দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙন, ঝুঁকিতে ফেরিঘাট ও কয়েকশ' পরিবার
jugantor
দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙন, ঝুঁকিতে ফেরিঘাট ও কয়েকশ' পরিবার

  শামীম শেখ, গোয়ালন্দ থেকে  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪২:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাঙ্গন

তৃতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মা নদীতে আবারও তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ২০০ মিটার এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট। ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে ফেরিঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২ নম্বর থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের প্রায় ২০০ মিটার এলাকার কয়েক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বেশি। নদীপাড়ের ঢালজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেখানে পাড়ের ওপর কোনো ব্যাগ ফেলা হয়নি। পানি বেড়ে উপরে ওঠায় এখন সেখানে উপর থেকে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। ২ নম্বর ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কের মাথার অংশের অনেকটা ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে।

এখানে ভাঙন ঠেকাতে সড়কের মাথায় ইটের আদলাভর্তি বস্তা এবং বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা বিলীন হয়েছে। ঘাটের এক পাশে বড় বড় কার্গো জাহাজ হতে পণ্য নামাতে দেখা যায়। বলগেটগুলোর ঘর্ষণে তলদেশের জিওব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা সিদ্দিক কাজী, কামাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, গত বছর ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হলে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের কাছে এসে ঘর তোলেন। এ বছর এখানেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন কোথায় যাব তা ভেবে পাচ্ছি না। তাদের মতো এখানকার শতাধিক পরিবার এ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এবারও লঞ্চঘাট থেকে ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়ার প্রায় ৫০০ পরিবার এবং ২-৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার প্রায় ৩০০ পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। বিষয়টি রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মেরিন আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রতি বছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। জরুরিভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানো না হলে গত বছরের মতো এবারও ফেরিঘাট বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দীন পাঠান বলেন, বন্যার আগ পর্যন্ত লঞ্চঘাট থেকে ৬ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত তারা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২০০ মিটার এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙন, ঝুঁকিতে ফেরিঘাট ও কয়েকশ' পরিবার

 শামীম শেখ, গোয়ালন্দ থেকে 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভাঙ্গন
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ২০০ মিটার এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

তৃতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মা নদীতে আবারও তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ২০০ মিটার এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট। ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে ফেরিঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২ নম্বর থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের প্রায় ২০০ মিটার এলাকার কয়েক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বেশি। নদীপাড়ের ঢালজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেখানে পাড়ের ওপর কোনো ব্যাগ ফেলা হয়নি। পানি বেড়ে উপরে ওঠায় এখন সেখানে উপর থেকে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। ২ নম্বর ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কের মাথার অংশের অনেকটা ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে। 

এখানে ভাঙন ঠেকাতে সড়কের মাথায় ইটের আদলাভর্তি বস্তা এবং বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা বিলীন হয়েছে। ঘাটের এক পাশে বড় বড় কার্গো জাহাজ হতে পণ্য নামাতে দেখা যায়। বলগেটগুলোর ঘর্ষণে তলদেশের  জিওব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা সিদ্দিক কাজী, কামাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, গত বছর ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হলে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের কাছে এসে ঘর তোলেন। এ বছর এখানেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন কোথায় যাব তা ভেবে পাচ্ছি না। তাদের মতো এখানকার  শতাধিক পরিবার এ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এবারও লঞ্চঘাট থেকে ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়ার প্রায় ৫০০ পরিবার এবং ২-৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার প্রায় ৩০০ পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। বিষয়টি রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মেরিন আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রতি বছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। জরুরিভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানো না হলে গত বছরের মতো এবারও ফেরিঘাট বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দীন পাঠান বলেন, বন্যার আগ পর্যন্ত লঞ্চঘাট থেকে ৬ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত তারা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২০০ মিটার এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন