৈরি ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জাল করে প্রেরণ ও সুপারিশ করে তাকে ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’ বানানোর অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বরের দৈনিক যুগান্তরে জয়পুরহাটে আ’লীগ নেত্রী আসমার ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’র খেতাব লাভের জোর চেষ্টা চালানো সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

বীরাঙ্গনা খেতাব নিতে গিয়ে বহিষ্কার হলেন আ’লীগ নেত্রী 

 জয়পুরহাট প্রতিনিধি 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে নিজেকে ’৭১-এর বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আছমা বিবি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। 

আছমা বিবি মিথ্যা তথ্য সম্বলিত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তার জন্মনিবন্ধনে ১২ বছর বাড়িয়ে দিয়ে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশত বছর পরে নিজেকে ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির পাশাপাশি সব বীরাঙ্গনাদের অসম্মানিত ও মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করায় জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আছমা বেগমকে তার পদ হতে এবং প্রাথমিক সদস্য পদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা মণ্ডল রীনা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে নেয়া এ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে তারা আরও জানান, আছমা বিবি সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রম, মুক্তিযুদ্ধ ও বীরাঙ্গনাদের অসম্মানিত করায় কেন্দ্রের নির্দেশক্রমে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নিজেকে ’৭১-এর বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য আছমা বিবি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।

প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সময় আছমা বিবির বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর ৩ মাস। সে অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ পাওয়া গেছে ১৯৬২ সালের ২০ ডিসেম্বর। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিজেকে ২০ বছরের তরুণী দাবি করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার খেতাবের জন্য আবেদন করেন। 

তার দলীয় প্রভাব ও দাপটের কারণে বীরাঙ্গনা হিসেবে সরকারিভাবে উপজেলার নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিও তার পক্ষে গেজেটভুক্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে জামুকা জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসন বরাবর তার বিভিন্ন কাগজপত্র নিরীক্ষার জন্য প্রেরণ করলে বিষয়টি জয়পুরহাটের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের নজরে আসে।

আওয়ামী লীগ নেত্রী আছমা বিবির বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তার পক্ষে ভুয়া জন্মনিন্ধন সনদ, ভুয়া শিক্ষাগত সার্টিফিকেট তৈরি ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জাল করে প্রেরণ ও সুপারিশ করে তাকে ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’ বানানোর অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বরের দৈনিক যুগান্তরে জয়পুরহাটে আ’লীগ নেত্রী আসমার ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা’র খেতাব লাভের জোর চেষ্টা চালানো সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন