দিনাজপুরে চালের বাজারে অস্থিরতা
jugantor
দিনাজপুরে চালের বাজারে অস্থিরতা

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩৫:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ধানের জেলা দিনাজপুরে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকারও বেশি। আর প্রকারভেদে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা।

চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিল-মালিকরা হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেয়ায় বেড়েছে এই দাম। তবে মিল-মালিকরা বলছেন, ধানের সংকট ও বাজারে ধানের দাম অনুযায়ী উৎপাদন খরচের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে চালের দাম।

দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার শহরের বাহাদুরবাজারে বুধবার দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, বিআর-২৯ চাল ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা এবং গুটি স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুধু খুচরা বাজারে নয়, বস্তাপ্রতিও বেড়েছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা, বিআর-২৯ জাতের চাল ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রতি বস্তা গুটি স্বর্ণা চাল ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম প্রকারভেদে বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা এবং বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকারও বেশি।

চাল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে মিল-মালিকরা চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়ায় চালের দাম বেড়েছে।

বাহাদুরবাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. লিয়াকত আলী জানান, মিল-মালিকরাই এখন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। মিল-মালিকদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনে বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের প্রায়ই বচসা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোসাদ্দেক হুসেন চালের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে জানান, ধানের দাম অনুসারে উৎপাদন খরচের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হয় চালের দাম। বর্তমানে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে দাম। আর এসবের কারণেই চালের দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যতটুকু প্রয়োজন সেই চাহিদা অনুযায়ী চাল আমদানি করা উচিত। এছাড়াও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনাজপুরের বিভিন্ন ধানের বাজারে খবর দিয়ে জানা যায়, বাজারে অস্বাভাবিক হারে কমেছে ধানের সরবরাহ। দিনাজপুরের অন্যতম বৃহৎ ধানের হাট সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ধানের হাটে যেখানে প্রতি হাটে ২ থেকে ৩ হাজার বস্তা ধান উঠত। সেখানে বর্তমানে ধান উঠছে ২০০ থেকে ৩০০ বস্তা। আর সরবরাহ কম থাকার কারণে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধানের দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।

ধান ক্রেতা বিভাকর বসাক জানান, ১৫ দিনের ব্যবধানে ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট ধান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৫০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের ধান ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রতি বস্তা সম্পা ধান ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি কৃষকদের ঘরে আর কোনো ধান নেই। এখন বাজারে ধান নিয়ে আসছেন বড় কৃষকরা। এজন্যই বাজারে ধানের সরবরাহ কমেছে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুরে চালের বাজারে অস্থিরতা

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ধানের জেলা দিনাজপুরে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকারও বেশি। আর প্রকারভেদে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা।

চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিল-মালিকরা হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেয়ায় বেড়েছে এই দাম। তবে মিল-মালিকরা বলছেন, ধানের সংকট ও বাজারে ধানের দাম অনুযায়ী উৎপাদন খরচের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে চালের দাম।

দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার শহরের বাহাদুরবাজারে বুধবার দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, বিআর-২৯ চাল ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা এবং গুটি স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুধু খুচরা বাজারে নয়, বস্তাপ্রতিও বেড়েছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা, বিআর-২৯ জাতের চাল ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রতি বস্তা গুটি স্বর্ণা চাল ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম প্রকারভেদে বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা এবং বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকারও বেশি।

চাল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে মিল-মালিকরা চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়ায় চালের দাম বেড়েছে।

বাহাদুরবাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. লিয়াকত আলী জানান, মিল-মালিকরাই এখন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। মিল-মালিকদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনে বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের প্রায়ই বচসা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোসাদ্দেক হুসেন চালের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে জানান, ধানের দাম অনুসারে উৎপাদন খরচের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হয় চালের দাম। বর্তমানে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে দাম। আর এসবের কারণেই চালের দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যতটুকু প্রয়োজন সেই চাহিদা অনুযায়ী চাল আমদানি করা উচিত। এছাড়াও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনাজপুরের বিভিন্ন ধানের বাজারে খবর দিয়ে জানা যায়, বাজারে অস্বাভাবিক হারে কমেছে ধানের সরবরাহ। দিনাজপুরের অন্যতম বৃহৎ ধানের হাট সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ধানের হাটে যেখানে প্রতি হাটে ২ থেকে ৩ হাজার বস্তা ধান উঠত। সেখানে বর্তমানে ধান উঠছে ২০০ থেকে ৩০০ বস্তা। আর সরবরাহ কম থাকার কারণে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধানের দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।

ধান ক্রেতা বিভাকর বসাক জানান, ১৫ দিনের ব্যবধানে ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট ধান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৫০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের ধান ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রতি বস্তা সম্পা ধান ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি কৃষকদের ঘরে আর কোনো ধান নেই। এখন বাজারে ধান নিয়ে আসছেন বড় কৃষকরা। এজন্যই বাজারে ধানের সরবরাহ কমেছে বলে জানান তিনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন